মধুপুর যেন দেশের একখণ্ড সবুজের উদ্যান!

11

মিয়া জামশেদ উদ্দীন

মধুপুর যতদূর হোক না কেন যাবোই, এমনি একটি বাসনা পেয়ে বসে। সাহস ও মনোবলের কমতি নেই; তবে অকপটে স্বীকার করতে হয় বন্ধুবর সুদীপ্তর কথা। আরেক বড়ভাই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পিএসও) মো. সামসুল আলমের আমন্ত্রণে দৌড়ঝাঁপ দেয়া। তবে ঢাকা যাওয়া-আসাতে একধরনের অস্বস্তিকর স্বভাব পেয়ে বসে; একবারে লোকাল সার্ভিস সৌখিন পরিবহনের মতো গাড়িতে করে যাওয়া! এসব গাড়ি চলে ধীরস্থির আস্তে-আস্তে। টাকাও সাশ্রয় হয়। অবশ্য এসব লোকাল পরিবহনে ঢাকা যাওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো, এসি বা চেয়ারকোচ যেভাবে দ্রæত ঢাকা গিয়ে পৌঁছে, ঠিক ওইসময় না পাওয়া যায় হোটেল খোলা কিংবা না থাকে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় উঠার পরিবেশ।
সৌখিন পরিবহনের গাড়ি ভোর-সকালে সাইদাবাদ নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে পল্টন জাতীয় প্রেসক্লাবের লবিতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া। তারপর সকালের নাস্তা সেরে প্রস্তুত হওয়া গন্তব্যে। তবে পূর্ব থেকে ঢাকা যাওয়ার সিডিউল ঠিকঠাক ছিল, কখন কোথায় যাবো, সময়ক্ষণও ঠিক করা ছিল। বাস্তবে, তা আর হয়ে ওঠেনি। একটু এদিক-সেদিক কাটছাট করতে হয়। মাঝখানে পুরনো কর্মস্থল এক দৈনিক পত্রিকা অফিসে ঢুঁ-মারা হল। অনেকটা বিকেল ৩টায় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সামসুভাইয়ের সাথে দেখা। যদিওবা ওনার সাথে সকালে দেখা করতে চেয়েছি। এরপর একটি প্রকাশনা সংস্থার অফিসে। সন্ধ্যায় দেখা হলো ধানমন্ডিতে সুদীপ্তর সাথে। মধ্যেখানে আরো কয়েক ঘণ্টা হাতে থেকে যায়; চোখেমুখে তন্দ্রা-তন্দ্রা ভাব। চলছিল (২৯ মে ২০২২ইং) এক কানাডিয়ান প্রবাসি শিল্পী টুকু’র একক চিত্র প্রর্দশনী। ধানমন্ডি-৪ শিল্পী সফিউদ্দিন গ্যালারীতে। শিল্পী সুলতানা মরিয়ম টুকু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ৩০তম ব্যাচের ছাত্রী। বন্ধু সুদীপ্তের বদৌলতে দেখার সুযোগ হয়। চিত্রকর্ম নিয়ে শিল্পীর সাথে কথা হয়। দীর্ঘ সময়ের প্রবাস জীবনের চাপ ফুটে ওঠেছে তাঁর শিল্পকমের্, যেন যান্ত্রিক জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের প্রতিচ্ছবি। গ্যালেরির তৃতীয় তলায় অপর এক শিল্পীর চিত্রকর্মও প্রর্দশনী হয়।
যে উদ্দেশ্য ঢাকা যাওয়া হয়। ২৩ মার্চ ২০২২ইং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘটু গ্রামে আদিবাসী দুই সাঁওতাল কৃষক অভিনাথ নারানডি ও তার চাচাতোভাই মারানডি বিষপানে আত্মহত্যা করে। কৃষি জমিতে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহননের পথ বেঁচে নেন তাঁরা। এরপর থেকে নিজের মধ্যে কেমন একটা দায়বোধ কাজ করছিল। আদিবাসী সাঁওতালদের আত্মত্যাগ পরাধীন ভারতবাসীকে উজ্জীবিত করে। সাঁওতাল সহোদর সিঁধু ও কানু জীবন দিয়ে লড়েছেন ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে। নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষায় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ-যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ওই বীর সহোদরসহ অসংখ্য সাঁওতাল বেনিয়াদের হাতে প্রাণ হারান। অবশ্য রাজশাহীতে আর যাওয়া সম্ভব হলো না, আরেক আদিবাসী পল্লি মধুপুর তো ঘুরে আসা যায়?
