ভ্যাকসিন সাফল্যে নতুন দিগন্ত

25

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

করোনার বৈশ্বিক ক্রান্তিকাল অতিক্রমে ধরিত্রীর ক্ষুদ্র আয়তনের বিপুল জনঅধ্যুষিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও সামগ্রিকভাবে সমরূপ ক্ষত-বিক্ষত। ¯্রষ্টার অপার কৃপায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার কর্তৃক গৃহীত স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা উদ্যোগ এবং সমান্তরালভাবে অর্থনীতিকে সচল রাখার নির্ভীক পদক্ষেপ গ্রহণ ছিল যুগান্তকারী। প্রজ্ঞা-মেধা-বিচক্ষণতার অনবদ্য রসায়নে নানামুখি উৎপাদনশীল কর্মযজ্ঞ অধিকাংশ ক্ষেত্রে করোনা জয়ে অসাধারণ অবদান রেখে চলছে। বিগত অক্টোবর মাসে করোনা দ্বিতীয় তরঙ্গের ভয়াবহতার আগাম উপলব্ধিতে চলমান প্রক্রিয়াকে অধিকতর সক্রিয় করার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ যোগানের প্রয়োজনীয়তায় সরকারি ব্যয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহŸান ছিল অত্যন্ত যুগোপযোগী। অসহায় ও দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত দেশবাসীকে চিকিৎসা সেবা এবং প্রণোদনা সহযোগিতায় জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম সম্পর্কে জোরালো সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রæতিতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় করোনা সংক্রমণ উত্তরণে ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও প্রয়োগে যথাযথ কূটনৈতিক এবং বাণিজ্য নির্ভর উদ্ভাবনী পন্থা অবলম্বন করে সরকার অর্জন করেছে অভূতপূর্ব সাফল্য।
আমাদের জানা যে, ভ্যাকসিন কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অতিশয় ক্ষুদ্র অণুজীব করোনা ভাইরাসের চেয়েও নেতিবাচক অপপ্রচার ছিল অধিকতর ভয়ংকর। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এবং ভারতের সেরাম উৎপাদিত এই টিকা সম্পর্কে বিরূপ অপরাজনীতি, অসংলগ্ন প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের অনর্থক বিস্তার ঘটিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা অব্যাহত ছিল। জনগণকে টিকা নিতে অনুৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে টিকা সংগ্রহে সরকারের নিবিড় প্রচেষ্টা এক ধরণের অভিশপ্ত রাজনীতির রোষানলে পড়েছিল। বাংলাদেশকে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে অকৃত্রিম বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিমেয় সাহায্য সহযোগিতার মতো ভারত সরকার ও ভারতের জনগণ স্মরণযোগ্য নতুন অধ্যায় নির্মাণ করেছে। করোনা মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে থাকা বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ টিকা বিনামূল্যে উপহার এবং প্রায় ৫০ লাখ ডোজ রপ্তানিতে নতুন করে ভারত সরকার বাংলাদেশকে করেছে নবতর ঋণবন্ধনে আবদ্ধ।
টিকা প্রদানের বিষয়টি কৃতজ্ঞচিত্তে অনুধাবন না করে গতানুগতিক পুরানো হীন কায়দায় ভারত বিরোধী বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও কম হয়নি। বিশ্বব্যাপী এই টিকার গুরুত্ব ও চাহিদাকে মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির কলুষিত চর্চাকে অতিমাত্রায় দৃশ্যমান করা হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের অন্যতম অভিভাবক বরেণ্য সাংবাদিক শ্রদ্ধাভাজন আব্দুল গাফফার চৌধুরীর এই সংক্রান্ত বৈরী প্রচারণা-বিশ্লেষণ অতীব প্রণিধানযোগ্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এসব শিশুসুলভ রাজনীতির কুকীর্তি ছিল ঘৃণ্য পরিকল্পিত ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপকৌশল মাত্র। যেহেতু ভ্যাকসিন ছিল ভারতে উৎপাদিত সে সুবাদে অন্ধকারের অশুভ শক্তি ছদ্মবেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ-পদবী-পদক দখলে নিয়ে বর্ণচোরা-অনুপ্রবেশকারীদের কদাচার-পাপাচার আতাঁতে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের কূটচাল তৈরিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনা টিকা সত্যিকার অর্থে করোনা প্রতিরোধে কার্যকর কিনা, উচ্চমূল্যে বিক্রি করে ভারত কর্তৃক মুনাফা অর্জন, টেন্ডারবিহীন বেসরকারি কোম্পানীকে ভারত থেকে টিকা ক্রয়ের অনুমোদন, ভেজাল-কালোবাজারি-দুর্নীতি ইত্যাদি অমূলক প্রশ্ন-গুজব-অপপ্রচার কোনভাবেই ধোপে টিকেনি। পক্ষান্তরে অপরূপ আশার সঞ্চার হয়েছে যে, এই টিকাদান কর্মসূচির সার্থকতা করোনা মোকাবেলায় নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং দেশবাসী করোনা জয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বে অত্যুজ্জ্বল করবে।
