মডেল মসজিদ-শতভাগ বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে

38

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষ (এনেক্স ভবন) এ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ, সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী’সহ পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, মেঘের রাজ্য সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দঘন করতে পরিষদের আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে তাহলে জেলা পরিষদ তাদের পাশে থাকবে। তিনি রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অন্যান্যদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি প্রতিটি উন্নয়ন সভায় উপস্থিত থেকে এ জেলার শান্তি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে সুপরামর্শ ও মতামত প্রদানের জন্য সকলকে আহব্বাণ জানান।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন আলম বলেন, বর্তমানে রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এখানকার রাস্তার ধরণ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে সড়ক বাতি ও নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড লাগানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য রাঙামাটিতে নব নিয়োগকৃত চিকিৎসকরা যাতে এখানে থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে; এবিষয়ে নজর রাখার জন্য তিনি সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এ জেলার ৬টি উপজেলা নদীপথে হওয়ায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের পরামর্শ প্রদান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, দেশের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে সম্পাদনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তাই এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে যে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে বাধাগ্রস্ত হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করার পরামর্শ দেন।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনিসুল হক বলেন, লংগদু ও রাজস্থলী উপজেলার ফায়ার স্টেশনের কাজ চলমান রয়েছে। যে সমস্ত উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ করার কথা রয়েছে সেগুলো শীঘ্রই করা হবে। তিনি বলেন, আগামি জানুয়ারি মাসেই ২৫০ বেডের জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী এ আর মুজিব বলেন, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর ও লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৩/১১ কেভি লাইন সঞ্চালনের কাজ চলছে। এখনো যেসব স্থানে ৩৩/১১ কেভি লাইন সচল হয়নি সেখানে কাজ করা হবে।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব চৌধুরী বলেন, ভূমিধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত কাপ্তাই-আসামবস্তী ১৮ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট প্রশস্ত করে সংস্কার কাজ শীঘ্রই করা হবে। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ কাজে কিছু সন্ত্রাসী বাধা দিচ্ছে। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের আওতায় রাঙামাটিতে ১১টি মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি মসজিদ নির্মাণ কাজ চলছে। বাকী ৩টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে
এছাড়া উত্তর, দক্ষিণ বন বিভাগ, জুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা জানান, মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে সারাদেশে কয়েক কোটি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। প্রতি উপজেলায় ২০,৩২৫টি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্যে বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।