মীর জাফর মরিয়াছে আওলাদ রাখিয়া গিয়াছে !

20

মনসুর নাদিম

গুলনাহার আমার মামাতো শ্যালিকা। খুবই সাদাসিধা জিন্দেগী গুজারা করিতে পছন্দ করিয়া থাকেন। তাহার স্বামী ছাদেক আলী বিলকুল উল্টো গঙ্গা।সরকারি চাকরি করেন। প্রত্যেক মাসে কাপড় জোড়া জুতা জোড়া লাগিবে। গুলনাহার আড়ালে আবড়ালে কহিয়া থাকে ছাদেক আলী বোকাচোদা। সঞ্চয় করেনা। ভবিষ্যতের কথা বিলকুল ভাবেনা। মাগার আমি জানি ছাদেক আলী পাক্কা হিসেবি। গুলনাহারের নামে ফিক্স ডিপোজিট আছে। নিজের এফডিয়ার আছে। অবসরে গেলে পেনশন আছে। সুতরাং তাহার কিসের টেনশন ? নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতেও ছাদেক আলীরা বগল বাজায়। নিত্য পণ্যের মূল্য বাড়িলে সরকার তাহাদের ওপর বিশেষ মেহেরবান হইয়া ভাতা বাড়াইয়া দেয়। ভাতের চিন্তা আর করিতে হয়না। ছাদেক আলীরা সরকারি লোক। দরকারি মানুষ। তকলিফ উঠাইতে হয় বেসরকারি বেদরকারি মানুষ রহমত আলীদের।নামটাই স্রেফ রহমত। বাকি জিন্দেগীতে রহমতের ছিটাফোঁটাও নাই। আজ সকাল সকাল রহমত আসিয়া ড্রয়িং রুমে আমার এন্তেজার করিতেছে। দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য ভারত যাইবে। কিছু সাহায্যের প্রয়োজন। আমার নিকট তেমন অর্থকড়ি নাই। পরিচিতরা সকলেই জানে। তবুও আসিয়া থাকে। আমার ওপর তাহাদের প্রচÐ ভরসা। তাহারা জানে আমার কিছু ধনাঢ্য বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় স্বজন আছেন। যাঁহাদেরকে আমি মাঝে মাঝে বিরক্ত করিয়া থাকি। দুনিয়া আমাকে বোকা সোঁকা ভাবুক, আমি কিন্তু আপনা ইজ্জৎ হাতের তালুতে লইয়া মাগিয়া যাচিয়া বিপন্ন ইনসানদের বাটিয়া থাকি। ইহাতে আর কিছু হোক আর না হোক নিদ্রাকুসুম তেল বিনা নাক ডাকিয়া ঘুমাইতে পারি।মাগার আচানক মছিবত যখন আসিয়া পড়ে তখন দিশাহারা হইয়া যায় মানুষ। আমার শ্যালক বৃক্ষ হইতে পড়িয়া কোমরের হাড্ডি ভাঙিয়া মেডিকেলে কাতরাইতেছে। সিতাকুÐ ট্রাজেডির পোড়া আধ পোড়া রুগীর চাপে ডাক্তারগণ তাহাকে দেখিবার ফুরসৎ পাইতেছেনা। অসুস্থতার দরুন নিজেও যাইতে পারিনাই। ফলে টেলিফোনে খবরাখবর যাহাতক পাইতেছি তাহাতে স্রেফ তাজ্জব বনিয়া আফসোস করিতেছি। আর দুই হাত উপরে উঠাইয়া কহিতেছি- আলাহুম্মা এহদে কওমে বিজ জোয়ালেমিন। আলাহ্ আমার কওমকে হেদায়েত করো। তাহারা বড়ই না-শোকর বান্দা। সরকারি চাকুরি করিয়া নানা সুযোগ সুবিধার অমৃতের পেয়ালা চাটিয়া তবুও অসহায় রোগীদের আত্মীয় স্বজন হইতে ভিখারির মতো হাত পাতিয়া থাকে। ঈমানদারীর সহিত আপনা কর্তব্য পালন না করিয়া হালাল রুজিতে খোশ না হইয়া হারাম খাইয়া দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ করিতে মশগুল। খবরের কাগজে দেখিলাম মর্গ হইতে টাকা ছাড়া লাশ দিতেছেনা। গুলবদন কহিল লিফটে উপরে নিচে যাতায়াত করিতেও টাকা দিতে হইতেছে। ইহা কী মগের মুলুক হইয়া গেল ? সরকারি হাসপাতালের কর্মচারীরা কী শাঁখের করাত হইয়া গেল ? যাইতেও কাটিবে আসিতেও কাটিবে ? এই লুঠেরাদেরকে কী নিয়ন্ত্রণ করা যায়না ? সর্বত্র সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হোক। কঠোরভাবে তাহা পর্যবেক্ষনের জন্য একটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।
