যতদ্রুত সম্ভব স্নাতক-স্নাতকোত্তর পরীক্ষা নেওয়া জরুরি

2

দীর্ঘ এক বছর পর ৩০ মার্চ ২০২১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণায় শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষার্থী এবং দেশের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দেশের শিক্ষা এতদিন চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন অতিবাহিত করেছে। যাই হোক অবশেষে শিক্ষামন্ত্রণালয় হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা আশাব্যঞ্জক।
কোভিড-১৯ জনিত কারণে দেশের প্রাথমিক হতে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তারপরও শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে শিক্ষাজীবনের শেষ প্রান্তে অবস্থানকারী শিক্ষার্থী তথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চরম হতাশার মধ্যে সময় পার করছিল। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- শিক্ষার্থীরা মার্চেই স্নাতক-স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেয়ার পক্ষে তাদের মত ব্যক্ত করেছে। শিক্ষাবর্ষ শেষ করে শুধু পরীক্ষার কারণে জীবনের মূল্যবান সময় তাদের নষ্ট হয়েছে। তাদের এদাবি অযৌক্তিক নয়। স্নাতক-স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যতদ্রুত পরীক্ষা শেষ করে কর্মজীবনের পদার্পণ করতে পারে ততই তাদের এবং তাদের অভিভাবকসহ দেশের মঙ্গল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ক্লাসের জন্য এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার প্রয়োজন থাকলেও স্নাতক-স্নাতকোত্তর পরীক্ষার্থীদের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তাই যত দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সাথে সাথে তাদের ফাইনাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বে ¯স্নাতক-স্নাতকোত্তর পরীক্ষার্থীদের রুটিন প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন এমন আশা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষাই যে কোন জাতিকে উন্নতি-অগ্রগতি ও স্বপ্নপূরণে সহায়তা করে। যে জাতি শিক্ষায় যত উন্নত সে জাতি মনের দিক থেকেও তত বড় হতে পারে। শিক্ষা রাষ্ট্রের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি উপহার দিয়ে থাকে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অচল রেখে কোন জাতি উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাবার কল্পনাও করতে পারে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষায়িত বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করছেন। এটা জাতির জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক বিষয়। তবে আমাদের দেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ উচ্চ শিক্ষিত জনশক্তি যতই বৃদ্ধি পাক তাতে সর্বস্তরের জনগণের উপকার হবে না। কেননা তাদের উচ্চ শিক্ষা ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপকারে আসলেও সার্বজনীন রাষ্ট্রের উপকার হবে না। সুশিক্ষা ছাড়া শিক্ষার ফল দেশ ও জাতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা যদি দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ এবং অমানবিক কাজে লিপ্ত হয়, তা হলে দেশে প্রকৃত মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আরজ হলো আপনি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের নৈতিক শিক্ষা অর্জনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দেশের শিক্ষিতরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশ হতে অনিয়ম দুর্নীতির সয়লাব কমে যাবে। ফলে মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ দেশে ফিরে আসবে।