টাঙ্গাইলের মধুপুর নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে কিংবদন্তী রয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) দুর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি মধুপুরের গভীর অরণ্যে মুক্তিগেরিলাদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। এ বীর যোদ্ধার একক নেতৃত্বে ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ঢাকা আক্রমনের প্রস্তুতিও নেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষক নজির আহমেদ প্রিন্সিপালের মেজছেলে আহমেদ মুজতাহিদ জানালেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) লেখিত ‘স্বাধীনতা-৭১’ গ্রন্থে বিশদভাবে উল্লেখ আছে। সাহেক এ সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ১৯৮৫ সালের দিকে মধুপুরগড় দেখতে যান। সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে ওই সবুজ উদ্যান দেখতে ছুটে যান। হৃদয় ছুঁয়ে যায় সবুজ-শ্যামল এ অরণ্যভূমি। এখনো পূর্ণিমারাতে চাঁদ দেখার মনোরম দৃশ্যও ক্ষণে ক্ষণে শিহরন হয়।
সুদীপ্ত তাঁর ল্যাÐরোভার নিয়ে বনের বুক ছিঁড়ে ছুটলেন। আমাদের সাথে আছেন ‘জয়ন শাহী আদিবাসী পরিষদ’-এর সভাপতি ইউজিন নকরেক। যাত্রা শুরু হয় জলচত্বর বাজার থেকে। বাজারটিতে রয়েছে জয়ন শাহী আদিবাসী পরিষদের প্রধান কার্যালয়। বাজারটিতে নিয়মিত আদিবাসীদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট বসে। আদিবাসীদের উন্নয়ন সংস্থার নাম ‘জয়ন শাহী’ শুনে কিছুটা বিচলিত বোধ করি; প্রসঙ্গত ইউজিন নকরেক বললেন, ভারতবর্ষে মোগল শাসনকালে ১৫৩০খ্রি. পারস্য-ইয়েমেন থেকে এক মুসলিম অলিয়ে কামেলের হযরত পীর জয়েন শাহ্ (রা.) আগমন। তাঁর নামানুসারে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থাটির নাম রাখা হয়।
এ বনভূমির উত্তরে টাঙ্গইল-ময়মনসিংহ। আমরা প্রবেশ করি তেলকি হয়ে গাংরা। প্রথমে বুঝতে পারিনি মধুপুরের ভৌগোলিক অবস্থা। ধারণা ছিল পাহাড়-টিলাবেষ্টিত বনাঞ্চল। না। অনেকটা সমতলভূমি থেকে কয়েকফুট ওপরে এক খÐ সবুজ উদ্যান। মাত্র ১২ কি. মি. এ বনভূমি। আয়তন ৪০হাজার। তারমধ্যে ২০ হাজার ৮৩৭ একর ফরেস্ট রিজার্ভ বনভূমি। মৌজা অরণখোলা, আলোকদিয়া, পীরগাছা, আউশনারা, ফুলবাগতলা, গোলাবাড়ি, মির্জাবাড়ি, শোলকড়িসহ ২১টি মৌজা রয়েছে। যার অতিকায় হলদে রঙের বেলেমাটি, যেন সবুজ চাদরে ব্যষ্টিত।
এ সবুজ বনভূমিতে ২৫ হাজার আদিবাসীর বাস। বিশেষ করে গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ দিক থেকে ৯৯ শতাংশ গারো সম্প্রদায়। তারা ক্যাথলিক ও পটেক্টর খ্রিস্টান। এর মধ্যে কোচ সম্প্রদায় এক শতাংশে এসে ঠেকেছে। কোচ সম্প্রদায়করা মুলত সনাতন। তাদের আদি নিবাস তিব্বতী-বর্মী, ভারতের আসাম, মেঘালয় ও বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের একটি জনপদ।
