ম্যাথুজের মতো দুর্ভাগা যারা

8

 

মাইলফলক ছুঁতে দরকার ছিল আর একটিমাত্র রান। নিজের দ্বিতীয় দ্বিশতক উদযাপনের উপলক্ষ ছাপিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলার সুযোগও ছিল। পারেননি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। নাঈম হাসানের বলে সাকিব আল হাসানকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১৯৯ রানে। দুর্ভাগাই বলা যায়! ৯৯ ও ১৯৯ রানে আউট হওয়ার তিক্ত স্বাদ পাওয়া প্রথম ব্যাটারও এখন শ্রীলঙ্কান এ তারকা।
টেস্টে নড়বড়ে নব্বইয়ে স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া ব্যাটারদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। শতক থেকে একরান দূরে থেমেছেন ৯২ জন। দ্বিশতকের কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকের কাছে গিয়েও পারেননি ম্যাথুজের মতো আরও ১৩ জন, ইতিহাসে ১৯৯ রানে আটকে যাওয়া ব্যাটার এখন মোট ১৪ জন। ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থামা দুর্ভাগাও আছেন দুজন, মার্টিন ক্রো ও স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান।
চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে একাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ম্যাথুজ। টাইগারদের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক টেনে নিয়েছেন দেড়শতে, এগোচ্ছিলেন আরেকটি দ্বিশতকের পথে। শেষঅবধি পারেননি, ডাবলের থেকে মাত্র এক রান দূরে ফিরেছেন। শ্রীলঙ্কান ব্যাটারের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস অপরাজিত ২০০-ই থাকল।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে তখন চলছিল ১৫৩তম ওভার। বোলিং প্রান্তে থাকা ফাইফার নাঈম। ওভারের শেষ বলটি কিছুটা ঝুলিয়ে দেন ডানহাতি অফস্পিনার। বলটি স্লগ করতে চেয়েছিলেন ম্যাথুজ। ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় ক্যাচ যায় স্কয়ার লেগে থাকা সাকিবের তালুতে। প্রতিরোধী ইনিংসটি থামল ১৯৯ রানে।
ম্যাথুজের মতো এমন দুর্ভাগাদের তালিকায় এমন দুজনও আছেন, যারা ১৯৯ রানে অপরাজিত থাকার দুঃখ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। ২০০১ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার অপর পাশে বসে দেখেছিলেন সতীর্থদের যাওয়া-আসা। জিম্বাবুইয়ান কিংবদন্তিকে সেদিন ৪৭০ বলে অপরাজিত ১৯৯ রানেই খুশি থাকতে হয়েছিল। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে আর কোনো সতীর্থকে সঙ্গী হিসেবে পাননি কুমার সাঙ্গাকারা, থাকেন ১৯৯ রানে অপরাজিত।
দুর্ভাগ্য ১৯৯-এ ড্রেসিংরুমে ফেরাদের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের মুদাসসর নজর, ইউনুস খান; অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু এলিয়ট, স্টিভ ওয়াহ ও স্টিভেন স্মিথ; ভারতের মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ও লোকেশ রাহুল; জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার; ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল; সাউথ আফ্রিকার ডিন এলগার ও ফ্যাফ ডু প্লেসিস; শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়সুরিয়া, কুমার সাঙ্গাকারা ও সবশেষ যোগ হওয়া অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ।