রাঙামাটিতে করোনা সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের প্রচার প্রচারণা

1

রাঙামাটি প্রতিনিধি

সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেঁধে দেয়া ১১ বিধি নিষেধ না মানলে জেল-জরিমানার বিধান রেখেছেন সরকার। এ আর্দেশ বহাল রেখে সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে প্রজ্ঞাপন পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জানুয়ারি সকাল থেকে কার্যকর হচ্ছে ১১বিধি নিষেধ। এদিকে রাঙামাটিকে করোনা রেড জোন ঘোষণা করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। গত ১২ জানুয়ারি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে কেবল মাত্র একজনই ভর্তি আছেন সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। রাঙামাটি জেলা করোনা রেড জোন ঘোষণা করায় আতংক বেড়েছে অনেকের মধ্যে। বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকটা এগিয়ে। রাঙামাটি জেলার মানুষ করোনার প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত শতভাগ মানুষ মাক্স ব্যবহার করে আসছে। করোনা সচেতনতায় অনেকটা এগিয়ে আছে। তার পরও এ জেলাকে করোনা রেড জোন ঘোষণা করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর! স্থানীয় প্রশাসনও এ নিয়ে রীতিমত হতাশ। তবে সরকার ঝুঁকি আছে মনে করে আগে থেকেই রাঙামাটি জেলাকে রেড জোন হিসেবে ঘেঅষণা করেছেন। সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটি জেলায় করোনায় মৃত্যুর হার অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানায়, উচ্চঝুঁকি থাকায় ঢাকা ও রাঙামাটি জেলা সংক্রমণের রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় ৬ জেলাকে ‘হলুদ জোন’ এবং কম ঝুঁকির ৫৪ জেলাকে সবুজ জোন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। সর্বশেষ গত ২৪ ঘন্টায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৪৫ জনের। এরমধ্যে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৬.৬৭%। গত ১২ জানুয়ারি নিজের কার্যালয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ‘রোগি শনাক্তের হার ১০ থেকে ১৯ শতাংশ হলেই সেখানে রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে। তার ভিত্তি করেই রাঙামাটিকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আমাদের রোগি শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন। সেই হিসেবে আমি মনে করি যে সংখ্যাটা খুব একটা বেশি নয়। শুধু এখানে আমাদের পরীক্ষা সংখ্যা কম হওয়াতে এই পার্সেন্টিজ বেড়ে গেছে’। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, করোনা রেড জোন ঘোষণা করার সময় এখনো হয়নি। তবে সরকার হয়তো বা ঝুঁকি মনে করেছেন তাই রেড জোন ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১১বিধি নিষেধ দাপ্তরিক আদেশ পেয়েছি। আজ থেকে জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা করোনা বিধি নিষেধ জনগণকে সচেতন করতে মাঠে থাকবে। আইন অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধি নিষেধ না মানলে প্রয়োজনে জেল জরিমানা করা হবে। রাঙামাটিবাসীকে সরকারের বেঁধে দেয়া ১১ বিধি নিষেধ মেনে চলতে আহবান জানা জেলা প্রশাসক। তিনি আরো বলেন, সবাই মাক্স ব্যবহার করবেন এবং রাত আটটা পর্যন্ত দোকাপাট খোলা রাখার পরামর্শ দেন।
এদিকে গত ১৩ জানুয়ারি সকালে বনরুপা কাচাবাজার, রির্জাভ বাজার, তবলছড়ি ও কলেজগেট এলাকায় করোনা সচেতনতায় জনগণের মধ্যে মাক্স বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন। এসময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বনরুপা বাজার, তবলছড়ি বাজার,রির্জাভ বাজার ও কলেজগেট ব্যবসায়ি মহল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।