মান ঠিক রেখে শুঁটকি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব

18

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, বিসিএসআইআর’র উদ্ভাবিত জনপ্রিয় খাদ্য শুটকি প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সাগর উপক‚লবর্তী দেশসমূহে শুটকি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। আমাদের দেশে প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির সমস্যার কারণে এ খাদ্য বিষয়ে ভোক্তাদের আগ্রহ দিন দিন কমছে। বাংলাদেশ জ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নিরাপদ খাদ্য অন্তর্ভূক্ত।
তিনি বলেন, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। বঙ্গোপসাগরে বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন এবং প্রজননকালে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নসহ সরকারি বিভিন্ন নীতিমালার কারণে বাংলাদেশে মাছের প্রজনন ও মাছ আহরণের সুযোগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।
শুটকিকরণ প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে বিশেষ করে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহারে এর স্বাদ হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে চেম্বার সভাপতি বলেন, আমাদের শুটকির পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটকি প্রক্রিয়াকরণশিল্প স্থাপনে রোডম্যাপ তৈরির আহব্বান জানান তিনি।
দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) যৌথ উদ্যোগে ‘নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি ও শিল্পস্থাপনে সহায়তাকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ’র সভাপতিত্বে এতে চেম্বার পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), অঞ্জন শেখর দাশ ও মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জেলা সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল সভাপতি মো. টিপু সুলতান শিকদার, মাসুদ ফিশ প্রসেসিং এন্ড আইস কমপ্লেক্স লি.’র এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মো. আবদুল হাই, হিফস এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সিইও সৈয়দ মুহাম্মদ শোয়েব হাসান, কেয়ার কেমিক্যালস’র চিফ কনসালট্যান্ট শ্যামল চৌধুরী, মেরিডিয়ান গ্রুপ’র ম্যানেজার (সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন, রিভারেইন ফিশ এন্ড ফুড প্রসেসিং ইন্ডা. লি.’র ম্যানেজার শেখ মোকাম্মেল হক চৌধুরী ও বিডি সীফুড লি.’র এজিএম (অপারেশন্স) ফারুক উদ্দিনও বক্তব্য রাখেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসিএসআইআর’র অধীনস্থ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রান্সফারের (আইটিটিআই) অফিসার ইনচার্জ এন্ড প্রজেক্ট ডাইরেক্টর রেজাউল করিম। বিসিএসআইআর’র ডাইরেক্টর-চট্টগ্রাম ড. মোহাম্মদ মোস্তফা, এসএসও ড. মো. রকিবুল হাসান, এসও জনাব এসএম রশিদুল ইসলাম ও মিশু আচার্য্যসহ চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
চেম্বার পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন) বলেন, বর্তমানে ফ্রোজেন ফুড ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমতি ও সহযোগিতা দেয়া হলে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে।
অঞ্জন শেখর দাশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশের উদাহরণ দিয়ে ক্যান্ড ফুড এর সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং শুটকি প্রক্রিয়াকরণে পর্যাপ্ত গবেষণার আহŸান জানান।
রকিবুর রহমান (টুটুল) বলেন, সাগর থেকে আহরণকৃত মাছের প্রায় ৬০% নষ্ট হয়। এসব মাছ সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রক্রিয়াকৃত শুটকিতে ফুড ভেল্যু চার্ট সংযুক্ত করা ও মান নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।
বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উদ্ভাবনপূর্বক নতুন পণ্য তৈরিতে সহায়তা করা এবং জনসেবায় তা নিয়োজিত করা বিসিএসআইআর’র মূল কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় শুটকি মাছ উৎপাদনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ড্রায়ার উদ্ভাবন করা হয়েছে। আমাদের দেশে শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ হলেও বর্ষা মৌসুমে অনেক মাছ নষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শুটকির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাই দেশে চাহিদাপূরণ ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টিতে পুষ্টিগুণসম্পন্ন কেমিক্যালমুক্ত শুটকি উৎপাদনে বিসিএসআইআর এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
তিনি এ শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে মন্তব্য করেন এবং তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে অন্য বক্তারা এ শিল্প স্থাপনে সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ, অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত করা, বিদ্যুতের পাশাপাশি ডুয়েল ফুয়েল সিস্টেম বিবেচনা করা এবং মাছের সেল্ফ লাইফ দীর্ঘায়িত করার উপর গুরত্বারোপ করেন।