মহারাষ্ট্রে ট্যাংকারে লিক, হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২২ রোগীর মৃত্যু

5

করোনাভাইরাস সংক্রমণে ভয়াবহ পরিস্থিতি ভারতে। দেশটির কয়েকটি রাজ্যে তীব্র অক্সিজেন সংকট শুরু হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দিল্লি ও মুম্বাইয়ের। দিল্লিতে অনেক হাসপাতালেই অক্সিজেন শেষ হওয়ার মুখে। তবে দেশজুড়ে এমন অবস্থার মধ্যেও লকডাউনের পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হাইকোর্টের ধমক ও রাজনীতিকদের বারবার আবেদনের পর রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে ভোররাতে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে তা দিয়ে এক-দুই দিনই চলবে।
মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গতরাতে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে তীব্র অক্সিজেন সংকট চলছে। গঙ্গারাম হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার মতো অক্সিজেন আছে। সেখানে ৪৮৫টি কোভিড বেড আছে। করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৭৫ জন। ১২০ জন আইসিইউতে। এরপর গভীর রাতে ও ভোরবেলায় গঙ্গারামে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে। দিল্লি সরকার হাইকোর্টেও জানিয়েছিল, রাজধানীর জন্য বরাদ্দ অক্সিজেন উত্তর প্রদেশকে দেয়া হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ সরকারও দিল্লিতে অক্সিজেন পাঠাতে দিচ্ছে না। বিচারপতি বিপিন সাংভি ও বিচারপতি রেখা পাল্লি বলেন, ‘যুক্তিহীনভাবে ওষুধ ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেয়ার মানে তো আমাদের শাস্তি দেয়া।’ কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পে অক্সিজেন ব্যবহার করা যাবে না। বিচারপতিদের প্রশ্ন, ‘২২ এপ্রিল থেকে কেন বন্ধ করা হচ্ছে? কেন তার আগে বন্ধ করা হলো না? যদি অক্সিজেন সংকট মেটানো না যায়, তা হলে দেশ অনেক বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’ ভারতের মহারা একটি হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংকারে লিংক হওয়ার ঘটনায় অন্তত ২২ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। লিক হওয়াতে সব অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে ভেন্টিলেটরে থাকা এই ২২ রোগী মারা গেছেন। বুধবার রাজ্যের নাসিক এলাকার জাকির হোসেন হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটলো এবং কেন রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, টানা ৩০ মিনিটের মতো ভেন্টিলেটরে অক্সিজেনের সরবরাহ ছিল না। ফলে ভেন্টিলেটরে থাকা সব রোগীর মৃত্যু হয়েছে। নাসিক পৌর কমিশনার কৈলাশ যাদব বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে পদক্ষেপ নেব। অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলে ট্যাংকারকে ডাকা হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে দেখা দিচ্ছে অক্সিজেন সংকট।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যে ২২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই ছিলেন ভেন্টিলেটর সার্পোটে। হাসপাতালে ভর্তি মোট ১৫০ জন রোগীই ছিলেন অক্সিজেন সহায়তা নির্ভর। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতিসহ সব বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপ। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে যে রোগীরা ছিলেন তারা মারা গেছেন। তাদের যে ট্যাংকার থেকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল সেখানে লিক হয়েছিল। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করা হবে।