রোজাদারের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় তারাবিহ্

42

রমজান মাসের সাথে কোরআনের নিবিড় যুগসুত্র রয়েছে। হযরত জিব্রাঈল আলায়হিসসালাম এমাসের প্রতি রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করতেন এবং রাসুল তাকে কোরআন তেলাওয়াত শোনাতেন । যে বছর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন, সে বছর জিব্রাঈলকে তিনি দুবার কোরআন শুনিয়েছিলেন (বুখারি শরীফ) অর্থাৎ রাসুল পুরো রমজান মাসকেই কোরআনময় করে রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামও এমাসে অধিকহারে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। পরবর্তী আলেম ওলামা দ্বীনদার মুসলিমরাও এধারা অব্যাহত রাখেন। তারাবিহ নামাজ রোজাদার মুসলমানদের জন্য আল্লাহর অনন্য উপহার।
এ মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি রাতের বেলা নামাজে দাড়িয়ে কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা অত্যন্ত ফজিলতময় একটি আমল।
‘তারাবিহ্’ অর্থ স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করা। তারাবিহ্ নামাজের প্রতি চার রাকআত পর বিরতি দিয়ে (বসে) দোয়া পাঠ করার ফলে নামাজিদের একটু বিশ্রাম হয়। এতে এবাদতের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত ফজিলতময়। এ মাসের
প্রতিটি কর্ম সওয়াবের অন্তর্ভূক্ত। রহমতের মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের বারি বর্ষিত হয়। রোজার জন্য সাহ্রি গ্রহণ, রোজা শেষে ইফতারসহ প্রতিটি কাজ পূণ্যে ভরপুর। রোজাদার ব্যক্তির জন্য তারাবিহ্ অর্থাৎ নামাজে এশার সাথে ২০ রাকআত নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লালাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমজান তথা তারাবীহ’র নামাজ আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ সমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
এ নামাজ একাকী আদায় করা যায়, তবে উত্তম হচ্ছে জামাতের সাথে আদায় করা।
যেহেতু জামাতের সাথে আদায় করলে পূর্ণ এক খতম কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতেরও সওয়াব পাওয়া যায়। তাই খতমে কুরআনের মাধ্যমে তারাবিহ্ আদায় কতই না উত্তম। নামাজে তারাবিহ্র মধ্যে আল্লাহর পবিত্র বাণী কুরআন মাজিদের সুললিত কণ্ঠের তেলাওয়াত শ্রবণে সকল রোজাদারের সারাদিনের ক্লান্তি যেন ভুলিয়ে দেয়। তেলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজে তন্ময় হয়ে উঠে মুসল্লি সমাজ। তারাবিহ নামাজ আল্লাহর নৈকট্যলাভের একটি সমষ্টিগত ইবাদত। দীর্ঘ একমাস মুমিন মুসলমানরা একত্রিত হয়ে এ নামাজ আদায় করে। ফলে একে অপরের মধ্যে সম্প্রীতি এবং ভালবাসা ও হৃদ্যতার সৃষ্টি হয় ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তবে দুঃখের বিষয় অধুনা কোন কোন মহলে নামাজে তারাবিহ্ আদায় অর্থাৎ তারাবিহ ক’রাকআত এ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তারাবিহ্ নামাজ ২০ রাকআত এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সাহাবায়েকেরাম, তাবেয়ীন, তাবয়ে-তাবেয়ীন, আয়িম্মায়ে মুজতাহেদীন ও হক্কানী রব্বানী আউলিয়া কেরাম ২০ রাকাআত তারাবিহ্ পড়তেন।
২০ রাকাআত তারাবিহ্ প্রথমত হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত, তৃতীয়ত ইজমায়ে সাহাবা তথা সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্য দ্বারা প্রমাণিত। অতএব, যুগ যুগ ধরে প্রচলিত ২০ রাকআত তারাবিহ্ নামাজই সঠিক, এটার বিপরীত কোন বক্তব্য ঈমানদার মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তদুপরি হারামাঈন শরীফাইন তথা মক্কা শরীফ ও মদিনা শরীফে রমজানুল মুবারকের মাসে নামাজে তারাবিহ্ ২০ রাক্আত জামাত সহকারে আদায় করা হয়। অতএব যুগ যুগ ধরে চলে আসা নিয়মের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনভাবেই উচিৎ নয়। এরা মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে, সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।