মাওলানা ভাসানীর স্বপ্ন ছিলো শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা

112

মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানীর ১৪০তম জন্মদিবস উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শহীদ সোহ্রাওয়ার্দ্দী রোডস্থ ব্যারিস্টার সলিমুল হক খান মিলকী মিলনায়তনে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভাসানী অনুসারী পরিষদ, চট্টগ্রাম শাখার সদস্য সচিব, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন প্রেস কাউন্সিলস্ নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, ইজতিহাদ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। আলোচনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, এড. আবদুল মালেক, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রাক্তন ছাত্রনেতা আ.ন.ম নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাদল, গিয়াস উদ্দিন হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মো: নুর, অধ্যক্ষ মুছা সিকদার, এড. রফিকুল মাওলা সুজন, শ্রমিক নেতা মো: রফিক প্রমুখ। বক্তৃতায় প্রধান বক্তা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, মাওলানা ভাসানী শাসকগোষ্ঠীর জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, আধিপত্যবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গণমানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে মুক্তিকামী মানুষকে সংগঠিত ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের তিনি আদর্শ প্রতীক। মাওলানা ভাসানী ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যছিল শোষণহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাওলানা ভাসানী সহ অন্যান্য নেতারা যে সব রাজনৈতিক দল গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে গঠন করেছিলেন- সেই সব দলের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাতাদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী পালনে অবহেলা, অনীহা করেন। তিনি বলেন, ইতিহাস শিক্ষনীয় হয়- হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। ইতিহাস বিকৃতি ও ইতিহাসে হস্তক্ষেপ খেয়ানতের সামিল। মাওলানা ভাসানী ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি ছিলেন নেতাদের নেতা। মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক সহকর্মী অনেকেই ছিলেন যারা ক্ষমতা ভোগ করেছেন পরে মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত অনুসারী তেমন ছিল না। তিনি ভোগবাদী ছিলেন না- ত্যাগী ছিলেন। কারণ ত্যাগই মানুষকে নিঃস্বার্থ, নির্লোভ, নিরহংকার, পরহিতব্রতী ও মানবসেবামুখী করে। বিজ্ঞপ্তি