রামুতে প্রবল বর্ষণে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি

2

সোয়েব সাঈদ, রামু

কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের ফলে রামুতে সহস্রাধিক বসত বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কসহ গ্রামীন সড়কগুলো প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ। উপজেলার কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশী বসত ঘর পানিবন্দী হওয়ার খবর যাওয়া গেছে। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা গত ২৭ জুলাই পানিতে একাকার হওয়ায় গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া এলাকা দেখতে যান। এসময় তিনি এসব এলাকার পানিবন্দী লোকজনের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাইল নোমান জানান, ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম এখন পানিতে একাকার হয়ে গেছে। এসব গ্রামের ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঝূঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। নদীর পানি রাত ১০ টার পরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আরো বেশী দুর্ভোগের আশংকা রয়েছে। গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ জানান, ইউনিয়নের কৈয়াজরবিল, ডেইঙ্গারচর, ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বোমাংখিল, জুমছড়ি, ফকিরপাড়া সহ আরো অনেক গ্রামে মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতৃবৃন্দ পানিবন্দী লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেয়া শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান জানান, ইউনিয়নের ধরপাড়া, হালদারকুলসহ কয়েকটি গ্রামে শতাধিক বসত ঘর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বাঁকখালী নদীর শিকলঘাট-পূর্ব রাজাকুল সংযোগ সড়কস্থলে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে এখানে সংস্কার না হলে পুরো সড়কটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকা পানিতে প্লাবিত হওয়ায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মনিরঝিল,পূর্ব কাউয়ারখোপ, বৈলতলী, চরপাড়া সহ কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়ায় এসব এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ ভূট্টো জানান, ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, চরপাড়া, উমখালী গ্রামে ২ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ৩ ওয়ার্ডের উমখালীতে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় লোকজন আতংকে রয়েছে। তবে ভাঙ্গন রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে। চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছৈয়দ নুর জানান, পশ্চিম চাকমারকুল এলাকায় বাঁকখালী নদীর পানি আকষ্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে মঙ্গলবার পরিষদের পক্ষ থেকে বালির বস্তা দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব জানান, গ্রামের ১২টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা জানান, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দী লোকজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। রাতে রামুর অফিসেরচর গ্রামে রামু-মরিচ্যা সড়কের পাশে বেড়িবাঁধ বিচ্ছিন্ন থাকায় নদীর পানিতে এলাকাটি প্লাবিত হতে থাকে। এসময় তিনি সড়ক প্রশস্থকরণ কাজের ঠিকাদারকে জরুরী ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন করা বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য নির্দেশ দেন।