রাজবন বিহার এলাকায় বানরদের খাবার দিলেন জেলা প্রশাসন

8

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজবন বিহারের মাঠ প্রাঙ্গণে বানরদের মাঝে গত ২৮ জুলাই খাবার বিলিয়ে দেন। খাবার গুলোর মধ্যে ছিলো, মিষ্টি কুমড়া আর মোটর ডাল। এসময় বনাঞ্চলের থাকা হাজারেরও অধিক বানর খাবার খেতে ছুটে আসে। রাঙামাটিতে বানরকে খাবার খাওয়ালেন জেলা প্রশাসক করোনার কারণে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজবন বিহারের এলাকার বনাঞ্চলের আশ্রয় নেওয়া হাজারের অধিক বানরদের মাঝে খাবার দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, করোনার কারণে রাজবন বিহারের বনাঞ্চলে অবস্থানরত বানরগুলোর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে এসেছি। তবে বিহার পরিচালনা কমিটি যদি খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজন মনে করে তাহলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মামুন ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু, রাঙামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা, বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ৬নং বালুখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমাসহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির কর্তৃপক্ষ জানান, দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজ বন বিহারের পূর্ণ্যাথীদের পাশাপাশি পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়া বিহারে থাকা হাজারের অধিক বানর খাদ্য সংকট পরে। অন্যদিকে রাজবন বিহার এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে বানরের সংখ্যা। বেড়েছে এসব বানরের উপদ্রবও। খাদ্যসামগ্রী সংকট দেখা দিলে বানরের উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেক সময় বিহারে আসা পূণ্যার্থীদের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রতিনিয়ত বানরগুলোর সংখ্যা বাড়লেও সে পরিমাণ খাদ্য পাচ্ছে না। বিহার থেকে যে খাবার পাচ্ছে তাও পর্যাপ্ত নয়। রাঙামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা বলেন, বানরগুলোর একেবারে খাদ্য সংকটে পড়েছে তা নয়। ভিক্ষু-শ্রামণের জন্য নিয়ে আসা অবশিষ্ট খাদ্যগুলো বানরদের দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি শুক্রবার বিকিরন চাকমা নামে এক পুন্যার্থী বানরদের জন্য খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে বানরগুলোর খাদ্য সংকট তেমনটা নেই। তবে করোনার কারণে পূণ্যার্থী কম আসার পাশাশাশি পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় একটু খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে মাত্র। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে প্রাকৃতিক বনের মাঝে গড়ে তোলা হয় রাজবন বিহারটি। সে সময় কিছু বানর দেখা যেত বন বিহার এলাকায়। ধীরে ধীরে রাঙামাটি শহরে গাছপালা উজাড় হয়ে গেলে বানরগুলো আশ্রয় নেয় বন বিহারে থাকা গাছপালাগুলোতে। আর বন বিহার হয়ে উঠেছে বানরদের আশ্রয়স্থল।