যথার্থ অনুধাবন করতে হবে মেয়রের এ আহবান

20

 

আজ ১৫ ফেব্রূয়ারি সোমবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী নগর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে তিনি নগরীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে এক সুধি সমাবেশে উপস্থিত থেকে নগরবাসীর সাথে মতবিনিময় করবেন বলে সূত্র জানায়। মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর দায়িত্বগ্রহণের সাথে সাথে দীর্ঘদিন পর নগরবাসী আবারও নির্বাচিত মেয়র তথা অভিভাবক পাবেন। একইসাথে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন-এমনটি প্রত্যাশা নগরবাসীর। মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। কয়েকটি সহযোগী দৈনিকে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তাঁর সাক্ষাৎকার ও বক্তব্যগুলো আপাতত নগরবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশার সাথে সাজুজ্য বলে মনে হয়। বিশেষ করে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তা আশাব্যঞ্জক। শনিবার চট্টগ্রামের একটি সহযোগী দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যে কথাগুলো বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘শহরটাকে সবাই নিজের মনে করুক। শহরের প্রতি নগরবাসীর দরদ সৃষ্টি হোক’। তিনি মনে করেন, শহরকে এগিয়ে নিতে হবে সম্মিলিতভাবে। তাই প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে ‘শহরটা আমার’ এ বোধ থাকতে হবে। নগরবাসীকে ভাবতে হবে শহরের উন্নয়ন মানে নিজের উন্নয়ন। ক্ষতি মানে নিজের ক্ষতি। শহরকে এগিয়ে নিতে কেবল মেয়র ভাববেন না, নাগরিকও ভাববেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে কাজ করার পরিকল্পনা আছে। এক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং সড়কবাতি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদী কিছু কাজ আছে, যেমন জলাবদ্ধতা দূরীকরণ। এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে আস্তে আস্তে সবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করব। তিনি বলেন, প্রথমেই হাত দেব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। পরিচ্ছন্ন বিভাগকে গতিশীল করে পরিচ্ছন্ন শহর নিশ্চিতে চেষ্টা করব। শহরে মশার উপদ্রব খুব বেড়ে গেছে। নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করে শুধু ওষুধ ছিটালে মশার বংশ বিস্তার বন্ধ হবে না। তাই সেদিকে সমান নজর থাকবে”। এরপর সড়ক সংস্কার, স্বাস্থ্য খাতকে আগের গৌরবে ফিরিয়ে নেয়া, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গুণগত মান বাড়ানো, হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবৈধ দখলেথাকা খাল ও নালা-নর্দমাগুলো উদ্ধার করাসহ নগরীর সেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি নির্বাচনী ইশতেহার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত গণমাধ্যমে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে আমাদের মনে হয়েছে গভীর চিন্তা ও নগরীর প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থেকে তিনি তাঁর কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিক হবেন। এম.রেজাউল করিমের একটি বক্তব্য নগরবাসীকে আশ্বাস্ত করেছে তা হল, তিনি নগরীকে নিয়ে ভাবেন, নগর নিয়ে কাজ করেন, গবেষণা করেন এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গদের পরামর্শ নিয়ে নগরীর সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। আমরা নবনির্বাচিত নগর অভিভাবকের সাথে সহমত পোষণ করে বলতে চাই, এ নগরীর উন্নয়নের নেতৃত্ব দিবেন মেয়র, তবে নগরবাসীকে সচেতনতার সাথে নগরীর পরিচর্যা ও সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। এনগরী আমাদের-নগরবাসীকে একথা ভাবতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে। এক্ষেত্রে নগরবাসীও উন্নয়নের অংশীদার। আমরা নতুন মেয়রের কাছে প্রত্যাশা করছি, এখন নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা মশা। যে কথাটি তিনি গুরুত্বসহকারে বলেছেন। মশা নিধনে তাঁর সুচিন্তিত কার্যক্রম দ্রুত দৃশ্যমান হবে। আগে মশা নিধনের নামে কামান দাগাতে দেখেছি, মশার পেছনে ব্যয়ের বিশাল বহরের কথাও আমরা সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি, এতে মশা মরেনি তবে, নগরবাসী তিক্ত-বিরক্ত হয়েছে। মেয়র যেহেতু বিষয়টি ভালোভাবে জানেন, তাই নগরবাসী প্রথমে এ কাজটি দেখতে চাই বলে আমাদের ধারণা।