রাঙ্গুনিয়ায় ‘রঙিন ফুলকপি’ চাষে হেলালের বাজিমাত

7

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

সবুজ পাতার ভেতরে উঁকি দিচ্ছে হলুদ ও বেগুনি রং এর ফুলকপি। সাদা ছাড়া প্রথম বারের মতো রঙ্গীন ফুলকপির চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন যুবক হেলাল উদ্দিন। তাঁর ফুলকপির খেত দেখতে ভিড় করছেন প্রতিদিন আশপাশের মানুষ। প্রথমবারের মতো রঙের ফুলকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। খরচ মিটিয়ে কয়েক গুণ লাভের আশা করছেন হেলাল। হেলালের এমন সফলতায় উচ্চ মূল্যের এজাতের সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার অনেকে।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের,পশ্চিম সরফভাটা হাজারীখীল আলী বাড়ির কৃষক মো. হেলাল উদ্দীন মৌলার চরে রঙ্গীন ফুলকপির চাষ করে। প্রথমবারেই চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন। অল্প পুঁজিতে রঙ্গীন ফুলকপি চাষ করে অন্যান্য সবজির চেয়ে ৩ গুন লাভবান হযেছেন ।
কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, এ বীজ গুলো অনলাইনের ফ্লাটফর্মে দেখে আমার সুন্দর লাগছে। আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিলাম আমার গ্রামের জমিতে বেগুনিও হলুদ রং এর চাষাবাদ করব। অনলাইনে অর্ডার দিয়ে বীজগুলো আমি সংগ্রহ করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমি বীজগুলো আমার ছাদে এনে এগুলো চারা করি। চারা গুলো রোপনের উপযোগী হলে আমি নিজ জমিতে রোপন করি। বর্তমানে আমার চারা বয়স ৮৫ থেকে ৯০ দিন। ৯০ দিনে ফলনগুলো পরিপূর্ণ হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন কৃষি কাজ করে আসছি। তিন বছর ধরে ধান চাষ এবং নানা জাতের সবজি চাষাবাদ করে আসছি। রঙ্গীন ফুলকপি চাষে আমি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছি। আমার দেখাদেখিতে এলাকায় অনেক এ চাষাবাদ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
হেলালের উদ্দিনের সফলতায় অনুপ্রাণিত অন্যান্য কৃষকরা। রঙ্গীন ফুলকপি চাষ করার জন্য রাঙ্গুনিয়ার পেশাদার সবজি কৃষকরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরফভাটার পাইট্রালী গ্রামের কৃষক আলী আহম্মদ জানান, হেলাল উদ্দিনের সফলতা দেখে আমি আগামীতে অন্যান্য সবজি চাষের সাথে রঙ্গীন ফুলকপি চাষ করবো।
এলাকার মানুষ রঙ্গীন ফুলকপি চাষাবাদ দেখার জন্য তার খেতে ভিড় করছেন। কৌতুহল বশত এলাকার অনেকে এ রঙ্গীন ফুলকপি কিনে নিচ্ছে । আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হলুদ এবং বেগুনি কালারের ফুল কপির সোস্যাল মিডিয়া ছবি শেয়ার করছেন।
রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বাজারে হেলাল উদ্দির রঙ্গীন ফুলকপি স্থানীয় বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। বিক্রি হচ্ছে অনেক চড়া দামে। রঙ্গীন ফুলকপি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়। প্রথম দেখায় রঙ্গীন ফুলকপি চড়া দামে কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। এর চাহিদা দিন বাজারে বাড়ছে।
রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানের সবজি বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত ৩দিন আগে যখন আমার কাছে হেলাল উদ্দিন রঙ্গীন ফুলকপি পাঠায় বাজারে উপস্থিত নানা পেশার মানুষ কেনার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। রঙ্গিন ফুলকপির চাহিদায় আমরা খুব ১০ থেকে ২০ কেজি আনতে পারছি। মানুষ প্রতিদিন এ রঙ্গীন ফুলকপি কেনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর চাষ আরো ব্যাপকভাবে করলে এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস জানান, দেখতে হলুদ ও বেগুনি রং এর রঙ্গীন ফুলকপি বাংলাদেশে চাষাবাদ শুরু হয়েছে ২০২১ সালে। চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় এর চাষাবাদ হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ায় এবারেই প্রথম রঙ্গীন ফুলকপির চাষাবাদ করার জন্য অনেক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সৌখিন কৃষি কাজে এ চাষাবাদ ব্যাপক উদ্বুদ্ধ করবে। রঙ্গীন এ ফুলকপিতে অন্যান্য সবজির তুলনায় ব্যাপক ভিটামিন রযেছে। এটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতে সুস্বাদু।