ময়ুখ চৌধুরীর কবিতা যাপন

20

আরফান হাবিব

সমসাময়িক কবিতার পাঠক যখন শব্দকে ইটের মতো করে তৈরি দেয়ালকে কবিতা মনে করে কবিতা পাঠের সত্যিকার অনুভব থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য চমৎকার এবং আবশ্যিক সমাধান ময়ুখ চৌধুরী (২২ অক্টোবর ১৯৫০)। গত অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে যিনি নিজের মতো করে কবিতায় দৃশ্যমান এবং অনুভূতির সব বিষয়কে অক্ষরে চিত্রিত করে যাচ্ছেন। কাব্যচর্চার কয়েক দশক পরও যে কবি বলেন-আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে, তাঁর সম্পর্কে পাঠকের স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয় ধুম্রজাল। তাইতো নিজের আরেক কাব্য গ্রন্থের নাম দিয়েছেন ‘অর্ধেক রয়েছি জলে, অর্ধেক জালে’ (১৯৯৯)। যদিও আমরা দেখি অনেক আগেই ‘অসভ্য শব্দ’ (১৯৭৩) এর মতো সময়ের বলয় ভাঙ্গার সাহসী পংক্তি নিয়ে নির্মিত কাব্য সমাহারের একটি সংকলন সম্পাদিত হয়েছে তাঁর হাত দিয়ে। প্রতিষ্ঠানিক কাব্য ভুবনে পা রেখেও নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন তারও প্রায় দু’দশক পরে ‘কালো বরফের প্রতিবেশী’(১৯৮৯) গ্রন্থের মাধ্যমে। তারপর গত শতাব্দীর একেবারে শেষ সময়ে গ্রন্থ প্রকাশে আবার আগ্রহী হন, কিছু সময় বিরতি দিয়ে আমাদের জটিল ভাবনার সুখপাঠ্য শিল্পিত প্রতিচ্ছবিতে আটকে রেখেছেন। গদ্য সৃষ্টিতেও কবির অনিবার্য বাগ্মীতা রয়েছে। হয়তো তাই কবিতায় এর প্রয়োগ ঘটিয়েছেন দুর্দমনীয়ভাবে। চর্যার কবি থেকে সমসাময়িক সব কবির কবিতায় গল্প বলার প্রবণতা ঐতিহ্যমন্ডিত প্রকাশরীতি। এ রীতিতে ময়ুখ চৌধুরী হেঁটেছেন। কিন্তু তিনি যখন বলেন- চরণেরা হেঁটে যাচ্ছে মুন্ডূহীন, তখন আমরা বুঝতে পারি কবি পূর্ণতার টইটম্বুর অবস্থায় ছটফট করছেন মুক্তির জন্য। সৃষ্টির মাধ্যমে আসা সে মুক্তি আমাদের মনোজগতকে ভরিয়ে রেখেছে ইম্প্রেশনিস্ট ধারার কবিতায়। অনুভূতির তীব্রতায় ভয়ঙ্কর তাড়া থেকে সৃষ্ট পলাতক পেন্ডুলাম দেখে আমরা বেদনাকে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে জটিলতার মধ্যে পুনঃজন্ম হতে দেখি। কবিতার মধ্যে পাঠক মুখোমুখি দাঁড়ায় একটি গল্পের সামনে-
আমিও আসবো টাকা নিয়ে
ধার দেবে তোমার হৃদয়?
(প্রেমিক যখন নিষিদ্ধালয়ে / অসভ্য শব্দ, ১৯৭৩)
ময়ুখ চৌধুরীর কবিভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য কাব্যভঙ্গির নিপুণ ব্যবহার। কাব্যভঙ্গির মাধ্যমে গল্পবলার প্রবণতার স্বতন্ত্র শিল্পবোধের সফল স্রষ্টা হিসেবে বাংলা কবিতার সমৃদ্ধ ধারায় তিনি স্বকীয় ভাবে বিকশিত। যা পাঠকের সামনে খুলে দেয় অভিজ্ঞতার নতুন ভুবন। ময়ুখ চৌধুরীর পংক্তিতে অভিব্যক্ত –
ওয়াটার লু’র যুদ্ধে নেপোলিয়ন পরাজিত হয়েছিল;
জিতেছিলো কে?
