মুরাদপুরে দিনদুপুরে পথচারীকে ডেকে ক্ষুর ধরে সর্বস্ব লুট!

5

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর নাসিরবাদ হাউজিং থেকে হেঁটে মুরাদপুর যাচ্ছিলেন সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন। ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন দুপুর একটার কাছাকাছি। মুরাদপুর ফরেস্ট গেইটের বিপরীত পাশে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে দুই জন লোক তাকে উদ্দেশ করে ডাক দেয়। অপরিচিত লোক হওয়ায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে সামনে হাঁটতে লাগলেন। লোকগুলো পুনরায় তাকে ডাকলেন। তখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন বললেন, আপনাকে ডাকছে। নাছির যখন পেছনে ফিরে তাকালেন তখন ওই লোকগুলো তাকে দাঁড়াতে বললেন। নাছির উদ্দিন তখন লোকগুলোকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের সাথে আমার তো কোনো সম্পর্ক নেই, আমাকে কেন ডাকছেন? তাদের আচরণে ভয় পেয়ে তিনি একটি মুদি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়লেন। সাথে সাথে ঐ লোকগুলোও দোকানে ঢুকে গেলেন। পরে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে আসলেন গাড়িতে উঠার উদ্দেশ্যে। লোকগুলোও তার পিছু পিছু দোকান থেকে বের হয়ে আসেন। কাছাকাছি এসে হঠাৎ তাদের একজন পকেট থেকে ধারালো ক্ষুর (নাপিতের ব্যবহার্য ধারালো অস্ত্র) বের করে নাছিরের ঘাড়ে ধরে বললেন, ‘আওয়াজ করবি না, এখানে কেউ কিছু বলবে না। তোর কাছে যা আছে বের কর’। তাদের একজন ক্ষুর ধরলেন, অপরজন নাছিরের শার্ট ও প্যান্টের পকেট হাতিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে চলে গেল। এমন ঘটনায় সড়কে অনেকের চোখের সামনে ঘটলেও তাদের কেউই কিছু বলেনি দুর্বৃত্তদের।
গতকাল মঙ্গলবার এমনই অভিনব কায়দায় ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটি ঘটেছে নগরের ব্যস্ততম এলাকা মুরাদপুরে ফরেস্ট গেইটের বিপরীত পাশে প্রধান সড়কেই। তাও আবার প্রকাশ্যে দিবালোকে। এ সময় চারপাশে অনেক লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ছিনতাইকারীরা উপস্থিত লোকজনগুলোর কাছে পরিচিত হওয়ায় তারা ভয়ে কেউ কথা বলেনি বলে স্থানীয়রা পরে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন পূর্বদেশকে বলেন, দুইজন মানুষ দিনে-দুপুরে ছিনতাই করে আমার সর্বস্ব নিয়ে যাচ্ছে কেউ একটু আওয়াজও করলো না। দোকানে ঢুকলে দোকানদারও কিছু বললো না। যেন আমাকে ঘিরে কোনো নাটক হচ্ছে। আর সড়কে থাকা অন্যান্য লোকজন তা উপভোগ করছেন! তারা আমার পকেটে টাকা-পয়সা যা ছিলো সব হাতিয়ে নিয়ে গেল। কেউ একটা টু-শব্দও করলো না!
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা পূর্বদেশকে বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। ভুক্তভোগী যদি অভিযোগ দেন আমরা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।