মেধাবী তাহমিনার পাশে থানার ওসি

6

সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের মেয়ে তাহমিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাহমিনা। কিন্তু মেয়ের এমন খুশির খবর শুনে মুখে হাসি নেই ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী মিজানের। অভাবের সংসারে যেখানে দু’বেলা ঠিকমত খাবার যোগাতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ঢাকায় রেখে মেয়েকে কিভাবে পড়ালেখা করাবেন- এমন নানা দুশ্চিন্তা তাঁর। কিন্তু তাহমিনার দুশ্চিন্তা অবশেষে শেষ। তাহমিনার দারিদ্রতার বিষয়টি অবগত হয়ে এবং মেধাবি তাহমিনাকে এগিয়ে নিতে পাশে দাঁড়িয়েছেন সীতাকুন্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে তাহমিনা ও তার বাবা-মাকে থানায় ডেকে নিয়ে প্রথমে ফুল দিয়ে বরণ করেন ওসি কামাল উদ্দিন। এরপর তাহমিনার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। একই সাথে আগামিতে তাহমিনার পড়াশোনায় সব রকমের সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাহমিনা সীতাকুন্ড পৌর সদরের দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের ভ্যান গাড়িতে ফল বিক্রি করা মিজানের মেয়ে। সে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ‘বি’ ইউনিটে ১৮১তম ও ‘সি’ ইউনিটে ৩১২তম স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ‘ডি’ ইউনিটে ৭৯তম এবং ‘বি’ ইউনিটে ৪৫৪তম হয়েছেন। তাহমিনা ২০২১ সালে সীতাকুন্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এরপর ২০২৩ সালে একই বিভাগে সীতাকুন্ড সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করে।
ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে চান্স পেয়েছে তাহামিনা। কিন্ত তাহমিনার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই দরিদ্র ও অস্বচ্ছল। এই মেয়েটি ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিবে- এই সুযোগ কেন সে হারাবে? বিষয়টি বিবেচনা করেই আমি আগামিতে তার পড়াশোনার জন্য যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন আমি করে যাবো’।