গারোদের প্রাচীন ধর্ম ‘সাংসারেক’। আদি নিবাস ভারতের মেঘালয় আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া, কারবি আংলং জেলাসহ বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর, সিলেট, শেরপুর, গাজীপুর, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, মৌলবীবাজার ও ময়মসিংহ জেলাসহ খÐ-খÐ অবস্থান রয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরে গারোরা স্ব-ধর্ম সাংসারেক ত্যাগ করে দলে দলে খ্রীস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। ৫০ দশকের অর্থাৎ পাকআমলে গারোরা অত্যধিক ধর্মান্তরিত হয়। স্বল্পসময়ে মধুপুরে খ্রিস্টধর্মের প্রসার ঘটে। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভাজন ও দফায় দফায় সম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামায় ভীত-তটস্থ ছিল আদিবাসীরা।
ধর্মযাজক ফাদার লরেন্স জানান, ইতালী-রোম থেকে খ্রিস্টধর্মের আচার-কৃষ্টি পরিচালিত হয়। মধুপুরে প্রায় সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান মিশনারি অর্থায়নে পরিচালিত হয়। তবে সরকারি প্রস্তাবনা ও অনুদানে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। মধুপুরে শিক্ষার হার ৮০-৯০ শতাংশ।
পীরগাছা ও জলচত্বরে রয়েছে দুটি গির্জা। গারোদের সব পাড়াগায়ে প্রার্থনালয়, ছোট ছোট গির্জা রয়েছে। মধুপুরবনাঞ্চলে মুসলমানদের বসবাসও লক্ষণীয়। উপজেলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অবস্থান। বলা যায়, সকল ধর্মের সহমর্মিতা-ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। সম্ভবত যাঁরা দুর থেকে ছুটে যান বা দর্শনার্থীরাই এসব জাতপাতের ভেদাভেদ সৃষ্টি করে; এক্ষেত্রে আরো সচেতন ও উদার হওয়া উচিত দর্শনার্থীদের।
অর্থনৈতিকভাবে আদিবাসীদের জীবনযাত্রার ধরণে কিছুটা পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর হয়। তাদের আবাসস্থল ছিল মাটির ও শনের চাউনি। এখন টিন, ইট-বালির আধাপাকা ও হালকা হালকা দালান-কোটাও দেখা যায়। বনের খাচে-খাচে তাদের এ আবাস। গারোরা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। বেশীভাগ গারোদের গায়ের রং তামাটে-ফর্সা। চাপা চাপা চেহারা। ধনুকের মতো কিঞ্চিত বাঁকও। নারীদের এমনি মাতৃত্ব লক্ষণীয়। নারীদের এ বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে ওরা যোদ্ধাজাতি। তীর-ধনুকের সঠিক নিশানা। প্রয়োজনে স্তন ছেদ করতে দ্বিধাবোধ করে না! তারা মনে করে, মাতৃত্বের ওই স্বরূপ তীর-ধনুক চালানো কিংবা সঠিক নিশানাকে বিঘœ ঘটায়। সম্ভবত আদিবাসী নারীরা নিজস্ব নিয়মে তা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
মধুপুর বনাঞ্চলে খ্যাতি ছিল শালবনের। একেকটা আকাশ ছোঁয়া প্রকান্ড-প্রকান্ড গাছ। পুরো বনজুড়েও এখন দেখামেলা ভার। গাংরা হয়ে দোখলা যেতে দু’ধারে দৃশ্যপটে এমন চিহ্ন মিলে। ১৯৯০ সালের দিকে সামাজিক বনায়নের নামে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্লট বরাদ্ধ দেয়া হয়। এতে আরো বিপত্তি হয়। বনায়নে যেসকল প্রজাতির চারা রোপন করা হয় তা দ্রæত-বর্ধনশীল হলেও বনজ গাছগাছালি, পশুপাখি ও পরিবেশ সহনশীল নয়। এসব সামাজিক বনায়নে দেশীয় ফলন হয়না বললেই চলে। গড়ের বাগানে মধু, হলুদ, আদা, আনারস, পাঁচমুখো কচু, পেঁপে, লেবু, আম, কাঁঠাল, লেচু, কলাবাগান হয়ে আসছে। এটি আদিবাসীদের