মশক নিধনে হারবাল কীটনাশক চসিকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

26

মশার উপদ্রবে অতীষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী- এটি এখন পুরনো খবর। নতুন খবর হচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশে পাশের উপজেলায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। সিভিল সার্জন সুত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনও অর্ধশতাধিক রোগী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আগের ধারাবাহিকতায় এখনও বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে মশার উপদ্রব কমাতে ক্রাশপ্রোগ্রাম নামে ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছেড়ে ফটো সেশনই হয় কিন্তু মশার বংশ ধ্বংস হয়না। এরপর মশক ধ্বংসকারী কর্মীদের দেখা মেলা ভার। অর্থাৎ মশা মারতে সিটি কর্পোরেশন কামান দাগাচ্ছে বলে শোনা গেলেও চোখে তা দৃশ্যমান নয়। শুক্রবার দৈনিক পূর্বদেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর মশক নিধনে কীটনাশক-সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় ও বাজেট দুটোই বাড়ছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। আশার কথা হচ্ছে, মশার অপ্রতিরোধ্য আক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রস্তাবিত ও সুপারিশকৃত হারবাল কীটনাশক ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা জানি, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর মশার উপদ্রব বন্ধে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে নজর দিয়েছিলেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একদল গবেষককে হারবাল কীটনাশক ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। গবেষকদল দীর্ঘ গবেষণার পর তাদের প্রস্তাবনা ও সুপারিশ জমা দিলেও গত একবছর এ নিয়ে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি। বরং আগের সেই অকার্যকর পুরনো কীটনাশক ব্যবহার করে মশা তাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিল। এরমধ্যে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হারবাল গবেষকদের সুপারিশ বাস্তবায়নে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে জানা যায়। দৈনিক পূর্বদেশের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইতোমধ্যে হারবাল ওষুধ কেনা ও জৈবিক উপায়ে মশক নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মশার ওষুধ কেনায় সিটি করপোরেশন ব্যয় করেছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। স¤প্রতি ১৫ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ও ২ হাজার ৯শ লিটার লার্ভিসাইড কেনার প্রক্রিয়াও শেষ করেছে সিটি করপোরেশন।
আমরা জেনেছি, চবির গবেষক দলের নির্দেশিত হারবাল কীটনাশক ‘মসকুবান’ এর কার্যকারিতা যাচাইয়ে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিবেদন আসলে হারবাল কীটনাশকটি মশকের ‘হটস্পট’ গুলোতে প্রাথমিকভাবে ব্যবহার শুরু করবে সংস্থাটি। সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর কৃষ্টি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলমকে চিঠি দেয় সিটি করপোরেশন। এতে হারবাল মসকুবান ওষুধটি মশক নিধনে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব কিনা ‘উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংস’ এর ল্যাবে মশা ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা পরীক্ষান্তে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। প্রতিবেদন এখনও আসেনি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করছেন চসিক। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, স্থায়ী সমাধান চাইলে জৈবিক উপায়ে ফিরতে হবে। বিকল্প নেই। বিটিআই টেকনোলোজি আমদানি করে সহজেই মশক জন্মানো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন রাস্তার সড়কদ্বীপে নিম, পুদিনা, তুলসি গাছ লাগালেও মশার উপদ্রব অনেক কমে যায়। সিটি করপোরেশন চাইলে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার কথা জানান এ গবেষক। আমরা মনে করি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশার মারার জন্য হারবাল পদ্ধতির ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা যথার্থই ছিল, দেরি হলেও চসিক কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পেরেছে। এ পদ্ধতির সাথে নগরবাসীরও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নালা-নর্দমা, জলাশয়, খাল ও খানাখন্দকগুলো সর্বাক্ষণিক পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এ কাজগুলো অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে পড়ে। আমারা আশা করি, বর্তমান মেয়র নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে যেভাবে নগরবাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে একইভাবে মশা নিধনেও তিনি সফল হবেন-এমনটি প্রত্যাশা সকলের।