মোদীর সফর তৌহিদী জনতা মানবে না

54

‘দিল্লীর মুসলমানদের রক্ত না শুকাতেই বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদীর সফর এদেশের তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না’ বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা। গতকাল শুক্রবার জুমা’র নামাজের পর নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে এবং নগরের ওয়াসার মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
সমাবেশে ইসলামী সংগঠন দু’টির নেতারা মোদীর আমন্ত্রণ বাতিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহব্বান জানিয়ে বলেন, আপনি মুসলিম দেশের প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী। আপনার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি। তার জন্মশতবার্ষিকীতে কাবা শরীফের ইমাম-খতিবকে এনে তার রূহের মাগফিরাতে দোয়া করুন। আমরা এবং দেশের জনগণ আপনার প্রতি সমর্থন জানাবো। তা না করে যদি ভারতের মোদীকে আনেন, তবে বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে কষ্ট দেয়া হবে, কারণ তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের সাড়ে ৭ কোটি মুসলমানের অভিভাবক।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, মোদি আমাদের বন্ধু না, মোদি-অমিত সরকার বিজেপি ও আরএসএস এর বন্ধু। তারা আর এসএস এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। আজ ভারতের সমস্ত মানুষ ক্যাব, এনআরসি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। সেই একই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শাহীনবাগের মানুষ অনশনে বসেছিল। ৫৫ দিন পর্যন্ত এ অনশন চলে। ট্রাম্প যখন ভারতে আসে মোদি-অমিত শাহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ‘গুলি মারো সালে কো’ বলে হুঙ্কার দেয়। তার হুঙ্কারের পর থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ দিয়ে দিল্লির মুসলিম বসতির উপর অত্যাচার, নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, মসজিদ ভাঙ্গা, মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে শত শত মুসলিমকে হত্যা করা হয়। তারা আগামি ১৭ মার্চ মোদির আগমন প্রতিরোধ করতে শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মাওলানা মাঈনুদ্দিন রূহী বলেন, দিল্লিতে মুসলমানদের বাড়ি, ঘর, দোকান লুট করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে, মা-বোনদের ঘরছাড়া করা হয়েছে। কাশ্মীরে মোদী সরকারের নির্দেশে জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে। মোদীর নেতৃত্বে গুজরাটে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। আজ পরিষ্কার মোদী একজন রক্ত পিপাসু সাম্প্রদািয়ক ব্যক্তি। তিনি ভারতের ঐক্য চান না। যদি তিনি বাংলাদেশে আসেন, তাহলে আন্দোলনের আগুন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়বে।
মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, মোদী ভারত থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করতে চান। তার সহযোগিতায় মিয়ানমারে মুসলিম নিধন হয়েছে। গুজরাটের গণহত্যার আসামি মোদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওআইসিসহ মানবতাবাদী সকল রাষ্ট্রের প্রতি আহব্বান জানাই।
মাওলানা আশ্রাফ আলী নেজামপুরী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে মোদীকে নামতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে সারাদেশ থেকে তৌহিদী জনতা লং মার্চ করে ঢাকা বিমানবন্দর ঘেরাও করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় মোদীর কোন ভূমিকা ছিল না, ইন্দিরা গান্ধীই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে অবদান রাখেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা আলী ওসমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী। বক্তব্য রাখেন হাজী মাওলানা মুজাম্মেল হক, মাওলানা আতাউল্লাহ, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জিয়াউল হাসান, অধ্যাপক খুরশিদ, মাওলানা সরওয়ার, মাওলানা মনসুর, মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা তকি ওসমানী, মাওলানা ওসমান কাছেমী, মাওলানা আবু তাহের, কারী ফজলুল করীম জিহাদী, মাওলানা এম এ আবুল কাসেম, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, হাফেজ ইয়াছিন, মো. শোয়াইব, মাওলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন, মাওলানা শাহেদ, মাওলানা কারী মুবিন প্রমুখ।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সংগঠনের নগর সভাপতি মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মাতাব্বর, নগর সেক্রেটারী মুহাম্মদ আল ইকবাল, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক দিদারুল মাওলা, নগর জয়েন্ট সেক্রেটারী ডা. রেজাউল করীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি তামবীর হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন হাওলাদার, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি নোয়াব মিয়া, ডা. মো. ফরিদ খান, মাওলানা তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।