রেফারি সমিতি কার্যালয়ে জুয়ার প্রমাণ মিলেছে

14

চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে জুয়ার আসর পরিচালনায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান মিরণসহ ্অ্যাসোসিয়েশয়নের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী সীমান্ত সেন গংয়ের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
গত ১ জুন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আকষ্মিক অভিযান চালিয়ে প্লেয়িং কার্ডসহ ১৯ জনকে আটক ও ৬ লক্ষাধিক টাকা জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের আলাদা একটি কক্ষে (চট্টগ্রাম ফুটবল ট্রেনিং একোডেমির অফিস) জুয়া খেলছিলেন তারা।
এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে তালা দিয়ে সিজেকেএস সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সিজেকেএস’র দুই সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম ও মশিউর রহমান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, নির্বাহী সদস্য আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, নাসির মিয়া ও দিদারুল আলম এবং কাউন্সিলর মহসিন কাজী ও আলী হাসান রাজু। কমিটি নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সংশ্লিষ্টদের সশরীরে হাজির করে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য, প্রশ্নোত্তর এবং এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেয়। কমিটি রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিরণসহ সাত কর্মকর্তার লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। বক্তব্য দেন এসোসিয়েশনের পিয়ন গোবিন্দ দাশও। পাশাপাশি জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী ব্যক্তিদেরও বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। তথ্যগুলো একত্র করে ব্যাপক যাচাই-বাছাই, বিচার বিশ্লেষণ শেষে নির্ধারিত সাতদিনের মাথায় গতকাল বুধবার সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। সাত পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি এ অনাকাঙ্কিত ঘটনায় নিজেদের পর্যবেক্ষণ, দায়ীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্রীড়া কর্মকান্ড সুষ্ঠূভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান হাফিজুর রহমান বলেন, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আব্দুল হান্নান মিরণ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সীমান্ত সেন নামে এক ব্যক্তির সাথে ৩০০ টাকার স্ট্যাস্পে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিৎ সাহা ও অনুপম বড়ুয়া অপু নামে সাবেক এক ফুটবল খেলোয়াড় সাক্ষী হিসেবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এজন্য তদন্ত কমিটি মিরণকে ক্রীড়া কর্মকান্ড থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন ও নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিৎ সাহাকে ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্য পদসহ সব পদ থেকে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সব কার্যক্রম থেকে যথাক্রমে তিন ও দুই বছর বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। দায়িত্বশীলতার পরিচয় রাখতে না পারায় সমিতির অন্য সদস্যদের তিরষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। জুয়া থেকে আয়কৃত টাকা আদায় করে অ্যাসোসিয়েশনের তহবিলে জমা করারও সুপারিশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফুটবল রেফারিজ এসোসিয়েশন থেকে প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল (যথাযথ ইউনিট পরীক্ষা নিরীক্ষা করে) আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সুপারিশ করা হয়। শুধু রেফারি সমিতির কর্মকর্তা নয়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী সীমান্ত সেন, তার ভাই কৃষ্ণ কমল সেন ও বিপুল বৈদ্যকে ১০ বছরের জন্য স্টেডিয়াম এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে কমিটি। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ স্টেডিয়াম এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় লোকজনের আনাগোনায় নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, অফিস কার্যক্রম পরিচালনার সময় নির্ধারণ করে তদারকির আওতায় নিয়ে আসা যায়। সিজেকেএস’র বিভিন্ন ক্রীড়া উপ-কমিটি তাদের স্ব-স্ব ইভেন্টের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, অন্যরা নয়। ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সাধারণ সদস্য, নির্বাহী এবং আজীবন সদস্য সিজেকেএস-সিডিএফএ এর সাথে সম্পৃক্ত কোন ক্লাবের সাথে যুক্ত থাকতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পর্যবেক্ষণও তারা দিয়েছে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন টিপুর আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয় খুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।