‘যত বেশি গবেষণা হবে দেশ তত বেশি উন্নত হবে’

18

 

গবেষকরা এক একটা ইনস্টিটিউট। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে গবেষকরা দেশকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। যত বেশি গবেষণা হবে দেশ তত বেশি উন্নত হবে। দেশকে পরির্বতন করতে গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসা ও শারীরবিদ্যায় এবারের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে ‘মার্কস দৃষ্টি নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা ২০২৩’ আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গতকাল বিকেলে থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ আয়োজনে মূল বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. এস এম মাহবুবুররশিদ। প্যানেল আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ সিরাজউদ্দিন, বিআইটিআইডি বিভাগীয় প্রধান ও ল্যাব ইনচার্জ ডা. মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম এ এম জুনায়েদ সিদ্দিকী। বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল, চিটাগং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটির স¤পাদক আল আমিন, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাবের সহকারী মডারেটর আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী।
দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরির সভাপতিত্বে সমাপনি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না। পরিচালনা করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. এস এম মাহবুবুর রশিদ বলেন, ‘২০২৩ সালের চিকিৎসা ও শারীরবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্রু উইসম্যান। তারা মূলত এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার করে এ পুরস্কার জিতেছে। যেকোন প্রতিষেধক সাধারণত ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি প্রতিষেধক তৈরি করতে ১০ থেকে ৩০ বছর সময় লেগে যায়। এরপরও নিশ্চয়তা থাকে না, দেখা যায় তৈরিকৃত প্রতিষেধক ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কার্যকর হয়।’
প্যানেল আলোচক অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ্দিন বলেন, এমআরএনএ প্রযুক্তিতে প্রতিষেধক তৈরি করে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বায়োলজিক্যাল সাইন্সের মাধ্যমে বৃহৎ আকারে মানবসেবা করা যায় সেটি দেখিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বিজ্ঞানীদের একটা শিক্ষানীয় দিক হল লেগে থাকলে সফলতা আসবে।
প্যানেল আলোচক ড. জাকির হোসেন বলেন, এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রæততার সাথে প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পেরেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিষেধক যদি আবিস্কার না হত তা হলে ২০২১ সালের মধ্যে ২১ মিলিয়নের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যেত। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গবেষণার মনোভাব কম। আজকে মনে হয় তরুণদের সঠিকভাবে পরির্চাযা করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে এখান থেকে গবেষক তৈরি করা সম্ভব।
এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল মার্কস ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত সহ আয়োজক ছিল ডিজিজ বায়োলজী এন্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রæপ, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি, এনওয়াইবিবি নেটওয়ার্ক অফ ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট বাংলাদেশ, হোয়াইট বোর্ড সায়েন্স ক্লাব, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাব, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি রোবোটিক্স ক্লাব। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল বিজ্ঞান চিন্তা। বিজ্ঞপ্তি