রুটিরুজির একমাত্র পথ। ওটিও অনেকটা রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। অবশ্য এর মধ্যে নতুন করে করা ৫টি রাবার বাগানের আবাদ করা হয়। যদিওবা অর্থনীতিতে রাবার বাগান উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখলেও সাধারণ আদিবাসীদের তেমন একটা সহতায় আসেনি। এসব কারণে ক্ষুব্ধ আদিবাসীরা। তাঁরা বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ২০০৪ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইকোপার্ক ঘোষণা করে বনায়ন করতে গেলে, আদিবাসীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আদিবাসী এক যুবক পীরেন নাল প্রাণ হারান। অবশ্য এরপর ইকোপার্ক থেকে সরে আসে বনবিভাগ। আদিবাসীরা জানিয়েছে, ৮৭-৮৮সালের দিকে বন উজার হয় অত্যাধিক বেশী। রাতের আঁধারে প্রশাসনের সহায়তায় ট্রাকে ট্রাকে গাছ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
২০২১ সালের দিকে দোখলা ও লহরিয়া ফরেস্ট বিট এলাকায় বনবিভাগ একটি কৃত্রিম লেক করতে গেলে আদিবাসীরা বাঁধা দেয়। অবশ্য ওই লেকের ৩০-৪০গজ অদুরে বঙ্গবন্ধুর একটি মুরাল নির্মাণের কাজ চলছে। স্মৃতিবিজড়িত স্থানটিতে বঙ্গবন্ধু নাকি একবার এসেছিলেন। ওইস্থানে দু’ তলা একটি রেস্ট হাউজও নির্মাণ করা হয়।
সর্বশেষ বনবিভাগের হরিণ প্রজনন কেন্দ্র ও ওয়াকিং-লুকিং টাওয়ার দেখা। ওই লুকিং টাওয়ারে ওঠতে গিয়ে কম্পায়মান হাঁটু ও দুরু-দুরু করে ওঠে বুকে। এরপর চোখ জুড়ানো সবুজের মিতালীর হাতছানি, যেন দেশের একখÐ সবুজ উদ্যান।
ফাদার লরেন্সের আতিথেয়তা ভুলার নয়। হালকা হালকা ঝিমকরা পানিয়। ষোলআনা তৃপ্তির ঢেঁকুর। লেমন ও ফাইনআপেলের সুগন্ধি মৌ-মৌ করছিল। ফেরার পথে দেখা মিলে আচিকবিচিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলেখা মুরাং এর সাথে। সোসাইটির অপর সদস্যসহ জানালেন, আদিবাসী নারী নির্যাতন রোধে তারা কাজ করে যাচ্ছে। পথে ক্ষাণিকটা বিশ্রাম ও চা বিরতি হয় ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসাইনের আমন্ত্রণে। দেশের অন্যতম পরিপাঠি উপজেলার মধ্যে একটি এটি। অতঃপর ভালোবাসার ধনবাড়ী চত্বরে আবারো ছবি সেশনে মিলিত হওয়া।
যেন যাওয়া-আসার দীর্ঘ ক্লান্তি। অনেকটা বিনা খবরে আমাদের যানের স্ট্যার্ট বন্ধ হয়ে গেল। ফেরার তাড়া ছিল রাত ১২টার মধ্যে, সময়মতো ঢাকা ফিরতে না পারায় আর ফেরা হলো না। শেষতক ৩ কি. মি. দূর থেকে মিস্ত্রি খোঁজে আনা। পাইলট-কর্তা সুদীপ্ত গুপ্ত রায় জানালো, এমনতো কখনো হয়নি, কি করে তেল-গ্যাস লাইন ছিন্ন হয়ে পড়ে। একটু নেড়েছেড়ে আবারও গতি ফিরে এলো। যাক বাবা, বিলম্ব হলেও পরানে পানি এলো। রাত তখন ২টা। নিজেকে কেমন অপরাধী-অপরাধী মনে হচ্ছিল। ঢাকার বাসাবাড়িতে পরপর দু’রাত; এমন উপদ্রব সহার মতো নয়! রীতিমত ম্যাডাম অরুণদ্যুতি রাণীর দম ফেলার ফুসরত নেই; এমন ব্যস্ততায় ডুডু মামণিকে স্কুলে যাওয়া-আসার সেকি উৎকণ্ঠা। সর্বশেষ শ্রদ্ধেয়া তাহেরা বেগম জলি খালার হাত থেকে দীর্ঘ প্রসববেদনার দায় ‘৭৩ এর সংসদ ও একজন আবদুল্লাহ্ সরকার’ গ্রন্থটি হাতে পাওয়ার অনিন্দম আনন্দ ভুলার নয়।

লেখক : কলামিস্ট