মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ৫ জন গ্রেপ্তার

15

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর চান্দগাঁওয়ের অনন্যা আবাসিকে ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া কলেজছাত্র শাওনের লাশের পাশে পড়েছিল একটি মোবাইল ফোন। পুলিশ ওই মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে খুনের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ইমতিয়াজ আলম মুরাদ (২১), আশহাদুল ইসলাম ইমন (২৪), মো. তৌহিদুল আলম (২৩), মো. বাহার (২২) ও মো. আলমগীর (৩০)। এর মধ্যে বাহারের কাছ থেকে নিহত শাওনের কাছ থেকে লুট করে নেয়া ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজের
স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাওন বড়ুয়া (২৩) পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্টের ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। ফটোগ্রাফি জগতের পরিচিত ‘বড়ভাই’ জনির মাধ্যমে গত সোমবার দুপুরে শাওনের মোবাইলে কল করে মোহরার একটি কমিউনিটি সেন্টারে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কাজ আছে বলে ফাঁদ পাতে ঘাতক চক্র। পাকাপাকি কথার পর বিকাশের মাধ্যমে পাঁচশ টাকা অগ্রিমে কাজ নিয়ে নেন শাওন। তখনও কি জানতেন সেটাই কাল হবে তার?
পূর্বপরিচিত আরেক বড়ভাইয়ের কাছ থেকে বেশি ধারণক্ষমতা ও বহুমুখি সুবিধাসম্বলিত ক্যামেরা সংগ্রহ করে শাওন ওইদিন সন্ধ্যায় বেরিয়ে যান ভেন্যুর উদ্দেশ্যে। তবে নির্ধারিত ভেন্যুতে প্রোগ্রাম হচ্ছে না জানিয়ে শাওনের বাইকে চেপে তাকে অনন্যা আবাসিকের ভেতরে নিয়ে যায় মুরাদ নামে ঘাতক চক্রের এক সদস্য। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন ইমনসহ চক্রের আরও কয়েকজন। সেখানে পৌঁছার পর চা-নাস্তা খাওয়ার কথা বলে শাওনকে অপেক্ষাকৃত জনশুন্য এলাকায় নিয়ে যান তারা। নিরিবিলি পরিবেশে এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে ধারালো ছোরা ধরে ক্যামেরার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। ব্যাগ নিতে বাধা দেয়ায় অভিযুক্ত মুরাদ শাওনের মাথায়, বুকে, পিঠে ও বাম পায়ের রানের অংশসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাত করে। এরপর শাওনের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে সকলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশ। মোবাইলের কলরেকর্ড যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে বাহার সিগন্যাল এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমনের তথ্যে বাকিদের নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যারা ফটোগ্রাফি করেন তারাই এই ঘাতক চক্রের টার্গেট। বিভিন্ন মাধ্যমে নম্বর সংগ্রহ করে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়াই তাদের কাজ। যে নম্বরগুলো ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের ফাঁদ পাতা হয়, তার বেশিরভাগই ছিনতাই করা মোবাইল। ঘটনাস্থলে পাওয়া অপরাধীদের মোবাইল ফোনে আরও অনেক ফটোগ্রাফারের নম্বর পাওয়া গেছে। ধারণা করা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত আছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে চান্দগাঁওয়ের অনন্যা আবাসিক এলাকার একটি সড়ক থেকে কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শাওন ওমরগণি এমইএস কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের শীলঘাটা এলাকার টিপু বড়ুয়ার ছেলে। পড়ালেখার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শাওন।