মোবাইল বেচাকেনা নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হয় কলেজছাত্র

39

চকরিয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায় মোবাইল ফোন কেনাবেচা নিয়ে দ্ব›েদ্বর জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তার নাম আসহাবুল করিম জিহাদ (২২)। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসহাবুল করিম জিহাদ পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মকসুদুল করিম বাচ্চুর ছেলে। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় মো. সোহান (২৩) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর কূল ঘেষা গ্রামটিতে মোবাইল চোর চক্রের কয়েকটি সিন্ডিকেট আছে। এসব চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাইকৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক পণ্য এনে তা কমমূল্যে বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। সেজন্য এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘সিঙ্গাপুর মার্কেট’ নামেই পরিচিত। গত কয়েক দিন আগে আসহাবুল করিম জিহাদ ওই ‘সিঙ্গাপুর মার্কেট’ থেকে একটি মোবাইল ফোন ক্রয় করে। মোবাইল ফোনটি চার্জে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা ফিরিয়ে দিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে টাকা চায় জিহাদ। কিন্তু চোরাই মোবাইল বিক্রি চক্রের সদস্যরা তাতে রাজি হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার চোর চক্রের কয়েকজনকে পেকুয়া থানা এলাকায় পেয়ে তাদের মারধর করে আসহাবুল করিম জিহাদ ও তার বন্ধুরা।
এ ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ে সিঙ্গাপুর মার্কেটখ্যাত কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকায় যায় জিহাদ ও তার দুই বন্ধু। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে চোর চক্রের সদস্যরা আসহাবুল করিম জিহাদকে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এ সময় জিহাদের সাথে যাওয়া দুইবন্ধু মাতামুহুরী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।
জিহাদকে ছুরিকাঘাতের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় মো. সোহান নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় লোকজন। পরে আহত আসহাবুল করিম জিহাদকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জিহাদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
রাতে হাসপাতালে নিহত জিহাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিহাদের বুকে চারটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। মাথায়ও কোনো ভারী জাতীয় বস্তুর আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ছাড়া বুকের এক পাশ, পিঠ ও ডান হাতে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল ফোন কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় কলেজছাত্র আসহাবুল করিম জিহাদ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোহান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহত কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত জিহাদের নিকট আত্মীয় জয়নাল আবেদিন জানায়, ময়না তদন্ত শেষে শনিবার (গতকাল) বাদে আছর পেকুয়া স্টেডিয়াম মাঠে জিহাদের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।