মহসিন কলেজে ৫ টাকাতেও মিলবে স্যানিটারি ন্যাপকিন

23

‘একবার তো পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পিরিয়ড শুরু হয়। পিরিয়ড যে হবে তার কোনো প্রস্তুতিও ছিল না আমার। এমন একটা সময়ে হয়েছে যে না পারছি ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে, না পারছি সিট ছেড়ে বাইরে যেতে। সে কি বাজে আর বিব্রতকর অবস্থা, বলে বোঝানো যাবে না। তবে আজ আমাদের জন্য সত্যিই খুশির একটা দিন। আগামীতে এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের পড়তে হবে না।’— এভাবেই নিজের মনের কথাগুলো বলছিলেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা।
মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আফরোজার মতো বহু ছাত্রীর খুশির কারণ কলেজ ভবনে বসানো স্যানিটারি ন্যাপকিন। পিরিয়ডের সময় সহজে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহে ছাত্রীদের সুবিধার কথাটি মাথায় রেখে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ৪টি স্থানে বসানো হয়েছে ভেন্ডিং মেশিন। এটিএম কার্ডের মতন এক ধরনের স্মার্ট কার্ড দিয়ে পাঞ্চ করলেই শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। এসব মেশিন থেকে যে কোনো শিক্ষার্থী ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ টাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন।
বুধবার (২৯ জুন) কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে মহসিন কলেজের ৪টি স্থানে বসানো এসকল ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনের পর ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত করাতে এক হাজার স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজের বাণিজ্য ভবন, নতুন একাডেমিক ভবন, কলা ভবন ও বিজ্ঞান ভবনে বসানো হয়েছে ভেন্ডিং মেশিন। এই মেশিনগুলো ঢাকার ভার্টিকেল ইনোভেশন কোম্পানির মাধ্যমে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (সিইডিপি) আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে ওয়াশ ব্লকসহ বসানো হয়।
মালয়েশিয়ার নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবেরশনের মাধ্যমে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে মহসিন কলেজের শিক্ষকরা। তাছাড়া এসকল মেশিন পরিচালিত হবে কোম্পানির নিজস্ব সার্ভারের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা কার্ডের সাহায্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও যেসকল শিক্ষার্থীর কাছে কার্ড থাকবে না তারা বিকাশের মাধ্যমে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। যদিও এক হাজার পিস স্যানিটারি ন্যাপকিন শেষ হলেই বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করার পদ্ধতি শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও যেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতাম না, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কলেজে এতো দারুণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরাও চাই সকলের মাঝে সচেতন তৈরি হোক। আমাদের কলেজের মতো বাকি কলেজেও যেন এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’