মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেটের সেমিফাইনাল আজ ইউসুফ গনি দলের দুর্ভাগ্যজনক বিদায় : কোচের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

8

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ‘ক’ গ্রুপ থেকে দুই সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়ে গেছে আগেই। তবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত কোন কেউই বলতে পারছিল না কারা সেমির টিকেট পাচ্ছে। কারণ ৩য় অর্থাৎ শেষ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে জিতলে ইউসুফ গণি চৌধুরী দলও সেমিফাইনাল রেসে সামিল হচ্ছে, আবু জাফরতো বাদ। হলও তাই। ইউসুফ গণি চৌধুরী জিতে গেল। এবারের সমীকরণ- শেষ ম্যাচে জালাল উদ্দীন আহমেদ জিতলে তারা এবং ইউসুফ গণি সেমিফাইনালে। আর শামসুল আবেদিন জিতলে তিন দলেরই পয়েন্ট সমান। সে ক্ষেত্রে নেট রান রেট এর ভিত্তিতে গ্রæপের টপ টু নির্ধারণ। সে হিসেবে জালাল উদ্দিন যদি ৮০ রানের কমে অলআউট হয় তাহলে তাদের কপাল পুড়বে, তা টপকে হারলে শামসুল আবেদিন-ইউসুফ গণি নেট রান রেট হিসাব। এত গুলো ‘যদি’র ম্যাচটা যে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। আর হয়েছেও তাই।
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ২৮ রান। ১৯ তম ওভারে ইরফানের বলে এলোপাতাড়ি ব্যাট চালিয়ে ২০ রান নিয়ে কঠিন ম্যাচে সহজ জয়ের সম্ভাবনা জাগান অভিজ্ঞ ন্যাটা ব্যাটসম্যান রেজাউল করিম রাজিব ও ড্যাশিং রাইট হ্যান্ডার রতন দাশ। হাতে ৫ উইকেট। দুই অভিজ্ঞ এবং সেট ব্যাটসম্যানের জন্য ৬ বলে মাত্র ৮ রান নেয়া আপাত দৃষ্টিতে কোন ব্যাপারই না। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা অর্থাৎ শহীদ শামশুল আবেদীন দলের পেস বোলার মনিরুজ্জামানের করা শেষ ওভারটিতে প্রথম বলে ওয়াইড পেয়েও ম্যাচের লাগাম ধরে রাখতে পারেন নি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দুই ক্রিকেটার। রতন আউট হয়ে এবং রাজিব স্ট্রাইক হাতছাড়া করায় ম্যাচটিই হাতছাড়া হয়ে গেছে মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এ শুরু থেকেই উড়তে থাকা জালাল উদ্দীন আহমেদ দলের। ক্রিকেট যে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা তা আরো একবার প্রমাণিত হল।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটিতে ৩ রানে হেরে গেছে জালাল উদ্দীন আহমেদ দল। এতে ‘বি’ গ্রæপে জালাল উদ্দীন আহমেদ, শামসুল আবেদিন ও ইউসুফ গণি চৌধুরী এই তিন দলেরই পয়েন্ট সমান হয়ে যায়। তবে হারলেও আগের জয়ী দু’ম্যাচে ভাল রান রেট থাকায় জালাল উদ্দীন আহমেদ গ্রæপ চ্যাম্পিয়ন এবং শামসুল আবেদিন গ্রæপ রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকেট লাভ করে। আর রান রেটের খাড়ায় পড়ে বিদায় নেয় ইউসুফ গণি চৌধুরী দল।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের সেরা সৌখিন মানুষ, রাজকীয় চলাফেরা আর আথিথেয়তার জন্য দেশ সেরা খ্যাতিসম্পন্ন ইউসুফ গনি চৌধুরী দলের দুর্ভাগ্যজনক বিদায়ের জন্য দলের কোচকেই দায়ী করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মানুষ। প্রতিদিন মাঠে বসে ক্রিকেট উপভোগ করেন এমন একজন ক্রিকেটপ্রেমি ক্ষেভের সুরেই বলেন, টিম সিলেকশনে স্বজন প্রীতি আর কোরাম এর কারণেই ভাল দলটি কাক্সিক্ষত ফল পায়নি। তাঁর মতে, টিম ম্যানেজার ইউসুফ গণি চৌধুরী তনয় তানভির আহমেদ চৌধুরী দলের জন্য উদারভাবে দিয়েছেন তবে ‘জেন্টেলম্যান’ দলগঠনে কখনও হস্তক্ষেপ করেন নি। আর এতেই সর্বনাশ করেছে স্বার্থান্বেষী চক্র। টিমের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যসায়িক চিন্তার বশবর্তী হয়ে গত প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা পারফর্মার আর অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে কোচ নিজের কোরামের জুনিয়র এবং অনভিজ্ঞদের বেস্ট ইলেভেনে খেলিয়ে ভাল টিমটার বারোটা বাজিয়েছেন। কোচ অবশ্য একা দায় নিচ্ছেন না, দলের অধিনায়ককেও দল গঠনের সাথে জড়াচ্ছেন। এভাবেই ক্রিকেট প্রশিক্ষকদের টিম ফিলিংস আর ডিস্ট্রিক্ট ফিলিংস না থাকায় চট্টগ্রামের ক্রিকেট দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
মুজিব শতবর্ষ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২১ গ্রæপ লিগের শেষ দিনে ১ম খেলায় ইউসুফ গণি চৌধুরী দল ২ উইকেটে আবু জাফর দলকে পরাজিত করে। উক্ত খেলায় ইউসুফ গণি চৌধুরী দলের খেলোয়াড় তন্ময় পাটোয়ারী দিপু ব্যক্তিগত ২০ বলে ২০ রান এবং ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়। তাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মরহুম আবু জাফর এর ছেলে মাসুদুর রহমান।
দিনের ২য় খেলায় শহীদ শামশুল আবেদীন দল ৩ রানে জালাল উদ্দীন আহমেদ দলকে পরাজিত করে। উক্ত খেলায় শহীদ শামশুল আবেদীন দলের খেলোয়াড় শোয়াইব ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়। তাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন সিজেকেএস এর সাবেক সম্পাদক মরহুম আল্লামা মো. ইকবাল এর ছেলে আবির ইকবাল।
আজ ৩ মার্চ সকাল ৯ টায় টুর্নামেন্টের ১ম সেমিফাইনালে আলহাজ্ব রাশেদ আজগর চৌধুরী দল ও শহীদ শামশুল আবেদীন দল এবং দুপুর ১ টায় ২য় সেমিফাইনালে জালাল উদ্দীন আহমেদ দল ও আব্দুর রশিদ দল পরস্পরের মোকাবেলা করবে। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।