মোবাইল গেমিংয়ের বাজারে ঢুকছে বাংলাদেশ

10

গেম ডেভেলপমেন্টে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলারের বৈশ্বিক মোবাইল গেমিং শিল্পে পদচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশের গেমিং ডেভেলপেমন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া দুই-তিনজন মিলে গেম ডেভেলপমেন্ট করছেন কেউ কেউ। কেউবা কোনও বিদেশি বড় গেমিং ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ভিডিও গেমস নির্মাণ ও ব্যবসা সংশ্নিষ্ট কাজে যুক্ত রয়েছে। গেমিং বাজার ধরতে দেশে গড়ে ওঠা গেম ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উল্লেখযোগ্য- সুইডেনভিত্তিক মোবাইল গেমস নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্টিলফ্রন্টের অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান উল্কা গেমস লিমিটেড, রাইজ আপ ল্যাবস, আলফা পটেটো, ফ্রি পিক্সেল গেমস, থান্ডার গেমস।
চলতি বছর ৭৫০ কোটি টাকায় ভারতের মুনফ্রগ ল্যাবস ও এর মালিকানাধীন ঢাকাভিত্তিক বাংলাদেশি গেমিং প্রতিষ্ঠান উল্কা গেমস লিমিটেড অধিগ্রহণ করে সুইডিশ গেম নির্মাতা স্টিলফ্রন্ট গ্রুপ। জনপ্রিয় গেমস লুডু ক্লাব, স্ম্যাশ ক্রিকেট, তিন পাত্তি গোল্ড, ক্যারাম গোল্ড, ষোলগুটি ও আড্ডা নির্মাণ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বেসিস সূত্রে জানা যায়, গেমসের বিশাল বাজার ধরতে ভিডিও গেমস নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ডেভেলপার তৈরিতে ২৮১ দশমিক ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মোবাইল গেমস অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গেমস ও অ্যাপস তৈরির পাশাপাশি দেশের ১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে গেমস ডেভেলপার হিসেবে তৈরিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ। গেম ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছেও ভিডিও গেমস দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অথচ সম্ভাবনাময় এই খাতকে এগিয়ে নিতে এখনও কোনও নীতিমালা গড়ে উঠেনি।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ভিডিও গেমস শিল্প থেকে কোটি কোটি ডলার আয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ‘ভিডিও গেমস গাইডলাইন’ নীতিমালা তৈরির বিকল্প নেই। যুগোপযোগী নীতিমালা থাকলে ডেভেলপারদের যেমন কোন ধরনের গেমস তারা বানাতে পারবেন সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকবে, তেমনি তরুণ প্রজন্মকেও সুরক্ষিত রাখা যাবে।
এ প্রসঙ্গে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভিডিও গেমিংয়ে আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিনামূল্যে আমরা প্রায় ১০ হাজার গেমস ও অ্যাপস ডেভেলপার তৈরি করেছি। তাদের অনেকেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করছেন। মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এ খাতের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় ভিডিও গেমিং নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেবো আমরা।
বেসিস সভাপতি আলমাস কবীরের মন্তব্য, বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ও গেমস ডেভেলপার তৈরি হচ্ছে। এ খাতে আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তরুণদের সুরক্ষায় রেখে কীভাবে এই খাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি তা বের করতে হবে। এক্ষেত্রে গেমস গাইডলাইনই হতে পারে রক্ষাকবচ।
উল্কা গেমসের প্রধান নির্বাহী জামিলুর রশিদের একই মন্তব্য, গেমিং শিল্পকে এগিয়ে নিতে একটি সরকারি নীতি থাকা জরুরি। নীতিমালা হলে গেমার ও ডেভেলপার উভয়ের জন্যই লাভ। ডেভেলপার জানবে কোন ধরনের গেম ডেভেলপ করা যাবে। একইভাবে কোন গেম কে কতক্ষণ খেলতে পারবে কিংবা গেম খেলে সর্বোচ্চ কত অর্থ খরচ করা যাবে তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা থাকবে। বাংলাট্রিবিউনের খবর