মহেশখালীর গভীর অরণ্যে অস্ত্র ও মাদক তৈরির কারখানা

7

হারুনর রশিদ, মহেশখালী

মহেশখালীর পাহাড়ের দূর্গম অরণ্যে অস্ত্র ও মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে হোঁয়ানক ইউনিয়নের পানির ছড়া এলাকার বারইখইল্লা ঘোনার গহীন পাহাড়ের ভেতর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর পর একটি দেশে তৈরি অস্ত্রের এবং মাদক উৎপাদনের কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। অস্ত্রের কারখানায় দেখা যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং উপাদান আছে। তার মধ্যে লেদ মেশিন, দেশী অস্ত্র তৈরির স্প্রিং, কার্তুজের পিলেট, অস্ত্র তৈরির লোহার পাইপ, লোহা কাটার বিভিন্ন যন্ত্র, অস্ত্রের কাঠের বাট, বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ, কার্তুজের খোসা ইত্যাদিসহ অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি।
তবে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে অস্ত্র ও মাদক কারবারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সামান্য দূরে একই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি দেশি মদের কারখানারও সন্ধান পায় পুলিশ। ওই কারখানায় পূর্বে প্রস্তুতকৃত প্রায় ৮০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। স্থানীয় পানের বরজে কর্মরত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত অস্ত্র এবং মাদক কারখানার সাথে জড়িত রবিউল হোসেন প্রকাশ রবি (৩৫), মনির (৩০), মানিক ( ৩৫)। অভিযুক্তরা বহুদিন ধরে অস্ত্র এবং মাদক তৈরি এবং রীতিমতো কারখানা স্থাপন করে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করে আসছিল।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রণব চৌধুরী পূর্বদেশকে জানান, মহেশখালীর আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমরা ওই কারখানার সন্ধান পাই। চিহ্নিত অস্ত্র ও মাদককারবারীদের ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অস্ত্র ও মাদক তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অস্ত্র এবং মাদক আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।