ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হচ্ছে মাংস ডিম দুধ

23

 

করোনা সংকটে মানুষের প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণে দৈনিক ৪০ হাজার পিস ডিম ও ৪০ টন দুধ বিক্রি করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। কৃষকদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে এ প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উপাদানগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়াও গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি ও খাসির মাংসও বিক্রি করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ এই ট্রাকে। মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। করোনাকালীন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই কার্যক্রম ভোক্তা পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে প্রতিদিন দশটি ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের এ ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রম। প্রতিটি ট্রাকে কমপক্ষে চার হাজার পিস ডিম, চার টন দুধ থাকে। সে হিসাবে চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিদিন কমপক্ষে চল্লিশ হাজার পিস ডিম ও চল্লিশ টন দুধ বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়াও চাহিদা ও সরবরাহের অনুপাতে গরুর মাংস, খাসির মাংস ও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ এ কার্যক্রমে চাহিদা সম্পন্ন এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, চট্টগ্রামে দশটি গাড়িতে করে ভ্রাম্যমাণ দুধ, মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি গাড়িতে কমপক্ষে চার টন দুধ, চার হাজার পিস ডিম থাকে। তাছাড়া গরুর মাংস, খাসির মাংস ও ব্রয়লার মুরগি থাকে। কৃষকদের মাধ্যমে এই গাড়িগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজার মূল্য থেকে কম মূল্যে ভোক্তারা গাড়ি থেকে পণ্যগুলো কিনতে পারেন। করোনাকালীন এ সময়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ কার্যক্রম অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্ধারিত কোন স্পট নেই। বিভিন্ন জায়গাতেই বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে চাহিদা আছে সেখানে বিক্রি হচ্ছে। ডিম আর দুধ নিয়মিত থাকলেও মাংস, মুরগি যখন থাকে তখন বিক্রি হয়। চাহিদা বুঝে গরু ও খাসি জবাই করে তারপর সেটা বিক্রি করা হয়।
করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের বিধিনিষেধ ঘোষণা আসার পর ১৩ এপ্রিল থেকে ভ্রাম্যমাণ মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দফতরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সরাসরি কৃষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম। সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্যের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে চট্টগ্রামেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে একদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিরা যেমন ন্যায্যমূল্যে উৎপাদিত পণ্য সহজে বিপণন করতে পারছেন, তেমনি ভোক্তারা চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য সহজে ক্রয় করতে পারছেন।
করোনা পরিস্থিতিতেও হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, মাছের পোনা, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, প্রাণিজাত পণ্য, মৎস্য ও পশু খাদ্যসহ এ ধরনের খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা উপকরণ, কৃত্রিম প্রজনন এবং পশু চিকিৎসার ঔষধ-সরঞ্জামাদি পরিবহণ ও সরবরাহ এবং বিপণন অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে করে প্রাণিজ আমিষের এ খাতে কোন ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়নি। বরং উৎপাদিত প্রাণিজ আমিষগুলো যথাযত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমে প্রতিলিটার দুধ ৬০ টাকা, প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা, প্রতিটি ডিম ৬ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১১৬ টাকা এবং প্রতিকেজি খাসির মাংস ৭৫০/৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অবশ্য দুধ ও ডিম পর্যাপ্ত থাকলেও চাহিদা ও সরবরাহের অনুপাতে অন্যান্য আইটেমগুলো যুক্ত থাকে।