সিভিল সার্জন মহোদয়ের নিকট এই অধমের কিঞ্চিৎ গুজারিশ রহিল কোন ছুরতে কোন রোগীর প্রতি জাররা পরিমাণ অবহেলা যেন নাহয়। চট্টগ্রাম মেডিকেলের বিরুদ্ধে আর যেন কোন কিসিমের কৈফিয়ত শুনিতে নাহয়। এতবড় চট্টগ্রাম সিটিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য একটাই মাত্র ভরসা স্থল। ভুক্তভোগীরা কহিয়া থাকেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বিনা উৎকোচে চক্ষু মেলেনা।গাত্রোত্থান করেনা। তাহারা সরকারি বেতন ভাতা পায় যেই দায়িত্ব পালন করিতে তাহা তাহারা আদৌ করেনা। তাহারা আকারে ইঙ্গিতে কোথাও সরাসরি বিপদ্গ্রস্ত রোগীদের নিকট অর্থ দাবি করিয়া বসে বলিয়া এন্তার নালিশ রহিয়াছে। যাহারা বড় ভাই দ্বারা, নেতা দ্বারা কিংবা টাকা দিয়া সেবা কিনিয়া লইতেছে তাহারা তো কোন ছুরতে পুলসিরাত পার হইয়া যাইতেছে। আর যাহাদের ভাইও নাই, টাকাও নাই তাহাদেরকে ফুটবলের মত গড়াগড়ি খাইতে হয়। আমার শ্যালকও দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করিয়া গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল প্রদর্শন করিয়া অনন্ত এক্সপ্রেসের টিকেট কাটিয়া যাত্রীর আসনে বসিয়া পড়িয়াছেন। আচানক দেওয়াল ঘড়িটা থামিয়া গিয়াছে।একযুগ আগে দুবাই হইতে এক দোস্তের নজরানা ছিল এই ঘড়িটা। একই ঘরে থাকিতে থাকিতে মায়া বাড়িয়া গিয়াছে। চাইলেই তুইচ্চ্যা করিয়া ফেলিয়া দেওয়া যায়না। মায়া আজব এক চিজ। যাহারা মেডিকেলে রোগীদের প্রতি নির্মম আচরণ করিয়া থাকে তাহারা যদি এই অপরিচিত মানুষগুলিকে নিজেদের ভাই, ভগ্নি, মা-বাবার নজরে দেখিত তাহা হইলে অবস্থা ও পরিস্থিতি গোলে গুলজার হইয়া যাইত। আকবর মিয়ার তিরোধানের পর আমার এক ছামাজদার পাঠক কমিয়া গিয়াছে। আকবর মিয়া আমার লেখা খুঁটিয়া খুঁটিয়া পড়িতেন লেখার গভীরতা আর কাব্যিকতা লইয়া পাÐিত্যপূর্ণ আলোচনা করিতেন।
আমি, সকিনার বাপ, মাষ্টার সাহেব তন্ময় হইয়া তাহার ব্যাখ্যা শুনিতাম। আল্লাহ পাক তাহাকে জান্নাত নসীব করুণ। আজ কয়দিন ধরিয়া মেঘলা আকাশ। হিমেল বাতাস, থামিয়া থামিয়া ঝড়ো হাওয়ার সহিত বৃষ্টিতে ভিজিয়া ভিজিয়া অন্তরটা কাঁদিতেছে। সিলেট বন্যায় পাবিত হইয়াছে। জনদুর্ভোগ বাড়িয়াছে। মানুষের রান্না করা ভাতের হাঁড়ি ঘরে রাখিয়া নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটিয়াছে। কোন কোন দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সকিনার বাপের সহিত দেখা হইতেই মিঠাকড়া হাসি দিয়া কহিলেন, আজ বড় ইচ্ছা করিতেছে জোর গলায় চিলাইয়া বলি— মার বদি আলম”! হাসি হাসি মুখে কহিলাম, আপনাকে নিষেধ করিয়াছে কে ? একটা চাপা নিশ্বাসে কী যেন ঢাকিয়া কহিলেন — নাহ থাক। একবার কহিয়া বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়িয়া গিয়াছিলাম। এই মুলুকে সব খানে সবকথা বলা যায় না। একসময় গলা ফাটাইয়া সেøাগান ধরিয়াছিলাম— জয়বাংলা। ইহার বাদে অনেকদিন এই সেøাগান মুখে আনিতে পারি নাই। জয় বাংলা কহিলে জিন্দেগীর খতরা ছিল।
এখন জয় বাংলা তাহাদের আওলাদ ফরজন্দরাই বেশি বলিতেছে একসময় যাহারা ইহার বিরোধিতা করিয়াছিল। ৪৭ পূর্ব আন্দোলনে ভারতের সেøাগান ছিল বন্দে মাতরম। আর পাকিস্তানের সেøাগান ছিল, “লড়কে লেংগে পাকিস্তান”। ৭১ এ এই লড়কে লেংগে পাকিস্তানিদের একাংশ জয় বাংলা বলিয়া আপনা মুলুক আযাদ করিয়াছে। এই সেøাগানে অনেক দম আছে। লেকিন পাকিস্তান তথা বিমারিস্তান এর চোরা আশেকেরা ইনসানদের রোগে শোকেও হাসিতে পারে। যতই মন্দ মানুষের মৃত্যু হোকনা কেন কাহারও মৃত্যু সুখের হইতে পারে না। যাহারা শোককে সুখ বানাইতে পারে তাহারা জাতির সহিত মোনাফেকি করিতে পারে তাহা প্রমাণিত সত্য। ৭১’র মীরজাফর এর আওলাদের সংখ্যা ইয়াজুজ-মাজুজ এর মত দ্রæত বাড়িতেছে। ফেসবুকে, ইউটিউবে, এই দেশদ্রোহী মোনাফেকের সংখ্যা দেখিলে অবাক হইতে হয়। কেহ হুজুরের বেশে, কেহ ছদ্ধবেশে, কেহ নিজ গরজে,জাতির মগজ ধোলাই করিতে হাত ধুইয়া পিছে পড়িয়া গিয়াছে। গুজব তাহারা ছড়ায়, উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস তাহারাই দেয়। তাহারা কথায় কথায় আওয়ামী সরকারের পিÐি চটকায়। আবার সরকার প্রদত্ত উপহার উপঢৌকন হাসিমুখে কবুল করিয়া থাকে। মাগার একটা ধন্যবাদ দিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতে দেখিলাম না।অবশ্য যাহারা হালাল-হারাম যাচাই করে না তাহাদের নিকট কৃতজ্ঞতা আশা করাও বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। তাহারাই আবার কোরান হাদিসের অপব্যাখ্যা করিয়া সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করিয়া থাকে। যাহারা মানুষ তাহাদের দুশমন মরিলেও চোখে পানি না আসিলেও মুখে হাসি আসে না। একমাত্র অমানুষেরাই শত্রুর মউতে হাসিতে পারে। কারণ মানুষ নামের এই দ্বিপদী জানোয়ারেরা নিজের ঘরে আগুন জ্বালাইয়া শীত হইতে রক্ষা পাইবার মতলবে থাকে। স্বাধীনতার বিরোধিতা করিয়াও বেশরমের মত পড়িয়া আছে এই মুলুকে। সরকারের দেয়া নানান ছুরতের মওকা গুলি পঞ্চাংগুলি চাটিয়া খাইতেছে। শোকরের ঢেকুর তক দিতেছে না। উল্টা পায়ুপথে বায়ু নির্গত করিয়া বাতাস বিষাক্ত করিয়া দেয়। এই সরকারের উদারনীতির কারণে বেঈমানেরা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হইতেছে। জাতীয় নেতাদের সহিত কৌশলে ছবি উঠাইয়া কাঁচের ফ্রেমে বাঁধাইয়া অফিসে আর ঘরে ঝুলাইয়া নিজের ঝুলন্ত জিন্দেগি টা মুক্তবিহংগ বানাইয়া বেহেশতি সুখ ভোগ করিতেছে। পেছনে দল আছে। নেতার বল আছে। বুদ্ধির কল আছে। তাহারা দলের নাম ইস্তেমাল করিয়া ব্যবসা করিতেছে। রাজনীতিতে তাহারাই নোংরামি আমদানি করিয়াছে। কেন্দ্রীয় নেতার মিটিংয়ে ১০/১৫জন টোকাই আর একটা ব্যানার লইয়া সেøাগান দিতে দিতে দিগবিজয়ী আলেকজান্ডার এর মতো ঢুকিয়া নেতার সুনজরে পড়িবার তামাম কোশিশ জারি রাখে। এইসব পাতি নেতারা কাহাকেও কস্মিনকালেও একটা চাকুরী দিতে পারে না। নিজ এলাকাকে আদর্শ এলাকা বানাইতে পারে না। তাহারা শুধু গ্রুপিং করিয়া মারামারি ফাটাফাটি করিতে পারে।
কিশোর গ্যাং বানাইয়া প্রতিপক্ষকে ধমকাইতে পারে। মূলত এই অযোগ্য লোকেরাই দলের ভাবমূর্তি ম্লান করিতেছে। সরকারের উন্নয়ন সমূহের ওপর জল ঢালিয়া দিতেছে। ইহারাই আওয়ামীলীগ সরকারের হালুয়া রুটির ন্যায্য অংশিদারদের সুকৌশলে হটাইয়া নিজেরা বনিয়া গিয়াছেন একেকজন জি কে শামীম। আফসোস ! অনেক পরীক্ষিত নেতা দলের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করিয়া অন্তরে দেশপ্রেম আর দলের ভালবাসা লইয়া ঘুমায়। আর মৌসুমী নেতারা রাতভর সম্পদের হিসাবে ন্যাস্ত থাকে। যাহারা বঙ্গবন্ধুর আমলে কম্বল চুরি করিয়াছিল তাহাদের উত্তরসূরীরাই এখন করোনা’র ত্রাণ চুরি করিতেছে। উর্দুতে একটা প্রবাদ আছে— চুতিয়া মর গেয়া আওলাদ ছোড় গেয়া ( বোকাচোদা মরেছে ছেলে রেখে গেছে)। মাগার এইটাকে এখন এইভাবে বলিতে হইবে- চোর মর গেয়া আওলাদ ছোড় গেয়া। ( চোর মরিয়াছে উত্তর সূরী রাখিয়া)।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট