মূল আসামি কালু ডাকাত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

34

সীতাকুন্ডে ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলম হত্যার মূল আসামি নজির আহমেদ প্রকাশ কালু ডাকাত (২৬) র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের হাবিব রোডস্থ উত্তর বাঁশবাড়ীয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালু ডাকাত বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র।
গত ১৭ অক্টোবর রাতে ডা. শাহ আলম কুমিরাস্থ নিজ চেম্বার থেকে নগরীর বাসায় ফেরার পথে লেগুনা গাড়িতে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। পরের দিন ১৮ অক্টোবর সকালে কুমিরা বাইপাস এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। এ বিষয়ে গত শনিবার নিহতের স্ত্রী আজমিরী শিকদার বাদি হয়ে সীতাকুন্ড থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে র‌্যাব-৭ ছায়া অভিযান শুরু করেন।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মো. ফারুক নামে এক লেগুনা চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুক চট্টগ্রামের জ্যৈষ্ঠ বিচারিক আদালত শিপলু কুমার দে’র কাছে হত্যার দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. মাশকুর রহমান জানান, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে
পারি, চিকিৎসক শাহ আলম হত্যার মূল আসামি নজির আহমেদ উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়ীয়া হাবিব রোডস্থ এলাকায় অবস্থান করছেন। এরই সূত্র ধরে র‌্যাবের একটি অভিযানিক টিম রাতেই ওই এলাকায় যায়। তবে র‌্যাবের উপস্থিতি জানতে পেরে নজির আহমেদ দলবল নিয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে নজির আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতাবস্থায় পড়ে থাকেন। পরে সীতাকুন্ড মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার লেগুনাচালক ফারুক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি হত্যার মূল আসামি হিসেবে নজির আহমেদ প্রকাশ কালু ডাকাতের নাম উল্লেখ করেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃত লাশটি ডা. শাহ আলম খুনের মূল আসামি নজির আহমেদ প্রকাশ কালু। কালুর বুকে তিনটি ও পেটের বাঁম পাশে একটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।’