রূপগঞ্জের সেজান জুস কারখানায় আগুন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার হোক

6

 

৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সজিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫২ তাজাপ্রাণ দগ্ধ হয়েছে। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায়, উক্ত অগ্নিকান্ডে আহত হয়েছে ৫০জন এবং নিখোঁজ রয়েছে ৫১জন বলে স্বজনদের দাবি। দেশে সম্প্রতি এমন দুর্ঘটনা ঘটতে আমরা আর দেখিনি। পত্রিকান্তরে রূপগঞ্জের এই দুর্ঘটনার বিষয়ে নানা খবর প্রকাশ পেয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তাদের চেনার উপায় নেই এমন দাবি দেশের সকল প্রচার মাধ্যমে। পত্রিকার প্রতিবেদন হতে জানা যায়, যে বা যারা এ কারখানায় আগুন ধরিয়ে দিক না কেন, কারখানার পরিবেশ অগ্নিকাÐের অনুকূল বলে মন্তব্য ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের। এ অগ্নিকাÐ যেভাবেই সংঘটিত হোক না কেন কারখানা কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না এমন দাবি বিবেকবান মানুষের। কারখানাটিতে শত শত শ্রমিক কাজ করে। তারা কাজ করে রুটি রুজির তাগিদে। কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল নিজস্ব অর্থায়নে। এর কারণ তারা দেশের ক্রেতা সাধারণকে ঠকিয়ে কিংবা প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কোন ব্যবস্থাই করেছে বলে মনে হচ্ছে না। এ জাতীয় কারখানার মালিকরা মানুষ নামের অমানুষ। ব্যবসায়ী নামের কসাই। তারা আমের জুস নাম দিয়ে তথাকথিত সেজান জুস দেশের বাজারে ছেড়ে দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য ধ্বংসের অপব্যবস্থা করেছে। আমের জুসের নাম দিয়ে তরল ক্যামিকেল পান করাচ্ছে দেশের মানুষকে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও যুবকদের বেশি পরিমাণে ক্ষতি করছে এ সকল জুস বা কোমল পানীয় নামের তরল ক্যামিকেল। গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত এ জাতীয় গণস্বাস্থ্য বিধ্বংসী কারখানার মালিকদের প্রকাশ্যে গুলি করে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সেজান জুসসহ আরো যে সকল কোমল পানীয়ের মধ্যে ক্যামিকেলের ব্যাপক মিশ্রণ ঘটিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে এ জাতীয় সব কোমল পানীয় দেশে নিষিদ্ধ করা জরুরি। জরুরি এই কারণে যে, এসব ক্যামিকেল মিশ্রিত পানীয় পান করে দেশের মানুষের দেহে নানা রকম রোগব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। যার কুফল টানতে হচ্ছে সমগ্র জাতিকে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের যেকোন দুর্ঘটনায় সহজে কারখানা থেকে বের হবার সুযোগ পর্যন্ত রাখেনি। অগ্নিপ্রতিরোধক কোন ব্যবস্থা গ্রহণও করেনি। ক্যামিকেল, প্লাস্টিক, পলিথিনে ভরা ছিল কারখানা, যা অগ্নিকান্ডের ভয়াবহতা তৈরিতে সহায়ক! অথচ আমের রসের কোন চিহ্ন প্রত্যক্ষদর্শীরা কারখানায় পায়নি। তাই অগ্নিকাÐের ঘটনার সঠিক তদন্তের সাথে প্রতারণার দায়ে এবং গণস্বাস্থ্য ধ্বংসকারী কাজের জন্য কারখানা মালিকদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি এমন দাবি সমগ্র দেশবাসীর।