মহাসড়ক এড়িয়ে পাহাড়ি পথই পছন্দ মাদক পাচারকারীদের

21

শহীদুল ইসলাম বাবর, সাতকানিয়া

ইয়াবা পাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ফরেস্ট রেঞ্জার কার্যালয়ের সামনে লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও একই সড়কের সাতকানিয়া উপজেলার আঁধার মার দরগা নামক স্থানে সাতকানিয়া থানা পুলিশ পৃথক চেক বসিয়ে নিয়মিত ইয়াবা উদ্ধার ও ইয়াবা কারবারীদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করছে। এতে করে ইয়াবা কারবারীদের মাঝে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে নিরাপদে ইয়াবা কারবার অব্যাহত রাখার জন্য বেছে নিয়েছে ইয়াবা পাচারের নতুন পথ। ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়া একাধিক কারবারী ও প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলিকদম এলাকা থেকে চলতি মাসের ২ তারিখে ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ ইয়াবা কারবারী মোহাম্মদ মনির (২৩) ও সাইফুল ইসলামকে (২০) র‌্যাব-৭ এর একটি অভিযানিক দল আটকের ঘটনায় মাদক কারবারীদের পাহাড়ি সড়ক ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নতুন সড়কে ইয়াবা পাচারের তথ্য প্রশাসন বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলেও ইয়াবার পাচাররোধ ও কারবারীদের আইনের আওতায় আনা বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তা। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু বলেন, আমার সার্কেলের লোহাগাড়া থানা পুলিশ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতী ফরেস্ট রেঞ্জারের কার্যালয়ের সামনে ও সাতকানিয়া থানা পুলিশ কেরানীহাটের অদূরে জনার কেওচিয়া আঁধার মার দরগার সামনে চেক পোস্ট বসিয়ে ইয়াবা উদ্ধার ও কারবারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এমনকি জনার কেওচিয়া আঁধার মার দরগার সামনে চেক পোস্টে ইয়াবার চাইতে ভয়াবহ ক্রিস্টাল মেথ বা আইস নামের ভয়ানক মাদকের বিশাল চালানও উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ইয়াবাকান্ডে জড়িত অনেককেই আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এড়াতে নিরাপদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য ভিন্ন পথ ব্যবহার শুরু করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। মাদক কারবারীরা চেক পোস্ট এড়িয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচার করছে। আমরাও পুলিশি কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছি। এখন আমরা আর নির্দিষ্ট একটি জায়গাতে চেক পোস্ট করছিনা। স্থান পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথক স্থানে চেক পোস্ট বসাবো। এছাড়াও সড়কে কাজ করা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিট যেমন- হাইওয়ে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ মিলিয়ে সমন্বয় করে আমরা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে ইয়াবা কারবারীদের রোধ করবার চেষ্টা করব। মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ইয়াবা কারবারীরা বর্তমানে চকরিয়া থেকে লামা-আলিকদম সড়ক হয়ে লামা উপজেলার কেয়াজু পাড়া সুয়ালক সড়ক ব্যবহার করে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক দিয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার স্থানীয় ইয়াবা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁেছ দেওয়ার পাশপাশি বুড়ির দোকান-মৌলভীর দোকান সড়ক হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রাম শহরসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
টঙ্কাবতি ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সড়ক দিয়ে এখন প্রতিদিন অনেক দামি ব্রান্ডের গাড়ি চলাচল করছে হরহামেশা। উঠতি যুবকরা দামি দামি মোটর বাইক নিয়ে সারাদিনই চলাচল করে থাকে। ব্রিকফিল্ড এলাকায় একটি সড়ক দিয়ে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সুয়ালক মাঝের পাড়া ও ব্রিকফিল্ডের পশ্চিমে পাহাড়ি সড়কটি দিয়ে আসলে একই সড়কের হলুদিয়া এলাকায় পৌছাঁনো যায়।
লামা-সুয়ালক সড়ক সরেজমিন পরির্দশনকালে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কটি খুবই সুন্দর। পাহাড় টিলার মধ্যখান দিয়ে বয়ে চলা সড়কটিতে কোন গর্ত নেই। নেই কোন খানাখন্দক। ফলে যানবাহন চালানো বেশ আরামদায়ক এ সড়কটি এখন মাদক কারবারীদের বেশ প্রিয়। প্রাইভেট গাড়ি যেমন- কার, জিপ ছাড়াও মোটর সাইকেল নিয়ে চলাচল করতে সড়কটি বেশ আরামদায়ক ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হওয়ার কারণেই মূলত মাদক কারবারীরা মাদক পাচারকাজে এ সড়কটিকে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।