সমগ্র পৃথিবী পরাজিতের নামটাই মনে রেখেছে।
আমিও তোমার প্রেমে ব্যর্থ হয়েছিলাম।
তোমাকে কে চেনে!
(আরেক হেলেন, আরেক নেপোলিয়ন / প্যারিসের নীলরুটি, ২০০১)
ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায় অবলীলায় অনুসৃত হয়েছে এ জনপদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য এবং তাদের সত্তার লাবণ্য। পটভূমিতে ব্যবহৃত হয়েছে ভারতীয় পুরাণের মোড়কে গ্রীক পুরাণের বিকিরিত নতুন অর্থ, নবতর ব্যঞ্জনা। আর কাল বোধের প্রতিক্রিয়া কবিতার শরীরকে করছে গভীর কৌতূহলের। দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা যায় নিম্নোক্ত কবিতাংশ-
বেহুলা গিয়েছিল, পাঁচ বছর পরে
ইন্দ্রের কবল থেকে তবুও তো ফিরে এসেছিল তার ঘরে।
আন্দোলিত কলাপাতা, বিক্ষোভ এবং ভালোবাসা
স্বপ্নের ভিতরে একাকার।
(বেহুলার বোন / পিরামিড সংসার,২০১৭)
আমাদের দ্রোহী সংস্কৃতির এক চির উজ্জ্বল উৎস কবিতার সংসার। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে মুক্ত হয়েও ময়ুখ চৌধুরী রাজনৈতিক ঘটনা ধারার সঙ্গে নিজের কবিতাকে বিচ্ছিন্ন করেননি। কবিতার পংক্তিমালায় তাই ব্যাখ্যা প্রয়োজনের প্রকাশ পেয়েছে অভিজ্ঞতার জন্মান্তর। আর রাজনৈতিক স্লোগান, গানের মতো দৃশ্যশ্রুতি হয় সেখানে-
কোন অপরাধ বলো, সিঁড়ি থেকে
নেমে এসেছিলো লাল নদী?
কোন অপরাধে বলো, রাতের আকাশে আজও
নক্ষত্রের ভেজা চোখজ্বলজ্বল করে?
(অপরাধ ১৯৭৫ / চরণের হেঁটে যাচ্ছে মুন্ডূহীন, ২০২০)
অথবা,
বামপন্থী শুনলেই কোনো মনে জাগে এতো ভয়!
বাম যদি মন্দ তবে বামে কোনো মানবহৃদয় ?
