মনাম এর বৈঠকখানা

7

মনসুর নাদিম

রাজাকার বলিতে আমরা ৭১’র সেই সব বেশরম বিশ্বাসঘাতকদের বুঝিয়া থাকি, যাহারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাক হানাদারদের সহায়তা করিয়াছিল। দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করিয়াছিল। নিজ মা- বোনদেরকে সহাস্যে পাকি জওয়ানদের হাতে তুলিয়া দিয়াছিল। আসলে শব্দটা রাজাকার নয়। এটা একটা উর্দু শব্দ। ছহি শব্দ হইল- ‘’ রেজাকার’’। অর্থ স্বেচ্ছাসেবক। আমরা ইহাকে বিকৃত করিয়া কহি, রাজাকার। গোলাম আযম সাহেব একদা গোস্বা করিয়া কহিয়াছিলেন, তাহারা ( স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি) গালি টাও শুদ্ধ করিয়া দিতে পারেনা।কী করিয়া শুদ্ধ করিয়া গালি দিব বলেন দেখি । আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, আমরা বাংলাতেই কহি, বাংলাতেই লিখি। উর্দু আমাদের মাতৃভাষা নহে।তবু বলিবার কোশিশ জারি রাখি। একাত্তরে অনেকেই ভুল বাল কহিয়া বাঁচিয়াছে আবার অনেকে মরিয়াছে।কলেমা পড়িতে কহিলে হড়বড় করিয়া দোয়া ইউনুস পড়িয়া ফেলে।ইহাতে ক্ষিপ্ত হইয়া পাকি সেনা কহিয়া থাকে ইহা তো মসিবত কা দোয়া।এই বোকারা বুঝিতে পারেনা যে মসিবতের দোয়া পড়িয়াছে সে তো পাক্কা মুসলমান। কথায় কথায় পাকি সেনারা বাঙালিদেরকে চুতিয়া (নির্বোধ) কহিতে শুনিতাম।অথচ তাহারা ছিল এক নম্বরের চুতিয়া। এখন রেজাকারদের বাপের দেশ পাকিস্তান স্বয়ং কহিতেছে- বাঙালি গাদ্দার নেহি থা। শেখ মুজিবর রহমান গাদ্দার নেহি থা (বাঙালি বিশ্বাসঘাতক ছিলনা, শেখ মুজিবর রহমান বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না)। গাদ্দার হামারে লিডার লোক থা (বিশ্বাসঘাতক আমাদের নেতারাই ছিল)।পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি চ্যানেলে বঙ্গবন্ধুর প্রশংসায় বাকবাকুম বাকবাকুম করিতেছে। তাহাদের অন্যায় গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার কথাও আলোচিত হইতেছে। এই কওমটা হামেশা বাঙালিদেরকে হিংসার নজরে দেখিত। নির্বাচনে বাঙালি সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করিলেও বাঙালির হাতে শাসনভার অর্পণ না করিয়া ভুট্টো ইয়াহিয়া টিক্কা খানেরা মিলিয়া বাঙালি নিধনে কোমরে গামছা বাঁধিয়া নামিয়াছিল। আল্লাহ সবসময় মজলুমের পক্ষে থাকে। আল্লাহ অবশ্যই আমাদের পক্ষে ছিল। আজ বাংলাদেশের উন্নতি দেখিয়া পাকিস্তানিদের হুঁশ ঠিকানায় আসিয়াছে। তাহারা এখন নিজেদের অপরাধ উপলব্ধি করিতে পারিয়াছে। মাগার আফসোস ! বাঙালি কওমের সেই রেজাকারের ফর্জন্দেরা এখন সরকারের বিরোধিতা করিতে যাইয়া গোটা মুল্লুকের বিরোধিতা করিতেছে। কেহ দেশে বসিয়া করিতেছে তো কেহ বিদেশে বসিয়া করিতেছে। এখন সময় আসিয়াছে স্বাধীনতা পরবর্তী রেজাকারদের তালিকা করা। ইহা কহিতেই সকিনারবাপ কহিলেন, বিলকুল দুরস্ত কহিয়াছেন। যাহারা বাংলাদেশের পক্ষে ছিলনা তাহাদের আওলাদ-ফর্জন্দেরা