রাঙামাটিতে ১ দিনে ৫ জনের প্রাণহানি

17

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবা-ছেলে সহ তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে এবং এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় বড়থলি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাইজাম ত্রিপুরা পাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতোমং মারমা।
নিহত তিনজন হলেন- বিশ্ব চন্দ্র ত্রিপুরা (৫৫), সুভাষ ত্রিপুরা (২২) ও ধনরা ত্রিপুরা (১৬)। আহত শিশু সূচনা ত্রিপুরার বয়স দুই বছর। এরমধ্যে বিশ্ব চন্দ্র ও সুভাষ ত্রিপুরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান। ইউপি চেয়ারম্যান আতোমং মারমা বলেন, বড়থলির দুর্গম গ্রামের এই পাড়াটিতে কয়েকটি বম ও ত্রিপুরা পরিবার বসবাস করে। গত রাতে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের ওপর হামলা করলে তিনজন নিহত হন। এ হামলায় ২ বছরের এক শিশুকন্যা গুরুতর হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগেও মে মাসের দিকে ওই পাড়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তখন হতাহতের খবর না পেলেও এবার তিনজন মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাড়াবাসীকে গুলি করেছে। এতে তিনজন মারা গেছে।
মে মাসে গ্রামবাসীর উপর হামলার কারণে তখন নিরাপত্তার অভাবে অনেক পরিবার বান্দরবানের রুমায় চলে যায়। কিছুদিন পূর্বে কয়েকটি পরিবার ফিরে আসে, আর তাদের
উপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুয়া-বড়থলি এসব এলাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা, সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে মাঝে মধ্যে সংস্কার বম পার্টি, কুকি চীন নামে নতুন সংগঠন হানা দেয়। বম পার্টির ধারণা এলাকাবাসী জেএসএসকে সহযোগিতা করে, এই ধারণা থেকে হামলা করতে পারে। তবে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা না থাকায় সেখান থেকে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। রাঙামাটি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহমুদা বেগম বলেন, আমরা হতাহতের ঘটনা শুনেছি। তবে এটা কতোটুকু সত্য-মিথ্যা এখনো নিশ্চিত না। দুর্গম এলাকা, সেখানে পুলিশ পৌঁছানো খুবই কঠিন।আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। প্রসঙ্গত, বিলাইছড়ি উপজেলার সবচেয়ে দুর্গম এই ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন। এ ইউনিয়নে চাইলেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। রাঙামাটি-বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এই ইউনিয়নটির মানুষের যাতায়াত মূলত বান্দরবানের রুমা উপজেলা হয়ে। যে কারণে রাঙামাটির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু : রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার জেলা শহরের পর্যটন বিজিবি রোড আমিনা পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন মাহিদুর রহমান মুহিত (১২) ও আহনাফ সাদিব ইনাম (১১)। তারা দুইজনই বন্ধু। স্থানীয়রা জানান, গতকাল বিকালে তবলছড়ি পর্যটন বিজিবি রোড আমিনা পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে যায় মুহিত ও ইনাম। গোসল নামার পর তারা ডুবে যায়। পরে একজনের দেহ ভেসে উঠে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুই জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তিষা চাকমা জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা গেছে।
স্বজনরা জানান, তারা দুইজনই সাঁতার জানতো না। তাদের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতালের পরিবেশ। নেমে আসে শোকের ছায়া।
মুহিতের চাচা আব্দুল করিম লালু জানান, পানিতে ডুবে তাদের দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। মুহিত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।