মাধ্যমিকে নভেম্বর-প্রাথমিকে ডিসেম্বর

11

 

শিক্ষাক্ষেত্রে একটা কঠিন সময় আমরা পার করছি নিঃসন্দেহে। এই পরিস্থিতি বুঝবার জন্য সহজভাবে শিক্ষাবান্ধব মন-মননের দরকার। দরকার জনগণের শাসন ব্যবস্থা। দেশের কতভাগ মানুষ এই সত্যটা উপলব্ধি করেন আমার জানা নেই। দলীয় কারণে বহুলোক আমার বক্তব্যের পক্ষে মত প্রকাশ করতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে কষ্টের প্রতিবাদ করছেন। কয়েকদিন আগের ঘোষণা নভেম্বরে মাধ্যমিকের পরীক্ষা নিতে হবে ডিসেম্বরে প্রাথমিকের। কি পরীক্ষা নিব বাংলা, ইংরেজি, গণিত। প্রশ্ন হল ডিসেম্বর মাস আবার তারা বন্ধের মধ্যেই থাকবে? শিখবে কি, শিখলাম কি, পরীক্ষা কি, জীবন কোনদিকে?
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং লস বা শিখন ঘাটতির ঝুঁকি বেড়েছে। শিখন ঘাটতির এই প্রবণতা মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি। মার্চে তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি ২৬ শতাংশ থাকলেও আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে আরো বেশি!
শিখন ঘাটতির এ সমস্যার পেছনে আর্থ-সামাজিক অসমতার একটি ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়। বলা হয়েছে, দেশের শিক্ষায় যে বৈষম্য তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে মহামারি। মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ছোট করে দেখার উপায় নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিখন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এর জন্য হয়তো শিক্ষার সময় কিছুটা বাড়াতে হতে পারে। যে কনটেন্টগুলো দরকার, সেশন বাড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে তা শিখিয়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা। করোনায় আর্থিক ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মানবসম্পদের সংকটও গুরুত্বপূর্ণ। পুনর্বাসন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা শিখন ঘাটতি এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
করোনারালীন সময়ে বহু লিখেছি। কোন খবর কারো কাছে পৌছেনি। এখনও বলছি, আবারও বলছি-আপনার সন্তান বিলেতে পড়–ক তবে আমারটাকে দয়া করে শেষ করবেন না। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে অনেকটাই আম গাছের কাছে কাঁঠাল দাবির মতই। তবুও বলি একটু ভাবুন প্রিয় শাসক শ্রেণি!!!