সকল সন্দেহ-সংশয়ের অবসানে ২৭ জানুয়ারি জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের টিকা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ঐ দিন ২১ জন এবং পরদিন ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও বিএসএমইউসহ রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪৬ জনকে পর্যবেক্ষণমূলক টিকা দেওয়া হয়। তখনো পর্যন্ত টিকার ব্যাপারে মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পরিপূর্ণ অনাগ্রহকে অসাড় প্রমাণিত করে ৭ ফেব্রæয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হলে পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক এমআইএস ও লাইন ডিরেক্টর এইচআইএস অ্যান্ড ই-হেলথ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২৪ ফেব্রæয়ারি বিকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট টিকা গ্রহীতার সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮ জন যাদের মধ্যে পুরুষ ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৩২ জন এবং নারী ৯ লাখ ২৬ হাজার ৯০৬ জন। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগে টিকাগ্রহণ করেন যথাক্রমে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৯, ৫ লাখ ৯৭ হাজার ২২৭, ৩ লাখ ২২ হাজার ২৯১, ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২, ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬২, ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৪৮, ১ লাখ ২৯ হাজার ৫ এবং ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৪ জন।
উল্লেখ্য যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড যৌথভাবে টিকা গ্রহীতার আগ্রহ সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে এক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর প্রতিবেদনে দেখা যায় বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ জনগণ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা গ্রহণে একান্তভাবে আগ্রহী। করোনার তথ্য নিয়ে গবেষাণাকারী প্রতিষ্ঠান ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’ সমীক্ষা অনুসারে জনসংখ্যা অনুপাতে ১৮ ফেব্রæয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ৭৯.৪৮ শতাংশ মানুষ টিকা গ্রহণ করে বিশ্বশীর্ষ অবস্থানে ছিল ইসরায়েল। ৫৩.৪৩ শতাংশ মানুষ টিকা গ্রহীতার হারে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল দ্বিতীয় ও ০.৯৬ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ছিল ১১ তম অবস্থানে। উক্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৩ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইসরায়েল, ব্রাজিল, তুরস্ক, আরব আমিরাত এবং জার্মানিতে টিকা গ্রহণ করেছেন যথাক্রমে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ. প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার, প্রায় ৭৬ লাখ ৮০ হাজার, ৭৩ লাখ, ৭২ লাখ ৯০ হাজার, ৫৬ লাখ ৭০ হাজার এবং ৫৩ লাখ ৭০ হাজার জন। ২২ ফেব্রæয়ারি ২০২১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ও পোলেন্ডে টিকা গ্রহণ করেছেন যথাক্রমে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার, ৩৮ লাখ ৪০ হাজার, ৩১ লাখ ৭০ হাজার, এবং ২৭ লাখ ৬০ হাজার জন।
কর্ণাশ্রিত অপসংস্কৃতিকে পরিহার করে জীবন রক্ষার স্বার্থে টিকা গ্রহণে স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে তুলনামূলক কম শিক্ষিত-সচেতন মানুষের বাংলাদেশ অগ্রগণ্য দেশে অবতীর্ণ হল। অপরিমেয় বুদ্ধিমত্তায় প্রণীত টিকা প্রদানের রোডম্যাপ পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রথম চালানে আসা ৫০ লাখ করোনা টিকা ৫০ লাখ মানুষকে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। ১৮ বছরের নিচে এবং অন্তঃসত্ত¡া নারীসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি জনগোষ্ঠীকে টিকা গ্রহীতার আওতাভুক্ত না করে চলতি বছরেই বাকি সমগ্র জনগোষ্ঠীকে টিকা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রথম দফায় ৮.