যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে : প্রধানমন্ত্রী

11

পূর্বদেশ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, আরও নিষেধাজ্ঞা দেবে, দিতে পারে, এটা তাদের ইচ্ছা কিন্তু আমার দেশের মানুষের ভোটের অধিকারসহ সব মৌলিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি।
গতকাল শনিবার ভয়েস অব আমেরিকা সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক শতরূপা বড়ুয়া।
ভোটের অধিকারের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে। অনেক নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছে, এই ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যত ধরনের সংস্কার দরকার সেটা আমরাই করেছি। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। মানুষের ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। খবর বাংলানিউজের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’, এই স্লোগান আমার দেওয়া। আমি এভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি। সে ক্ষেত্রে ভোট নিয়ে হঠাৎ স্যাংশন দেওয়ার কোনো যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী আমার কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থার কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তার কিন্তু বিচার হয়। এই বিচারে কিন্তু কেউ রেহাই পায় না।
তত্ত¡াবধায়ক সরকারের (সিজি) অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ভোটের অধিকার জনগণের হাতে। কাজেই নির্বাচিত সরকারই নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতাগ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার এখন জনগণের হাতে। জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, এখন আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। এখন আমাদের সংবিধানও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করে। নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে একটি নির্বাচিত সরকার (ক্ষমতায়) আসবে।
আপনি বলছেন সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করার জন্য সংসদে তো আপনার প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আপনি কি সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনার কোনও উদ্যোগ নেবেন? নাকি বিরোধী দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা করবেন এমন প্রশ্নে জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, একসময় তারা (বিএনপি) এর (সিজি) বিরোধিতা করত, এখন তারা দাবি করছে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা কী করবে তা নিশ্চিত নয়। তাছাড়া বিএনপি এই (সিজি) ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে তাকে জেলে যেতে হবে। তিনি বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে যেতে হবে এবং কোর্টে যেতে হবে। কোর্টের কাছে আবেদন করতে হবে। কোর্ট যদি রায় দেয়, তখন (বিদেশে) যেতে পারবেন।
সাক্ষাতকার গ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর আমরা পাচ্ছি। তাকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি আপনারা কী পুনর্বিবেচনা করবেন?’
জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েন শেখ হাসিনা, আমি জিজ্ঞেস করি, পৃথিবীর কোন দেশ সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে পেরেছে? পৃথিবীর কোনো দেশ দেবে? খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদেরকে যদি চাইতে হয়, তাহলে আবার আদালতে যেতে হবে। আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আদালতের কাজের ওপর আমাদের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন,হ্যাঁ, তার (খালেদা জিয়া) জন্য যেটুকু করতে পেরেছি সেটা হচ্ছে, সরকার হিসেবে আমার যেটুকু ক্ষমতা আছে, আমি তার সাজা স্থগিত করে তাকে বাড়িতে থাকার পারমিশন দিয়েছি এবং তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাংলাদেশের সব থেকে দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর যদি তাকে বাইরে যেতে হয়, (তাহলে) তাকে আমি বাসায় থাকার যে পারমিশনটা দিয়েছি; এটা আমাকে উইথড্র করতে হবে। ফলে তাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে যেতে হবে এবং কোর্টে যেতে হবে। কোর্টের কাছে আবেদন করতে হবে। কোর্ট যদি রায় দেয়, তখন যেতে পারবেন। এটা হলো বাস্তবতা।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট থেকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। এরইমধ্যে গত দুই সপ্তাহে তাকে শ্বাসকষ্টের কারণে দুই দফায় সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। গত বছরের জুনে এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি বøক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়।
মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে জানান, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্রোগে ভুগছেন। তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।
এমন পরিস্থিতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশের পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি করে আসছে বিএনপি।