রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুন্ডে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্টকার্ড ও সনদ বিতরণ

8

রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

রাঙ্গুনিয়া : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৯১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ডিজিটাল সনদ, স্মার্ট কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণ করেছেন। শুক্রবার এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউল গনি ওসমানী। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার খাইরুল বশর মুন্সির সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিছ আজগর চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, মাস্টার আসলাম খান, ডা. মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

সীতাকুন্ড : মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আপনাদের জন্য আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি, আপনাদের কারণে আমরা সম্মানিত জাতি। সরকার আজ আমার সংসদীয় আসনের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্ট কার্ড হাতে দিয়ে আপনাদের সম্মানিত করেছে। আপনারা সম্মানিত হলে আমরাও সম্মানিত হই। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শত ভাগ চেষ্টা করেছি, আপনাদের কল্যাণে কাজ করতে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, উনি শত ব্যবস্থার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা অসচ্ছল পরিবারের জন্য বীর নিবাস, মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা রকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। সর্বশেষ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড হাতে তুলে দিচ্ছে। যা অত্যন্ত প্রশংনীয় উদ্যোগ,স্মার্ট আইডি কার্ডে লিখা থাকছে বীর মুক্তিযোদ্ধা। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্য দিদারুল আলম কথাগুলো বলেন। এ সময় সীতাকুন্ড উপজেলার সাড়ে তিনশ জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে স্মার্ট আইডি কার্ড ও ডিজিটাল সনদ বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মনিরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- যুদ্ধকালীন সময়ের থানা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সিরাজুল আলম, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম, চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সরওয়ার কামাল দুলু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.ফখরুদ্দিন, সাবেক সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বিএসসি, সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, সাবেক বাড়বকুন্ড ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এজেএম মহসিন জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক বড়ুয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল গনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরওয়ার কামাল লাতুসহ প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সিরাজুল আলম বলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ৮ পারসেন্ট সুদ খুবই বেশি। যারা ব্যাংকে চাকরি করে তারা ঋণ পায় ৩ পারসেন্টে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সুদ নেয় ৮ পারসেন্ট। মুক্তিযোদ্ধাদেরও ব্যাংক ঋণে ক্ষেত্রে ৩% সুদ নির্ধারণ করার দাবি করেন।
এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে একটি করে সড়ক নামকরণ করা প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, ইউএনও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের আকাক্সক্ষা বুঝতে পারেন। আমাদের মঞ্চের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে তিনি নিজে পিছনের সারিতে বসেছেন। এর আগে অনেক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা সঠিক সম্মান পেতাম না। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি নিজে কিছু পাওয়ার জন্য না। অথচ স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় লুকিয়ে চলতে হত। এক সময় পরিচয় দিলে পদে পদে লাঞ্ছিত হতে হত।
এই সরকার আমাদের ও আমাদের পরিবারকে অনেক সম্মানিত করেছে। এমপি মহোদয়ও আমাদের সুখে-দুঃখে এগিয়ে আসেন।