মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে বিকল্প খেলাধুলা

186

আজাদ শাহ্
মাদক হলো এমন বস্তু যা গ্রহণ করলে ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের পরিবর্তন ঘটায়। একটা ড্রাগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে তার রাসায়নিক গঠন বৈশিষ্ট্যের উপর। এই ড্রাগ অপব্যবহারের কারণে রোগী তার রোগের জন্য ওষুধের গুণাগুণ পাওয়ার বদলে হয়ে যায় বিষ। তাই অনেক সময় বিষ স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ করলে হয় ওষুধ, কিন্তু বেশি মাত্রা বা অযথা গ্রহণ করলে হয় বিষাক্ত বা শরীরকে নিস্তেজ করে, মৃত্যু ডেকে আনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূচনা হয়।
অপব্যবহার থেকে অভ্যাস, অভ্যাস থেকে আসক্তি। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও মাদকের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে শুরু হয়। বেশির ভাগই শুরু হয় বন্ধুবান্ধবের সহচর্যে ।মূলত মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই কিশোর-তরুণরা ব্যাপকভাবে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করতে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে এ জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবীরা দিনে দিনে আরোও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদকের নেশা এখন আলো ঝলমলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন এর অবাধ বিচরণ। মাদকাসক্তরা তাদের স্বাভাবিক বিবেক বুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধকে হারিয়ে হয়ে উঠে বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল এক অস্বাভাবিক ব্যক্তি।দেশে মাদকাসক্তির কারণে যুব সমাজের নিজেদের জীবন শুধু বিপন্ন হয় না, এতে গোটা পরিবার বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া ইনজেকশন এর মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে দেশে এইডস আক্রাস্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে বিকল্প খেলাধুলা। খেলাধুলা ও সংস্কৃতির উপর আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশের যুবসমাজের একটি অংশ আজ বিপথগামী কেউ মাদকাসক্ত হয়ে জীবনকে ও পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, অন্যদিকে কেউ জঙ্গি হয়েও দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করতে না পারলে যে কোন সময় তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। মাদকাসক্তি চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজ ও পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।
লেখক : গীতিকার