মোগলটুলীতে অন্ধকারে অর্ধশতাধিক পরিবার

17

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অন্ধকারে আছে নগরীর মোগলটুলী এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অভিযানে একটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় আলোহীন অবস্থায় আছে এসব পরিবার। ভবনটিতে মোট ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। গত সোমবার ভবনটির অনুমোদনহীন কিছু অংশ উচ্ছেদ করে সিডিএ। ঐ সময় থেকে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা বেগম মহিউদ্দীন বলেন, ‘হঠাৎ করে আমাদের ভবনে সিডিএ অভিযান পরিচালনা করেছে। এর আগে আমরা কিছু জানতাম না। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে, পানিও নেই। বাসায় বয়োবৃদ্ধ লোক আছেন, বাচ্চা আছে। সবাই আমরা অন্ধকারের মধ্যে আছি। বস্তির লোকজনকেও তো এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিডিএ নিশ্চয় নিয়মিত তদারকিও করেছিল। ভবনটিতো একদিনে হয়নি। এখন তারা ভবনটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা ভবনে আছি, আমাদের তো কোন অপরাধ নেই। আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ কেন বন্ধ করা হবে?’
সিডিএ’র অভিযোগ, দশতলা অনুমোদন নিয়ে মোগলটুলী এলাকায় মোহাম্মদ জানে আলম ১২তলা ভবন তৈরি করেছেন। যদিও জানে আলমের দাবি, তিনি ১৪তলা ভবনের অনুমোদন নিয়েছেন। গত সোমবার সিডিএ’র মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভবনটির অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। অভিযান শেষ হলেও ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ভবনটিতে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। ইতোমধ্যে ভবনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ফ্ল্যাট ক্রেতারা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ৫ দিন কেটে গেলেও পিডিবি ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি। এতে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে এসব পরিবার।
ভবনের মালিক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ‘সিডিএ থেকে আমাকে প্রথমে দশতলা এবং পরবর্তীতে আবার চৌদ্দতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। সে অনুসারে আমি ভবন নির্মাণ করেছি। কিন্তু সিডিএ হঠাৎ করে আমার ভবনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। দশতলার পর বাকিটা অবৈধ বললেও সিডিএ আমার ভবনের নিচের অংশেও ভাঙচুর করেছে। ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ভবনে ১০৮টি ফ্ল্যাটে আমরা অর্ধশতাধিক পরিবার থাকি। এক সপ্তাহ ধরে সবাই অন্ধকারে আছে।’
সূত্রমতে, মোগলটুলী এলাকায় মোহাম্মদ জানে আলম একটি বহুতল ভবন তৈরি করেন। মোট ১৬ গÐা জায়গার উপর আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবণ নির্মাণের জন্য তিনি নকশা জমা দেন সিডিএতে। বিসি কেইস নম্বর ৫৩৪/২/১৫-১৬ মূলে সিডিএ ১০তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদান করে। মোহাম্মদ জানে আলম ২০১৬ সালের ৩১ মে এই নকশা গ্রহণ করেন। নকশা নেয়ার পর তিনি ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেন। মোহাম্মদ জানে আলম নিজেকে ‘সামার হোল্ডিং লিমিটেড’ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে বিক্রি করেছেন ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাট ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তরও করেছেন। এরই মধ্যে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সাথে জড়িয়ে পড়েন বিরোধে। বিরোধের জের ধরে আইন না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ যায় সিডিএতে। বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে গত সোমবার সিডিএ ভবনটিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বন্ধ করে দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। ভবনটিতে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসবাস হলেও অভিযানের পরও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
পিডিবি’র আগ্রাবাদ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসাইন ইমরান বলেন, ‘সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলেছেন, সেজন্য বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সিডিএ থেকে তো আবার সংযোগ লাগিয়ে দিতে বলে নাই। সিডিএ যদি আবার লাগিয়ে দিতে বলে তাহলে আমরা লাগিয়ে দিব।’