রাজস্থলী উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন প্রধান সড়কের বেহাল দশা

2

হারাধন কর্মকার, রাজস্থলী

রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা প্রধান সড়কের পাশে সরে গেছে রাস্তার নিচের মাটি, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করেছেন পথচারীরা। জানা যায় গত কয়েকদিনের থেমে থেমে রাত -দিনে প্রচন্ড বৃষ্টিতে রাস্তার দুই পাশের ড্রেন গুলোতে মাটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল করতে ব্যহত হওয়ায় রাজস্থলী ও রাঙামাটি প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থলী প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার পাশে পানি চলাচলের ড্রেন গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রধান সড়কটি কাঁদা মাটিতে হাহাকার হয়ে যায়। এতে করে দৈনিক ছোট ছোট যানবাহন গুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়। যানবাহন চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। রাজস্থলী চন্দ্রঘোনা সড়ককে পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন, পাবনা টিলা, ছালাম মার্কেট, গাইন্দ্যা স্কুলের পাশে, ইসলামপুর ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা, মোড়ল টিলা, ওগারী পাড়া, চিতা খোলা, গামারী বাগান, ছাইংচং ব্রিজ, বড়ইতলা, রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন, রাজস্থলী বাস স্টেশন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ট্রাক চালক মো. আরিফ বলেন, রাজস্থলী- চন্দ্রঘোনা সড়কটি একটি উপজেলা ও জেলা সংযোগ সড়ক। সড়ক টি দিয়ে দৈনিক ছোট বড় শত যানবাহন চলাচল করে। গত কয়েক মাস আগে পিচ ঢালাই করে সংস্কার করা হলেও রাস্তার পাশের নিচের মাটি সরে গেছে সেগুলো সংস্কার করা না হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য থেকে আশা গাড়িগুলো সাইট দিতে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা শিকার হতে পারে বলে মনে করেন। গাইন্দ্যা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পুচিংমং মারমা বলেন, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়কে শতাধিক যাত্রীবাহী, মালামাল ও পাথরবোঝাই যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাঁদা মাটিতে হাহাকার হয়ে পরে। রাস্তার পানি চলাচলের ড্রেন গুলো অকেজো হওয়ায় এমন সমস্যা গুলো সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি আরো বলেন, প্রধান সড়কটি দিয়ে তিনটি বাজারে কৃষকদের কৃষি মালামাল পরিবহনের সহ চলাচল ঠেগামুখ ট্রানজিট সড়কের নির্মাণ কাজের সামগ্রী পরিবহনের একমাত্র সড়ক। তাই সড়কটি সংস্কারসহ রাস্তার পাশের ধ্বসে যাওয়া স্থান গুলো দ্রæত সংস্কারের দাবি জানান। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালেহীনের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি বাঙ্গালহালিয়া থেকে রাজস্থলী পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। তবে রাস্তার পাশের মাটি ধসের সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে বলে জানান । ‌তবে হাসপাতাল, আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্বানে দ্রæত সংস্কার করা হবে বলে জানান। রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা বলেন, রাজস্থলী-চন্দ্রঘোনা সড়কটি দিয়ে দৈনিক সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা ও উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ চলাচল করেন। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। এবং কৃষি নির্ভরশীল এই এলাকার মানুষ গুলোর কৃষি মালামাল পরিবহন করে আসছে সড়কটি দিয়ে। গত মাস খানিক ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কার করা হলেও একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি ও কাঁদা মাটি জমে জমে থাকে। এবং সড়কের গাইন্দ্যা স্কুল সংলগ্ন , ইসলামপুর, ভাঙ্গাপোল, পূর্নবাসন, ওগারী পাড়া, চিতাখোলা, গামারি বাগান, সহ কয়েকটি স্থানে রাস্তার পাশে মাটি সরে বড় আকারের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন গুলো সহ রাস্তার দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন গুলো সংস্কারের দ্রæত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।