সংঘবদ্ধ হইয়া অপপ্রচার প্রোপাগান্ডা চালাইতেছে। তাহাদের উৎসাহিত করিতেছে সেই সমস্ত মুল্লুক গুলি যাহারা বাংলাদেশ চায়নি। মাগার আল্লাহ চাহে তো তাহাদের চাওয়া-না চাওয়া কিছুই আসে যায়না। আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে বাংলাদেশের পাঁচশত টাকা পাকিস্তানের এক হাজার রুপি বলিয়া জানিতে পারিলাম। ইহা কী আমাদের বড় প্রাপ্তি নয় ? আমরা লড়াই করিয়া পরাজিত করিয়াছি পাকিস্তানিদেরকে। এখন অর্থনীতিতেও আমরা এগিয়ে। তাই শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাহারা রাজনীতি করিতেছে তাহাদের বয়কট করা আমাদের সচেতন দেশপ্রেমিকদের জন্য ফরজ বলিয়া সকিনার বাপ মনে করিয়া থাকেন। যে সমস্ত সাংবাদিক/ বুদ্ধিজীবী অল্পতে বিক্রি হইয়া গিয়াছে তাহাদের তামাম প্রচারণা বন্ধ করা/ বয়কট করা সময়ের দাবি বলিয়া মনে করেন মাষ্টার সাহেব। রাজশাহী হইতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি আসিয়াছে শুনিয়া সারাদেশ ক্ষোভে উত্তাল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা শাখার আহŸায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে এই হুমকির অভিযোগ উঠিয়াছে। সকিনার বাপ নড়িয়া চড়িয়া বসিয়া কহিলেন, ইহা তাহাদের মুখের নয় শুধু অন্তরের কথাও বটে। বার বার তাহারা আক্রমন করিয়াছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। রাখে আল্লাহ মারে কে ? পনের আগস্টে আল্লাহ পাক দুই বোনকে রক্ষা করিয়াছেন। ইহার পর কোটালি পাড়ার ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হইতে রক্ষা করিলেন। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা হইতে হেফাজত করিয়াছেন। তাই রাখে আল্লাহ মারে কে ? যাহারা হত্যার রাজনীতি করিয়া থাকে তাহাদের বোঝা উচিৎ আল্লাহ্র রহমত না থাকিলে তাহারা কামিয়াব হইত। মাগার আল্লাহ বড়ই মেহেরবান। রাজনীতিতে বার বার ফেল মারায় ক্ষুদ্ধ হইয়া জীবন বিনাশে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছে এই রেজাকারের দল।ইহারাই রেজাকার। শুধু একাত্তরে রেজাকার ছিল এখন রেজাকার নাই, ইহা ভুল। রেজাকার মানেই স্বেচ্ছাসেবক। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশে-বিদেশে বসিয়া রেজাকারী কর্মকাÐ চালাইয়া যাইতেছে। তাই এই রেজাকারদেরকে এখনই চিহ্নিত করা জরুরি। যতদিন বাংলার জমিনে এই রেজাকার থাকিবে, ততদিন যাহারা রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা আনিয়াছেন তাহাদের আত্মার শান্তি হবেনা। এই স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝেও গোল রহিয়াছে। একাত্তরের রেজাকারেরা অল্প বেতন আর কিছু সুযোগ সুবিধাতেই দেশের বিরুদ্ধে কাজ করিয়াছে। আর এখনকার রেজাকারেরা মোটা অংকের টাকা ও নানান সুযোগ সুবিধা পাইয়া থাকে।