৬৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী বা ১ কোটি ৫০ লাখ টিকা গ্রহীতার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে করোনা প্রতিরোধের সম্মুখ যোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য কর্মী ও পর্যায়ক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সামরিক বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, গণমাধ্যম কর্মী এবং জনপ্রতিনিধি।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সাল গণমাধ্যম সূত্রে যায় যায়, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম সার্বিক দৃশ্যমান করার উদ্দেশ্যে বাজারে আসার আগেই ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ৩ কোটি ডোজ কিনে রেখেছিল সরকার। দেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশের জন্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোট ‘কোভ্যাক্স’ থেকে আরও ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ এর সঙ্গে ভারত সরকারের উপহার ২০ লাখ ডোজসহ মোট ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে সরকার। মূলত কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস সমন্বিত একটি বিশেষ সংস্থা। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের সকল মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহীতার আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি সুস্পষ্ট করা। এই উদ্যোগ থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন বিতরণের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায় জুনের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ১ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাবে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য এর পরিমাণ পাঁচ গুনেরও বেশি হবে।
বিজ্ঞজনের মতে, বিশ্বের অনেক দেশ এখনো এত পরিমাণ ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে না পারলেও বাংলাদেশ সরকার এইক্ষেত্রে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। ভারতের সাথে চুক্তির ৩ কোটি ডোজের ভ্যাকসিনের প্রথম চালানে আসে ৫০ লাখ এবং উপহারের ২০ লাখ ডোজ। ২২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতেই দ্বিতীয় চালানের ২০ লাখ ডোজ দেশে এসে পৌঁছেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেকটুকু এগিয়ে আছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা কঠিন মনে হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা অতিদ্রæত এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ ভ্যাকসিন নিচ্ছেন এবং ২৪ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ আগ্রহী গ্রহীতা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ‘সুরক্ষা’ নামক ভ্যাকসিন কার্যক্রমে নিবন্ধনের ওয়েব প্ল্যাটফর্ম; ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে গেছে তা সহজেই অনুমেয়।
উৎসবমুখর আনন্দঘন পরিবেশে ভ্যাকসিন গ্রহণে দেশবাসীকে নতুন মাত্রিকতায় উদ্বুদ্ধ করার যে বিরল নজির স্থাপিত হয়েছে; এর গতিশীল চলমানতায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার বীর বাঙালিরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুরো দেশকে করোনা প্রতিরোধে নতুন বিজয় পতাকা উড্ডীন করবেই। এই প্রত্যাশায় আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পুরোধা কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শঙ্খচীল’ কবিতার পংক্তি উচ্চারণে নিবন্ধের ইতি টানছি- ‘আমাদের দেখা হোক মহামারী শেষে,/ আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে।/ আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে,/ আমাদের দেখা হোক সবুজ সকালে।/ আমাদের দেখা হোক কান্নার ওপারে,/ আমাদের দেখা হোক সুখের শহরে।/ আমাদের দেখা হোক হাতের তালুতে,/ আমাদের দেখা হোক ভোরের আলোতে।/ আমাদের দেখা হোক বিজ্ঞান জিতলে,/ আমাদের দেখা হোক মৃত্যু হেরে গেলে।/ আমাদের দেখা হোক আগের মত করে।/ আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে…।’

লেখক : শিক্ষাবিদ, সমাজ-অপরাধবিজ্ঞানী
সাবেক উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়