যেকোন উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর রাখা জরুরি

17

দেশে সরকারি, বেসরকারি, সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে, ওয়াসা, সিডিএ, জেলা পরিষদসহ বহু জায়গা অবৈধ ও জবরদখলকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। তাছাড়া রাস্তাঘাট, ফুটপাত অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজদের হাতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশে আইন আছে, নিয়মকানুনের বিধিবিধান আছে কিন্তু তা বাস্তবে কার্যকর নেই বললেই চলে। দেশের তথা চট্টগ্রাম মহানগরীর বহু রাস্তা অবৈধ দখলদারদের হস্তগত দেখতে পাওয়া যায়। অবৈধ দখরদাররা অবৈধ দোকানপাটসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি জায়গা, সিটি কর্পোরেশনের জায়গা, রেলওয়ের জায়গা, ওয়াসার জায়গা, জেলা পরিষদের জায়গা নিঃশ্চিন্তে ব্যবহার কিংবা ভোগদখল করে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা অবৈধ দখলদার উদ্ধার অভিযান চালাতে দেখা যায়। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল নিতেও দেখা যায়। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানতে পারি, নগরীর বায়েজিদ, শেরশাহ্ সহ বিভিন্ন সড়কে দুই শতাধিক দোকান সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু উচ্ছেদের তিন মাস না যেতেই আবার সেগুলো দখল নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। যা বিস্তারিত পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সরকার, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারি স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অবৈধ দখলদাররা বেশি শক্তিশালী। রাস্তায় অবৈধভাবে গাড়ি রাখছে যারা, হকারি করে যারা, অবৈধ বাজার বসায় যারা, তাদেরও একই অবস্থা। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের শহর এলাকাগুলোতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষ ও নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কাজ করতে দেখা যায়। রাস্তাকে যানজট মুক্ত রাখা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা নিশ্চিত করাসহ নগরীর মধ্যে নাগরিকদের যেকোন দুর্ভোগ লাঘবে আইনকানুন যেমন আছে তেমনি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সংস্থা এর দায়িত্ব পালন করে থাকে। অথচ চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্বয়ং সিটি কর্পোরেশনের জায়গা অবৈধ দখলদাররা কিভাবে ভোগ করতে পারে তা কারো বুঝে আসার কথা নয়। কে বা কারা চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবৈধ জায়গা দখল, সড়কে হকার বসানো, যানজটের পরিবেশ তৈরি করাসহ নানা অপকর্মে যারা লিপ্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্তৃপক্ষ চিনে ও জানে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় না। লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার, ফিটনেসহীন গাড়ি, রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ি পার্কিং, সড়কের উপর কাঁচা বাজার, সড়ক বন্ধ করে হকারি হতে সরাসরি সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান, মার্কেট কিংবা আবাসিক স্থাপনাসহ সবই চলছে। অথচ মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা কার্যকর থাকতে দেখা যায় না। এর মূলে রয়েছে প্রশাসন তথা কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অভাব এবং আইন, নিয়ম, শাস্তি বাস্তবায়নে সততা, নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতা হতে মুক্ত হতে না পারা। অপরাধি অপরাধিই। যে কোন অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্টদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা জরুরি। সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারি সকল সংস্থা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কঠোরভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যেকোন অপরাধি পুনরায় অপরাধ করার সাহস পাবে না।