যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদে জড়ায় তারা পথভ্রষ্ট-দুশমন

90

আওলাদে রাসূল (দ.) শায়খুল ইসলাম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্ হাসানীর (ক.) ৮ম বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে তাঁর জীবন-কর্ম-দর্শন নিয়ে আলোচনা ও স্মরণসভা গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত হয়। মাইজভান্ডার রহমানিয়া মইনীয়া মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আল্লামা মুফতী সালেহ সুফিয়ান মাইজভান্ডারী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। তিনি বলেন, আল্লাহর নৈকট্যধন্য আউলিয়ায়ে কেরাম যুগে যুগে ইসলামের শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য, উদারতা ও মানবতার বাণীই মানুষের মাঝে তুলে ধরে আসছেন। মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক মনীষীগণ ইসলামর শান্তি সহমর্মিতা ও মানবতার দর্শন তুলে ধরে একটি মানবিক সম্প্রীতিময় বিশ্ব সমাজ গড়ায় নিজেদের উৎসর্গ করেন। তেমনি ইসলামের শান্তি, সাম্য, উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ও বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন আওলাদে রাসূল (দ.) শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। তাঁর শূন্যতা আজ আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি।
তিনি বলেন, যারা ইসলামের কথা বলে জঙ্গিবাদে জড়ায় কিংবা মানুষ হত্যার উৎসবে মেতে ওঠে, তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট ও ইসলামের দুশমন। তাদের ব্যাপারে মুসলিম জনতা, আলেম সমাজ ও দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, বহুত্বের মধ্যে ঐক্য সাধনই হচ্ছে মাইজভাÐারী মহাত্মাদের জীবন দর্শন। দেশে বহু পথ থাকবে, বহু মতাদর্শের মানুষ থাকবে। সবাই মিলে শান্তি ও স¤প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে মানবিক ঐক্য গড়াই হচ্ছে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর জীবনব্যাপী প্রচারিত জীবন দর্শন। তিনি সকলের মধ্যে ঐক্য ও স¤প্রীতিবোধের বাস্তব নমুনা ছিলেন। বর্তমান সময়ে এ মহান মনীষীই হতে পারেন আমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর পথ ও মতে প্রতিষ্ঠিত থাকলে শত বিপর্যয়েও আমাদের পরিত্রাণ মিলবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ আলহাজ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আজ চতুর্দিকে মানবতার আর্তনাদ ও হাহাকার চলছে। দেশে দেশে শান্তিপ্রিয় নিরীহ মানুষ নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার। চুপ করে বসে না থেকে আমাদেরকে মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অশান্তি, হানাহানির বিপরীতে আউলিয়ায়ে কেরামের প্রদর্শিত ও অনুসৃত শান্তি সৌহার্দ্য ও স¤প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করতে হবে। হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) মতো অসাধারণ গুণের আধ্যাত্মিক সাধকদের জীবনদর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মধ্যেই আমাদের কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত।
সূফী মিজান সুন্নি দরবারের উলামা ও পীর মাশায়েখের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তুলে সুন্নিয়ত ও মাইজভান্ডারী মানববাদি দর্শনকে দেশে-বিদেশে প্রসারিত করার তাগিদ দেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাইজভান্ডার রহমানিয়া মইনীয়া মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র সংসদের সভাপতি হাফেজ মো. নূরুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মহসীন চৌধুরী, আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার সাবেক সভাপতি মো. ইকবাল রিসালপুরী, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী।
আলোচক ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল কাদের, মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (এটলী), আল্লামা মুফতি কাজী আব্দুল ওয়াজেদ, হাওলা দরবারের সাজ্জাদানশীন মাওলানা নঈমুল কুদ্দুস আকবরী, ঘিলাতলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা মুফতি বাকী বিল্লাহ আল-আযহারী, রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক আল্লামা মুফতি মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন আল-কাদেরী, মইনীয়া ওলামা মাশায়েখ ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা আহব্বায়ক হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, আমতল ছিদ্দীকিয়া মইনীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হযরত মাওলানা বাকের আনসারী, মইনীয়া আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জজ কোর্টের অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট মো. ফখরুদ্দীন জাবেদ, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবীর চৌধুরী প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন বশির শাহ্ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন খলিফা মোহাম্মদ শামছুল আলম সানজরি মাইজভান্ডারী, আন্জুমান মহানগর সভাপতি মো. বোরহান উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ রেযা মিন্টু, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
পরে সালাত সালাম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের পরিত্রাণ এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী।