যৌথভাবে মাঠে নামছে চসিক-সিএমপি

53

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্ছেদ পরবর্তী পুনরায় দখল ঠেকাতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাতে সুফল না মিলায় ‘স্ট্রাইকিং’ ফোর্স গঠন করেও অবৈধ দখল ঠেকাতে পারছে না সিটি করপোরেশন। ফলে থানাভিত্তিক পুলিশি সহায়তা পেতে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ফুটপাত রক্ষায় চসিকের পাশে থাকার কথা পূর্বদেশকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
গত দুইমাস ধরে নগরীর প্রায় প্রত্যেকটি সড়কে অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। যেখানে পুলিশের সহায়তা পেয়েছে সেখানে পুনরায় বদখল হয়নি। অন্যদিকে বেশিরভাগ জায়গায় অভিযানের ঘণ্টা না পেরোতেই পুনরায় দখল হয়েছে। এর পেছনে নগন্য শাস্তি প্রয়োগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের যোগসাজশে চাঁদাবাজিই অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত রোববার সিএমপি কমিশনার বরাবর পত্র দিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ শহীদুল আলম। পত্র সূত্রে জানা যায়, সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নগরীকে নান্দনিক, বাসযোগ্য ও নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফুটপাত-রাস্তা দখলকারী হকার ও স্থাপনা উচ্ছেদপূর্বক জনচলাচল নির্বিঘœ করার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু উচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা উচ্ছেদকৃত ফুটপাত ও রাস্তার পুনর্দখল রোধে সিএমপি’র অধীনস্ত থানাসমূহের ওসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের সুফল পেতে সহযোগিতা চায় চসিক। পত্র প্রেরণ করার বিষয়টি পূর্বদেশকে নিশ্চিত করে মেয়রের একান্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবুল হাশেম জানান, এ যাবত আমরা ২০টি বড় এবং ১৫টির অধিক ছোট অভিযান পরিচালনা করেছি। বড় উচ্ছেদগুলোর মধ্যে ৫টি স্থান ছাড়া বাকিগুলো পুনরায় দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের কারণে অভিযানের সুফল মিলছে না। এক্ষেত্রে পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে যৌথভাবে মাঠে নামা যাবে। এতে নগরবাসী স্বস্তির ফুটপাত ফিরে পাবে বলে মন্তব্য করেন এ কর্মকর্তা।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, নগরীর ফুটপাত দখলপ্রবণ এলাকাগুলোতে কয়েকবার করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারমধ্যে চকবাজার ও বহদ্দারহাট উল্লেখযোগ্য। এছাড়া হকারদের স্বর্গরাজ্যখ্যাত নিউ মার্কেট এলাকায় মেয়র রেজাউল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে দায়িত্বশীলরা বলছেন, নিউ মার্কেট এলাকায় হকার বেশি হলেও পুরো শহরের অধিকাংশ জায়গায় ফুটপাত দখল করে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আগে এগুলো দখলমুক্ত করে নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে চসিকের। এ বিষয়ে সিএমপি’র পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় পূর্বদেশকে জানান, ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সিটি করপোরেশনের পাশে থাকবো। আমাদের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা হবে।