মানিকছড়িতে কাঁঠাল বাজারে পাইকার সংকট, দাম নিয়ে শঙ্কা

6

আবদুল মান্নান, মানিকছড়ি

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজার মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী বাজারে কাঁঠালের মৌসুমে পাইকারের দেখা নেই! ফলের ন্যায্য মূল্য নিয়ে শংকিত প্রান্তিক কৃষক। মধ্যসত্বভোগীরা এখন কৃষকের ভরসা!। উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজারের মধ্যে অন্যতম মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী বাজার। এ বাজারে উপজেলা ও এর পাশ্ববর্তী রামগড়, গুইমারা উপজেলার একাংশের প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বেচাকেনা হয়। বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাস আম-কাঁঠালের মৌসুম হওয়ায় বাজারে এখন জাতীয় ফল পরিপক্ক কাঁঠালে সয়লাব। কিন্তু বিগত দিনে এই সময়ে বাজারে কাঁঠাল ও পাইকারে জমজমাট থাকলেও এ বছর পরিবেশ অনেকটা ভিন্ন। গত ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন বাজারে গড়ে ১৪/১৫ ট্রাক কাঁঠাল জমায়েত হয়। কিন্তু বাজারে সমতলের পাইকার এখনো আসেনি। ফলে দামও কম। যে কাঁঠাল বিগত সময়ে ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হতো এখন সেই মানের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০/৫৫ টাকায়!। ফলে কৃষক কিংবা বাগান মালিকেরা গাছের কাঁঠাল বিক্রি নিয়ে শংকিত পড়েছেন। বাজারে শতাধিক কৃষক জায়গায়, জায়গায় কাঁঠাল স্তুপ করে রেখেছেন। অথচ বাজারে মধ্যসত্বভোগী ছাড়া কেনার কেউ নেই! এ সময় কথা হয় কৃষক আবদুল মালেক, মংসানু মারমার সাথে। তাঁরা জানালেন এ বছর কাঁঠাল বিপদ ঘটাবে। পঁচনশীল ফল গাছে রাখার সুযোগ নেই। এছাড়া পার্বত্য জেলায় হিমাগারও নেই! ফলে আম-কাঁঠাল,আনারসের মতো রসাল ফল স্টক করে রাখতে না পারায় কম দামে বিক্রি করতে হয়। এতে কৃষকের লোকসানের ঘানি টানতে হয়। বাজার ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম খা বলেন, এখনো সমতলের পাইকারদের ঘুম ভাঙ্গেনি। ফলে এলাকার ২০/২২ জন মধ্যসত্বভোগী তাঁদের সাধ্যানুযায়ী রসাল ফল কিনলেও কৃষকের জন্য সহায়ক নয়। গ্রামে গাছে গাছে প্রচুর কাঁঠাল। বাজারে দাম না থাকায় বাগান মালিকেরা কাঁঠাল কাটছে না। এ সময় মধ্যসত্বভোগী (স্থানীয় পাইকার) মো. জাকির হোসেন বলেন, পাইকার আসলে বাজারে কাঁঠাল স্তুপের জায়গা হবে না। আমরা গড়ে ১৪/১৫ ট্রাক মাল কিনে সমতলে নিচ্ছি। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছি না। ফলে রাস্তা খরচ, বাজার টোল ও গাড়ী ভাড়া পরিশোধ করে তেমন লাভ থাকছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান বলেন, আম- কাঁঠাল, আনারস পঁচনশীল ফল। ন্যায্য মূল্য পাওয়া না গেলে রসাল ফল উৎপাদনে আন্তরিকতা হারাবে প্রান্তিক কৃষক। এতে উৎপাদন কমবে। ভোক্তা তাঁর চাহিদাপূরণে বেগ পাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিউটের উদ্যোগে কাঁচা কাঁঠাল থেকে আচার তৈরি, সংরক্ষণ ও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কৃষকদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাপমাত্রা কমলে সমতলে কাঁঠালের চাহিদা বাড়বে।