(কাল মার্কস জেনিকে যা বলতে পারতো / প্যারিসের নীলরুটি, ২০০১)
উত্তরাধুনিক কবিতায় মিথের ব্যবহার সাধারণ একটি বিষয়। ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায় এ সাধারণ বিষয়টি আবিষ্ট হয়েছে নাটকীয়তা গুণকে সঙ্গী করে। সরাসরি মিথের উৎসে গিয়ে নিজের মতো দৃশ্য সৃজন এবং সে দৃশ্যে সংলাপের মতো গল্প বলে তিনি তাঁর প্রায় কবিতাকে করেছেন নাটকীয় কৌতূহলময়, উৎকণ্ঠাধর্মিতায় দ্বিমাত্রিকতার পরিতুষ্টিতে। যেন কবির সঙ্গে একজন নাট্যকার একই সমান্তরালে হেঁটে যাচ্ছেন। যেমন-
ফুল্লরা বৌ ফুল্লরার বৌ গাঁও গেরামের ঝি
তোমার নাতি গঙগাঘাটে ঈশ্বরিণীয় মাঝি
দেবী দিলো পয়সা বিনে ঈশ্বরীর বর
দুধমাখা ভাত কাকে খেলো, সন্তানেরা মর
দুধকলাতে পুষেছিলাম মা-মনসার বিষ
ও দেবী তোর সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব অহর্নিশ।
(ঈশ্বরী পাটনীর বংশধর / অর্ধেক রয়েছি জলে, অর্ধেক জালে, ১৯৯৯)
বাংলা কবিতার চিরন্তর শাশ^ত রূপ প্রতিচ্ছবি গ্রহণ করেছে নিয়ত। চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞানের জোরালো প্রভাবে ময়ুখ চৌধুরীর কবিতার ঘাটের ঠিকানা পাল্টে গিয়েছে বার বার। খোলস ছেড়ে জন্ম নেওয়া শামুকের পুনরায় খোলস যাত্রার মতো। শব্দ ব্যবহারে নিজস্ব নির্মাণে মনোযোগ বেশি লক্ষণীয় তাঁর কবিতা। ব্যবহার করেছেন প্রায় সকল অনুষঙ্গের শব্দ-ধর্ম,রাজনীতি, পুরাণ, কিংবা পুরোনো শব্দের নতুন ব্যবহার আমাদের মাঝে তৈরি করে মনোহারী আঙ্গিক। শব্দ বস্তুকেন্দ্রিকতায় বন্দি হয় জীবনদৃষ্টির ব্যঞ্জনায়-
আদি নেই, অন্ত নেই, শব্দ ছিলো, শব্দ আজও আছে
শব্দহীন ডিমের ভিতর।
এমন কি জিরাফে আছে, কিন্তু কম শব্দজয়ী কান;
সে-দায়িত্ব মহাবিশ্ব কবিদের ওপরে চাপান।
কেননা তারাই জানে লুট করে শব্দের হৃদয়
কিভাবে কেমন করে কৃঙ্গার রমণে তাকে
অন্তঃসত্ত্বা করে তুলতে হয়।
(শব্দের গল্প / আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে, ২০০২)
কবিতায় অলঙ্কার ব্যবহার কিংবা চিত্রকল্প নির্মাণে কবিদের বিকাশক্রমের দ্বান্দ্বিকতায় থাকতে হয়। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সমাজবিদ্যা বা অর্থনীতি, নৃতত্ত¡ বা রাষ্ট্রনীতি, ধর্ম কিংবা ভাষা বিজ্ঞান, লোক সংস্কৃতি ইতিহাস-সবই ময়ুখ চৌধুরীর নিজস্ব অভিধানের পৃষ্ঠা। এ মহিমা তাই তাঁর কবিতায় অভিষিক্ত করে নতুন অলঙ্কার এবং শিল্পৈশ্বর্যময় চিত্রকল্প সৃষ্টিতে। তাঁর কবিতা আমাদের যাপিত জীবনকে করেছেন অলঙ্কারের উপাদান-উৎস। অনুধাবনীয় পংক্তিগুচ্ছ-
