মাইনীমুখ বাজারে জেলা পরিষদের প্লট বিক্রয়ের অভিযোগ

18

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত মাইনীমুখ বাজারে প্লট বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। যদিও বরাদ্দকৃত প্লটগুলো বিক্রয়ে জেলা পরিষদ ও দ্বিতীয় পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। কিন্তু জালিয়াতি কওে ক্রয় বিক্রয় করছে কিছু দোকানদার। জেলা পরিষদের সাথে শর্ত ভঙ্গ করেছে দোকানদাররা। চুক্তি মূলে জেলা পরিষদ একটি প্লটে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে ২হাজার ৫শ’ টাকা মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দোকানের মেয়াদ ফেব্রæয়ারি ২০২০ হতে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ সাল পর্যন্ত। কিন্তু দেখা গেছে মেয়াদকাল শেষ হতে না হতে চুক্তি ভঙ্গ করে দোকান বিক্রি করে দিচ্ছে দোকান মালিকেরা।
জানা গেছে, মাইনীমুখ বাজার জেলা পরিষদের মার্কেটের দোকান মালিকগণ ভেতরে ভেতরে দোকান প্লট বিক্রি করে দিচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে দোকান মালিকেরা এসব দোকান ৫-৭ লক্ষ টাকা করে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা পরিষদের দোকান প্লট চুক্তি অনুযায়ী দোকান মালিকেরা দোকান বিক্রি তো দূরের কথা দোকান ভাড়া ও দিতে পারে না তারা। আবার অনেকে নিয়ম অনুযায়ী ও চুক্তির শর্ত মতে দোকান ভাড়াও ঠিক মত দিচ্ছে না। জেলা পরিষদের কয়েক কোটি টাকার মার্কেটটি অযত্ন অবহেলায় দিন দিন বেহাল হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীণ এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, জেলা পরিষদের কোটি টাকার সম্পদ পড়ে আছে দেখার কেউ নেই। যে যার মত করে মার্কেটের দোকানগুলো লুটপাট করে খাচ্ছে। দোকান ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্ট করে লেখা আছে এসব দোকানপাট বিক্রি করা যাবে না। এমন কি পরিষদকে অবগত না করে ভাড়াও দেওয়া যাবে না। কিন্তু এখন দেখছি যে যার মত করে দোকান মালিক সেজে ভাড়া দিচ্ছে এবং বিক্রি ও করছে।
অপর দিকে মার্কেটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধের জন্য। এছাড়া মার্কেটের ভেতরে রাত বিকালে চলে মদ ও জুয়ার আড্ডা। মার্কেটের দোকানগুলোয় জেলা পরিষদের কোন তদারকি নেই। যার কারনে যে যার যার মত করে চলে।
জেলা পরিষদ মাইনীমূখ বাজারস্থ দোকান প্লট নং ১০,১১,১২নং প্লট বিক্রি করে মোঃ কামাল সওদাগর, ১৩নং প্লট বিক্রি করে মোঃ আলী সওদাগর ও ১৪নং প্লট বিক্রি করে দিয়েছেন মোঃ ইউছুফ আলী সওদাগর। তবে ১০নং ও ১১ নং প্লট বিক্রেতার নাম জানা যায়নি। যারা দোকান প্লট ক্রয় করেছেন তারা হলেন-প্লট নং ১০ মোঃ রতন মিয়া, প্লট নং ১১ টিটু শীলের মেয়ের জামাই, প্লট নং ১২ মোঃ জামাল খলিফা, প্লট নং ১৩ মোঃ রফিকুল ইসলাম মানিক ও প্লট নং ১৪ মোস্তফা মামুন। এ ব্যাপাওে জানতে চাইলে ১৪নং প্লট ক্রেতা মোস্তফা মামুন মুঠোফোনে জানান, মোঃ ইউছুফ আলী সওদাগর থেকে দোকান ভাড়া নিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মামুন বিক্রয়ের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌকশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, মার্কেটগুলো জেলা পরিষদের নিজস্ব মার্কেট। বাজার ফান্ডের মাধ্যমে নীতিমালা অনুসারে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাইনীমুখ বাজারের দোকান প্লটগুলো জেলা পরিষদের নিজস্ব দোকান। জেলা পরিষদ ও দোকান ভাড়াটিয়ার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানগুলো বেচাবিক্রি তো দূরের কথা জেলা পরিষদকে অবগত না করে দোকান মালিক অন্য কাউকে ভাড়াও দিতে পারবে না। প্লট বিক্রিয়ের বিষয়টি আমরা জানি না। তবে অভিযোগ পেলে যারা বিক্রি করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মার্কেটটি ৩িনতলা তবে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত হয়েছে।
বরাদ্দ পেলে মার্কেটের বাকি কাজগুলো করা হবে। আর মার্কেটে যে সব অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে সে বিষয়ে বাজার পরিচালনা কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারে। যদি বাজার কমিটি অপারগতা শিকার করে সে লক্ষে জেলা পরিষদ ব্যবস্থা নেবে।