বাংলাদেশি নাস্তিকদের ব্যাপারে একটু কহিতে চাই। তাহারা নাস্তিকদের সংজ্ঞা বদলাইয়া দিয়াছে। নাস্তিক বলিতেই আমরা বুঝি ধর্ম ও ঈশ্বরে যাহাদের আস্তা নাই। ঠিক আছে না থাকিতে পারে। ইহাতে কাহারও আপত্তি নাই। প্রত্যেক মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আপনি খোদাকে মানিবেন না, ধর্মীয় অনুশাসন মানিবেন না, মাগার একটি বিশেষ ধর্মকে টার্গেট করিয়া সেই ধর্মের প্রবর্তককে লইয়া নানান সুরতের অশালীন মন্তব্য যাহার কোন ভিত্তি নাই। ফুটপাত হইতে কিনিয়া বাংলা বই পড়িয়া আপনি ইসলামের কথা কহিবেন, কিংবা ভিন ধর্মী ভিন্ন মতের লেখকদের বই পড়িয়া একটি ধর্মের সমালোচনা করিতে পারেন না। মনে রাখিতে হইবে, এখন পঞ্চাশ বছর আগের ধ্যান ধারণা লইয়া ধর্মের কথা বলা যাইবেনা। এখন ইসলামে উচ্চ শিক্ষিত আলেম, ইসলামী স্কলার, বক্তা আছেন যাহাদেরকে অবমূল্যায়ন করিবার কোন সুযোগ নাই। আপনি যদি শুধুমাত্র একটি ধর্মকে লইয়া সমালোচনা করেন, তাহাদের নবীর চরিত্র হনন করেন তাহা হইলে আপনি নাস্তিক নন বরং ইসলাম বিদ্বেষী। আর আপনি ইসলাম বিদ্বেষী হইলে ইসলামের সমালোচনা করিতে পড়া-শোনা করিতে হইবে। ইসলামকে বুঝিতে হইবে, জানিতে হইবে। ইহারও আগে আপনি আপনার পরিচয়ে পরিষ্কার করুন আপনি নাস্তিক নাকি জ্ঞানের অভাবে ইসলাম বিদ্বেষী ? কারণ নাস্তিক হইলে আপনি কোন ধর্মই না মানার কথা, ঈশ্বর না মানার কথা। এবং আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনি আপনার নাস্তিক্যবাদকে প্রতিষ্ঠিত করিতে কোশিশ জারি রাখিবেন। ইহা না করিয়া আপনি শুধুমাত্র মুসলমানদের নবী (সাঃ) কে মিথ্যা অপবাদ দিতেছেন ইহা কী সুস্থ মস্তিষ্কের কাÐ বলিয়া মানা যায় ? ইহা হইলে বুঝিতে হইবে, আপনি জ্ঞান দ্বারা যুক্তি দ্বারা ইসলামকে হারাইতে না পারিয়া ক্ষুব্ধ হইয়া অপপ্রচার সহ নানান সুরতের প্রলাপ বকিতেছেন। আপনি নাস্তিক নন। নাস্তিক হইলে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মকে কেন টার্গেট করা হয়। আপনি মুসলিম নাম ধারন করিয়া অর্থের বিনিময়ে ইসলাম বিরোধীদের গোলামী করিতেছেন যা খুবই ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক। নাস্তিকদের লজ্জা শরম থাকিলেও আপনাদের মতো ইসলাম বিদ্বেষী বেচা মালের ইজ্জৎ বলিতে নাই। আপনাদের বুকে বল থাকিলে বড় কোন আলেমের সহিত ডিবেট করুন। তাহা হইলে বোঝা যাইবে কত ধানে কত চাল। এমন এমন লোকদের সহিত অন লাইনে আসেন বেচারা বিলকুল আনকোরা। অথবা ইসলামে বিশেষজ্ঞ নহে। বিশ্বে তো আরও ধর্ম আছে। সেগুলি লইয়া কোন আলোচনা নাই, ইহা কী কাহারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয় ? বিদেশে বসিয়া যে কেহ নিজেকে তিসমার খান ভাবিতে পারে। বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া বড়ই কঠিন। তাই এই ছুরতের নাস্তিক যাহারা তাহারা নাস্তিকদের নাক কাটিয়া দিয়াছে। অনেকে দেখা যায় ইহা লইয়া ফখর করিয়া থাকে। মাগার তাহারা জানেনা ইহাতে ফখরের কিছু নাই। ইহারা আদৌ নাস্তিক নয়। ইহারা ইসলাম বিদ্বেষী।

লেখক : সাংবাদিক, রম্যলেখক