এইবার শোনে তুমি দুটো কথা খুব সোজাসুজি
৭৩ সাল থেকে কাফনের গল্প আমি বুঝি।
খুবই সন্তর্পণে আসে, অন্ধকার গোলাকৃতি পায়ে,
তবুও মেশাই চিনি দু’চামচ এক কাপ চায়ে,
ভাতের থালার পাশে এখনও সাজাই শাদা নুন,
প্রতিটি ভোরের প্রেমে প্রতিরাতে হতে পারি খুন,
তামাক পাতার গন্ধে নিকোটিন মেখে ভরি ঘর,
অগ্রিম ঢুকিয়ে রাখি এই ঘরে দূরের কবর,
‘মানুষ মরণশীল’ জৈববাক্য ভাঙ্গে কারুকাজ,
হাস্নাহেনার সঙ্গে লোবানের যুদ্ধ হতে আজ।
(দূরবর্তী বিপদ সংকেত / পলাতক পেন্ডুলাম, ২০১৫)
ময়ুখ চৌধুরীর কবিতা যাপন তাঁর কবিতাভুবনের অনন্য অবলম্বন। কবিতায় এ কবিতা যাপন বিষয়াংশের মতো চাপ এবং ছাপ দু’টোই উত্তাপ ছড়িয়েছে যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কবিতাযাপনের দৈনন্দিন কবিতার পংক্তি আমাদের অভিজ্ঞতাকে নতুন করে জাগ্রত করে, নিয়ে যায় নতুন জীবনের কাছে। দূরের কোনো বন্দরে পৌঁছে যাওয়ার মতো আমরা পরিচিত হই অপরিচিত এক আনন্দলোকে। এ সুচিহ্নিত যাত্রাপথের নোঙ্গর-
কিছু মেঘ নিয়ে গেছ, আকাশটা রেখে গেছ জানালার ফ্রেমে
শপিং ব্যাগের কোণে পড়ে থাকা এক টুকরো মেঘ
বালিশের তলায় রেখেছ, তাই থাক
আপাতত স্নান সারো, বেগুনি টাওয়েল মুড়ে ছবি আঁকো
ভেজা আয়নায়
তোমার মসৃণ অভ্যুত্থান
ঢুকে যাক পাখির বাসায়, রাত হলে
বালিশের গন্ধে ডুবে দাও, সেখানে
মাটির শব্দ পাহাড় কাটার
আবার সকাল আসে, আবার সকাল ভাসে
রোদের বালিশে
তবু কেন এই বিষণ্ণতা!
(কষ্ট বেড়াতে গেছে / ক্যাঙ্গারুর বুকপকেট, ২০১৬)
মানুষের জীবনে দুর্জ্ঞেয় রহস্যের একটি প্রভাব আছে। কবির কবিতায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং কবি সৃষ্টি করেন রহস্যময়ী প্রকৃতির মধ্যে নিজস্ব এক প্রতিবেশ- যেখানে স্ববিরোধিতার শেকড় নিটোল গীতিময়তায় কবিতার সঙ্গে হয় যায় একমাত্র একাত্মতা। যা, দ্বন্দ্বময় যুগপরিবেশ দ্বিধান্বিত কাল-ধারণ করে নান্দনিকতা ও জীবনময়তায় উত্তীর্ণ হয়। শৃঙ্খলমুক্তির আকাক্সক্ষাই কবিকে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয় স্বপ্নবিহল জগতে। নিখোঁজ হওয়ার এ অনুসন্ধান কখনো থেমে যায় না। এমনই উদাহরণ নির্মিত হয়েছে অসামান্যতায় এ কবিতায়-
মনে আছে সেই রাত-
চাঁদের আলোতে পুড়ে ছারখার হয়েছিলো ঘর?
মনে পড়ে সেই চোখ-
আলোর পিপাসা নিয়ে আগুনকে ভালোবেসেছিলে ?
মনে পড়ে সে দুপুর-
খোঁপাবন্দী মেঘ থেকে বৃষ্টি চেয়েছিলো?
কি এমন ছিলো, বলো,
সেদিন না হয় তুমি ঘড়ির দুইটি-
ডানা বাতাসে উড়িয়ে দিতে-পাখি।
(ঘড়ি ও একজন চন্দ্রমল্লিকা / তোমার জানালায় আমি জেগে আছি চন্দ্রমল্লিকা, ২০০০)
ময়ুখ চৌধুরীর কবিতার মনস্তত্ব তাঁর প্রায় প্রতিটি কবিতায় বেশ সক্রিয়। আভিষ্ট এক মনোবৃত্তি যেন তাঁর কবিতার কাঠামোতে আত্মগত শ্রেণীতে বিরাজমান। এই মনোবৃত্তির অন্তরালে সক্রিয় ব্যক্তি অভিমান মিশে আছে। নিজেকে নিজের মাঝে একটি বিশিষ্ট স্থান করে দেওয়াই কবির নির্মিত পরিকল্পনা। সৃষ্ট মনোসংকট বার বার কবিতাকে পাঠকের নিকট করেছে নক্ষত্র পর্বের দর্শক। ময়ুখ চৌধুরীর সুদীর্ঘ কাব্য জীবনের একটি উদাহরণ-
আমি তার কাছে রয়ে যাবো
যেখানে সে খুশি চলে যাক।
কথা ছিলো কথা আজও আছে,
নীরবতা ছিলো, আজও থাক।
(কথাছিলো / কালো বরফের প্রতিবেশী, ১৯৮৯)
শ্রুতকীর্তি একটি স্মারক যা কবিতার অত্যুজ্জ্বল পরিচয়ই নির্দেশ করে। অনুভূতির শোভা এবং আবেগের দ্যোতনা রূপান্তরিত হয় শব্দ যা সাদৃশ্য অতিক্রমী হয়ে আমাদের সামনে কবিতায় রূপ লাভ করে। ইন্দ্রিয় নির্ভর চিত্রকল্পের মতো পাঠকের সামনে মেলে ধরা কবিতার ইন্দ্রজালে বিমোহিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায়। জন্মোত্তর কবিতা যাপনের জীবনে কবির আমৃত্যু সভাপতিত্ব দেখতে পাই আমরা প্রকৃতির এই বিমিশ্র সভায়। হয়তো তাই বলছেন-
সাঁতার কাটবে বলে কোনো এর স্বরচিত নদী
পায়ে পায়ে একদিন পাহাড়ের কাছে এসেছিল।
পাহাড় দো-ফাঁক হয়ে রাস্তা করে দিয়েছিল তাকে।
হঠাৎ কী জানি হলো
নদীটা গুটিয়ে গেল শামুকের কঠিন খোলসে।
কাটা পাহাড়ের মাংস
কে দেবে সেলাই করে শুনি।
(কাটা পাহাড়/ জারুল তলার কাব্য, ২০১৮)
প্রকৃত কবিরা জীবনে প্রতিটি অনুসঙ্গকে কবিতার বিষয়ের অন্তর্গত করে তুলতে সক্ষম। অভিব্যক্তিবাদী শিল্পীর মতো ময়ুখ চৌধুরী অন্তগূর্ঢ় চৈতন্যের দ্বারোদঘাটন করতে পেরেছেন তাঁর প্রতিটি কবিতায়। প্রকাশ করেছেন কম, লিখেছেন বেশি। ফলে সাধনার ঊর্ধ্বমুখি প্রকরণ বিস্ময়কর ভাবে বিমূর্ততা পেয়েছে কবির কাব্য সাধনায়। গতশতকের নবীন শিল্প আন্দোলন ‘এককালীনতা’ ময়ুখ চৌধুরীর কবিতায় বিভিন্ন পরিসরে উদ্ভাসিত হতে দেখি আমরা। সৌন্দর্য তত্ত্বের নিমগ্নতায় তাই তাঁর কবিতাযাপন বার বার আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। কবির দায়িত্ব তাঁর সময়ের, কালের এবং মানুষের গভীরতম উপলব্দিকে এবং অন্তগূর্ঢ় গোপন চিন্তাকে পংক্তির ফ্রেমে বাঁধাই করা। বিশ্বাস-সংশয় কিংবা আনন্দ-বেদনার অভীপ্সাকে প্রকাশ করা-এমন রূপ সৌষম্যের কবিতা ভুবনের পাঠক হওয়াও যেন অপার এক অভিজ্ঞতার সমর্থন। কবি ময়ুখ চৌধুরীর অপূর্ব দীপ্তির এ প্রকাশময়তা-ভাবী পাঠকদেরও তাঁর উঠানে একত্রিত করবে ভাব ও বৈভবতায়।