মেজর খালেদের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি ভুলবে না

6

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ’৭৫এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্দু শেখ মুুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতাদখলকারী খুনি জিয়াউর রহমান দেশে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছিলেন। জিয়া দেড় হাজারের বেশি বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন। তাদেরই চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে এর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন মেজর এস এম খালেদসহ অন্যান্যরা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের পুলিশ মেজর খালেদকে আটক করতে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। ফলে মেজর খালেদ অতি গোপনে ফটিকছড়ি হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান এবং সেখান থেকে থাইল্যান্ড গিয়ে ছদ্মনামে প্রায় ১০ বছর বসবাস করেন। ১৯৯১ এর ৩০ মার্চ তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু নেই। তাঁর আত্মত্যাগ এ জাতি ভুলতে পারবে না।
৩০ মার্চ নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর খালেদ স্মরণসভা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ ইদ্রিসের সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদ, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শামসুজ্জামান, মেজর খালেদের ছোট ভাই সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কুসুম রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ইদ্রিছ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিরণ লাল আচার্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম কক্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজউদ্দিন আহমদ, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, নগর আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও স্মরণসভা কমিটি সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা পংকজ কুমার দস্তিদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবলীগ নেতা এম. নুরুল হুদা চৌধুরী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শামসুজ্জামান বলেন, মেজর খালেদের সাথে ’৭১-এর অনেক আগে থেকেই আমার পরিচয়। তাছাড়া মেজর খালেদ ও আমি উভয়েই পটিয়ার সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। জিয়া হত্যার পর মেজর খালেদকে যখন গ্রেফতারের চেষ্টা হচ্ছিল তখন আমি ও কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু গোপনে সরিয়ে নিয়ে তাঁকে রক্ষা করেছিলাম এবং ভারত হয়ে থাইল্যান্ড চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম।
মেজর খালেদের ছোট ভাই সাইফুল্লাহ মো. সালাউদ্দিন বলেন, আজ অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলতে হয় যারা জিয়া হত্যার পর ক্ষমতায় এসেছেন তাদের কেউ এ স্মরণসভায় আসেননি। ১৯৯১ সালে মেজর খালেদ বিদেশের মাটিতে ইন্তেকাল করেন। এই মহান বীরকে এখন কেউ স্মরণ করে না। এর আগে একবার ১৯৯৪ সালে সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শামসুজ্জামান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম হলে একটা স্মরণসভা হয়েছিল। তিনি বলেন, মেজর খালেদ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন, শেখ কামালের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু ও সহযোদ্ধা ছিলেন এবং একইসাথে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছিলেন ভারতের দেরাদুন মিলিটারি একাডেমিতে।
সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা পংকজ কুমার দস্তিদার এই জাতীয় বীরকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ জানান স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে। বিজ্ঞপ্তি