যেখানে গুলি হয় সেখানে বাঘের ভয়

18

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

মিয়ানমার সীমান্তের ৪১ পিলার নিকটবর্তী রেজুআমতলী এলাকা। সীমান্তের এ এলাকা ও বাইশফাঁড়িসহ অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় এক মাস ধরে গোলাগুলিতে আতংকগ্রস্ত হয়ে আছে কয়েকশ পরিবার। এদের অধিকাংশই উপজাতি, বাকিরা বাঙালি। তারা খামার করে বা বসতি গড়ে সীমান্ত পয়েন্টে জুমচাষ ও অন্যান্য বাগান করে আসছিলেন। গোলাগুলিতে তারা বাগান ছেড়ে আসলেও মাঝেমধ্যে ঘুরে আসতেন তাদের সেসব চাষাবাদের এলাকা।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- জুমচাষি টুইমং মার্মা, চাইদামা মার্মা, অথৈ তংচঙ্গা ও কালাছে তংচঙ্গা। তারা বলেন, সীমান্তের ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ পিলারের শূন্যরেখার মিয়ানমার অভ্যন্তরের গহীন বনাঞ্চালে অবস্থানকারী বিদ্রোহী আরাকান আর্মির স্বশস্ত্র যোদ্ধারা রাখাইন রাজ্য দখলে মরুর দিকে অগ্রসর হলে জনশূন্য হয়ে পড়ে এ বিস্তীর্ণ বন এলাকা। যদিও এর আগে এ বনে বিচরণ করতো অনেক হিংস্র প্রাণী। মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরকান আর্মির যোদ্ধারা এ বন ছেড়ে গেলে বনের অনেক পশু ফিরে আসে আপন আলয়ে। আবার এদের অনেক পশু গোলাগুলির কারণে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের নিরাপদ বনে ।
জুমচাষিরা আরো বলেন, সেসব পশুর মধ্যে চিতা বাঘ, রাম কুকুর ও কালো ভল্লুক এখন এ বনে অবস্থান করছে। এসব পশু খাবারের সন্ধানে মরিয়া। পুরো বন তারা বিচরণ করছে খাই খাই মনোভাবে। তারই ধারাবাহিকতায় বন্য পশুগুলো জুমচাষি ও সেখানকার বসতঘরে পালিত পশু-পাখি শিকার করা শুরু করে।
শেমা রানী বলেন, গত ৭ দিন আগে এ বন এলাকায় তার ৩টা ছাগল চিতা বাঘে খেয়ে ফেলেছে। চাইদামা মার্মা বলেন, রাম কুকুর তার গৃহপালিত গরু ও ছাগল খেতে এসেছে বার বার। এমন কি তাদের দিকেও অনেক বার হামলা চালিয়েছে।
ওলাও তংচঙ্গা বলেন, একদিকে গোলাগুলি অন্যদিকে বন্য পশুর হামলা তাদের পাড়া ছাড়া করেছে। এখন তারা গ্রামে অস্থায়ী বাসা তৈরি করে দিন কাটাচ্ছেন।
খামারি ও সেখানকার বাসিন্দারা আরো বলেন, চিতা বাঘ, ভল্লুক ও রাম কুকুরের ভয়ে খামার ছেড়ে গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে অর্ধ-শতাধিক পাহাড়ি পরিবার। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে অস্থায়ী বসতঘরে। তারা সরকারের কাছে সহায়তা চান।
এদিকে বাইশফাঁড়ির দক্ষিণের সীমান্তের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩৮ পিলারের অনতিদূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি সেনা ক্যাম্পে আক্রমণ হলে সেনারাও পাল্টা আক্রমণ করে। দু’ঘন্টাব্যাপি এ সংঘর্ষে একজন কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সেনা নিহত হন। আহত হন আরও ৯ জন। অপরদিকে বিদ্রোহী গ্রæপের ১ জন নিহত ও ২ জন গুরুতর আহত হন। এ সময় দুদলের মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ চলে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসরতদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
অপর দিকে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সিটুয়ে জেলার রাথিডং ও মংডু জেলার বুথিডং টাউনশিপের বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির সাথে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির দফায় দফায় সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। মিয়ানমার সেনারা আরকান আর্মির সম্ভাব্য আস্তানায় হেলিকপ্টার হতে ভারী গোলা বর্ষণ ও বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প হতে মটার্র শেল ফায়ার অব্যাহত রেখেছে।
সীমান্তে বসবাসরতরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ডুসহ সীমান্ত এলাকার লোকজন পাড়া-গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রচÐ গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে আসছে বাংলাদেশে। ধারণা করা হচ্ছে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে তমুল লড়াই চলছে। বিশেষ করে শনিবার ও এর আগের দু’দিন রাতে এবং সকালে গোলাগুলির আওয়াজ খ্বুবেশি শুনা যায়। দিনে কম। আর বন্য পশুর বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত করবেন বলে জানান।