মহাখালীতে বহুতল ভবনে আগুন, এক নারীর মৃত্যু

13

ঢাকা প্রতিনিধি

রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হাসনা হেনা (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। খাজা ভবনে ৯তলায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুনের আতঙ্কে একটি তার ধরে গ্রিল টপকে নিচে নামার সময় ছিঁড়ে পড়ে মারা যান হেনা।
অনেকে জানালার কাচ ভেঙে নিচে তাকিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানান। ভবনের ছাদ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রশি দিয়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধোঁয়ায় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাত পৌনে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছিল।
গতকাল বিকেলে ভবনের ১৩তলায় এ আগুনের সূত্রপাত। বিকেলে ৫টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে। অগ্নিকান্ডের পরপরই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ভবনে থাকা আন্তঃসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) অপারেটরদের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) পরিদপ্তর সূত্র জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। আগুন লাগার পর আমতলী থেকে গুলশান ১ নম্বরমুখী সড়কের দু’পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাখালী ও উত্তরা সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (গণমাধ্যম) শাহজাহান সিকদার জানান, খাজা টাওয়ারের ১৩তলায় অগ্নিকান্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত রানু ভবনের ১০তলা থেকে নামার সময় পড়ে যান। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। স্বামীর নাম আশরাফুল আলম সানি। ২৭ বছরের রানু ওই ভবনে চাকরি করতেন। মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রের কর্মী ফেরদৌসী আক্তার জানান, তাদের হাসপাতালে একজন নারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন লাগার পর উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে অনেকেই তাদের কাছে ফোন করেছেন। অগ্নিকান্ডের কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। আগুন লাগার পর অনেকে ভবনের ছাদে উঠে পড়েন। সেখান থেকে পাশের ভবনের ছাদে দড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকজন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাত প্লাটুন সদস্য অংশ নেন। আনসার বাহিনীর উপপরিচালক গণসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অগ্নিনির্বাপণের কাজে সহায়তা করতে দুই প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার ও পাঁচ প্লাটুন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।