মার্চে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় হবে তেলের দামও

13

পূর্বদেশ ডেস্ক

রোজা এবং একই সাথে গ্রীষ্মকাল আসার আগেই বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুতের দামের বিষয়টি কার্যকর করা হবে। মূলত, ভর্তুকি থেকে ধীরে ধীরে বের হওয়ার জন্যই বিদ্যুতের ‘দাম সমন্বয়’ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের দামও মার্চের প্রথম সপ্তাহে সমন্বয় হবে।
এখন থেকে ‘ডায়নামিক প্রাইস’ নীতি অনুসরণ করা হবে। যখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে অথবা কমলে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ কিছুদিন পরপর তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

যে কারণে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে দিতে হয় ছয় হাজার কোটি টাকা। আগামী কয়েক বছর ধরে আমরা এই দামটা সমন্বয় করবো, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে উৎপাদনে অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে, সেখানে সমন্বয় করতে হবে, বলেন তিনি।
আগামী বছর আমাদের নিউক্লিয়ার চলে আসবে। ভারত থেকে কম দামে বিদ্যুৎ আসছে। দুই বছরের মাঝে দুই হাজার মেগাওয়াট সোলার এটার সাথে যোগ হবে। কিন্তু তারপরও যে ভর্তুকিটা রয়ে যাবে, তা ডলারের দামের পার্থক্যের কারণে। সেই কারণেই এই দামটা আমাদের সমন্বয় করা দরকার।
ডলারের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, আমরা যখন কয়লার পাওয়ার প্লান্টগুলো নিয়ে আসছি, সেই সময়ে ডলারের যে ভ্যালু এবং কয়লার যে দাম ছিলো, তা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রতি ডলারে প্রায় ৪০ টাকা পার্থক্য হয়ে গেছে।
যখন কয়লা পাওয়ার প্লান্ট ছিলো, তখন ৭০-৮০ টাকা ধরে ডলারের ভ্যালু করছিলাম। এখন আমাদেরকে সরকারিটার ভ্যালু ধরতে হয় ১১০ টাকা। বেসরকারিটা আরও বেশি দাম। সুতরাং, এই যে দামের তারতম্য, এটিকে আমাদের সমন্বয় করতে হবে।
পৃথিবীর সব দেশেই জ্বালানির দামের ওপর বিদ্যুতের দাম ওঠা-নামা করে। সুতরাং,এটার সাথে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া আর কোনও উপায় নাই, যোগ করেন তিনি।
আমরা এখন খুবই অল্প পরিমাণে (বাড়াচ্ছি)। কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট ৩৪ পয়সা এবং উপরের লেভেলের (সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী) জন্য হয়তো ৭০ পয়সা (বাড়ানো হবে)।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লাইফলাইন গ্রাহক আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ, তারা প্রতি ইউনিটে চার টাকা করে বিল দেয়। উপরের দিকে যারা, তাদের সাত টাকা করে চার্জ হয়। কিন্তু আমাদের গড় উৎপাদন খরচ ১২ টাকা। তাই, সরকারের একটা বড় অংশ এখানে ভর্তুকি হিসেবে যোগ হচ্ছে। এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বেশি বাড়ছে ডলারের দামের পার্থক্যের কারণে।
একবারে দাম বাড়ালে গ্রাহকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, তাই বিদ্যুতের দাম ধীরে ধীরে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা যদি সময়মতো, আস্তে-আস্তে, ধীরে-ধীরে এটার এডজাস্টমেন্টে না যাই, আমাদের টার্গেট হলো, আমরা আগামী তিন বছর এটিকে সমন্বয় করবো। যাতে সহনীয় পর্যায়ে থেকে সমন্বয় হয়, সেটার একটা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। প্রাইসিংটাকে আমরা রি-এডজাস্টমেন্ট করতেছি।