মসজিদে ছবিযুক্ত ব্যানার ব্যবহার নামাজের ক্ষতি করে

12

 

পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থানের নাম মসজিদ। ইসলামী ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির অপরূপ নিদর্শন হলো মসজিদ। ইবাদত বান্দেগী আর মহান প্রভুর অবারিত রহমানের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয় মসজিদে। মসজিদের উসিলায় মহান আল্লাহ মহল্লাবাসীর প্রার্থনা কবুল করেন, গুনাহ ক্ষমা করেন, রিজিক বৃদ্ধি করেন। ধার্মিক মানুষ মাত্রই মসজিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হোকনা সে ভিন্নধর্মাবলম্বী। মসজিদ সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহর ঘর। যা কালামুল্লাহ শরীফ ও সুন্নাতে রাসূল (দ.) দ্বারা স্বীকৃত। মসজিদে একমাত্র মহান আল্লাহরই রাজত্ব চলে। নেতা-মন্ত্রীর কর্তৃত্ব মসজিদে নিরুত্তাপ। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করা মসজিদ কমিটির যেমন দায়িত্ব; ঠিক একইভাবে প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হলো মসজিদের মান-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা। কিন্তু আমাদের দেশের একশ্রেণির অতি-উৎসাহী রাজনৈতিককর্মীকে দেখা যায় মসজিদের মিম্বারকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানিয়ে ফেলে। প্রতিপক্ষের সমালোচনার জন্য মসজিদের মজলিসকে ব্যবহার করে। অনেক সময় দেখা যায় আল্লাহর ঘর মসজিদে মহান আল্লাহর জিকিরের চেয়ে নেতার প্রশংসাই বেশি হয়। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, শোকরানা মাহফিল, ইসালে সাওয়াব মাহফিল, দোয়া কবুলের উসিলা হিসেবে বিভিন্ন খতম শরীফ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জন্মদিনের কেক কাটার অনুষ্ঠানও মসজিদের ভেতরে। মসজিদে ইসালে সাওয়াব মাহফিলের ব্যানারে নারী-পুরুষের ছবি, দোয়া মাহফিলে ব্যানারে নেতার ছবি, জন্মদিনের প্রোগ্রামে নেতা-নেত্রীর ছবি; এসব নীতিবিবর্জিত কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে যেমন চরমভাবে হারাম; ঠিক একইভাবে সচেতন মহলের বিবেকেও ঘৃণিত। মসজিদে নারী-পুরুষের ছবিযুক্ত ব্যানার সাঁটিয়ে যেকোনো ধরনের প্রোগ্রাম অবশ্যই পরিত্যাজ্য। যেখানে ঘরে প্রাণীর ছবি রাখার ব্যাপারে শরীয়তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে, সেখানে মসজিদে ছবি সম্বলিত ব্যানার সাঁটিয়ে রাজনৈতিক দোয়া মাহফিল; চরম অধার্মিক ও গর্হিত কাজ। এ কাজ কোন নেতা-নেত্রীর সম্মান বাড়ায় না; বরং বহুলাংশে সম্মান ও জনপ্রিয়তা কমায়। মুসলিম প্রাণের সর্বোচ্চ সম্মানের স্থান মসজিদকে এ সমস্ত অপবিত্রতা থেকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিরসহ সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। মসজিদে মানুষের ছবিযুক্ত ব্যানার ব্যবহারের উপর শাস্তির বিধান রেখে কঠোর আইন জারি করার অনুরোধ জানাচ্ছি, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি।